Logo

২৯৮ কারখানার সাথে সম্পর্ক ছিন্ন/স্থগিত করেছে অ্যাকর্ড-অ্যালায়েন্স

RMG Times
সোমবার, ফেব্রুয়ারি ১২, ২০১৮
  • শেয়ার করুন

ডেস্ক রিপোর্ট : নির্ধারিত সময়ের মধ্যে কারেকটিভ অ্যাকশন প্ল্যান বা ক্যাপ পূরণে ব্যর্থ হওয়ায় গত চার বছরে অনেকগুলো পোশাক কারখানার সাথে ব্যবসায়িক সম্পর্ক ছিন্ন অথবা স্থগিত করেছে পোশাক খাতের মূল্যায়নকারী দুটি ক্রেতাজোট প্রতিষ্ঠান অ্যাকর্ড ও অ্যালায়েন্স।  চলতি মাসের ৮ তারিখ পর্যন্ত গত প্রায় চার বছরে এমন কারখানার সংখ্যা মোট ২৯৮টি। ইউরোপ ও উত্তর আমেরিকার ক্রেতা ও শ্রমিক অধিকার-সংশ্লিষ্ট সংস্থার জোট অ্যাকর্ড ও অ্যালায়েন্স সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।

দেশের পোশাক খাতে কারখানাগুলোর নিরাপত্তা মানদণ্ড উন্নয়নে কাজ করছে অ্যাকর্ড ও অ্যালায়েন্স। জোট দুটি তাদের পরিদর্শনে শনাক্ত হওয়া ত্রুটি সংস্কারে পিছিয়ে থাকা পোশাক সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর সঙ্গে ব্যবসায়িক সম্পর্ক ছিন্ন করছে। সম্পর্ক ছিন্ন হওয়া এসব কারখানাকে টার্মিনেটেড সাপ্লায়ার হিসেবে চিহ্নিত করছে ইউরোপভিত্তিক ক্রেতাজোট অ্যাকর্ড অন ফায়ার অ্যান্ড বিল্ডিং সেফটি ইন বাংলাদেশ। অন্যদিকে একই ধরনের কারখানাকে সাসপেন্ডেড ফ্যাক্টরি হিসেবে অভিহিত করছে উত্তর আমেরিকাভিত্তিক অ্যালায়েন্স ফর বাংলাদেশ ওয়ার্কার্স সেফটি। ২০১৪ সালের জুন থেকে চলতি মাসের ৮ তারিখ পর্যন্ত দুই জোটের টার্মিনেটেড-সাসপেন্ডেড কারখানার সংখ্যা মোট ২৯৮টি।

সূত্রমতে, শ্রমিকদের স্বার্থে কারখানার নিরাপত্তা পদক্ষেপ গ্রহণে ব্যর্থতা, ত্রুটিযুক্ত কারখানা খালি করায় অনীহা, অনৈতিক কর্মকাণ্ড, সংস্কারের প্রমাণ দিতে ব্যর্থতা, মূল্যায়নে অসহযোগিতা, কারখানা নকশার ঘাটতিসহ নানা কারণে ২৯৮টি কারখানার সঙ্গে সম্পর্ক ছিন্ন করার ঘোষণা দিয়েছে অ্যালায়েন্স ও অ্যাকর্ড। বেশির ভাগ ক্ষেত্রেই দায়ী করা হয়েছে কারখানার নিরাপত্তা পদক্ষেপ গ্রহণের ব্যর্থতাকে। ফলে এসব কারখানার সঙ্গে লেনদেনে না জড়ানোর জন্য সংশ্লিষ্ট দুই শতাধিক ক্রেতার প্রতি সুপারিশ জানিয়েছে জোট দুটি। তবে ত্রুটি সংশোধনসাপেক্ষে অ্যালায়েন্স-অ্যাকর্ডের সঙ্গে আবার সম্পর্ক স্থাপনের সুযোগ রয়েছে কারখানাগুলোর। সেক্ষেত্রে নিজ খরচে মূল্যায়ন কার্যক্রম এগিয়ে নিতে হবে কারখানা কর্তৃপক্ষকেই।

বর্তমানে অ্যালায়েন্সের আওতাভুক্ত মোট কারখানার সংখ্যা ৬৬০। এসব কারখানায় প্রায় ১৩ লাখ শ্রমিক কর্মরত। অন্যদিকে অ্যাকর্ডের আওতায় রয়েছে রয়েছে ১ হাজার ৬২১টি কারখানা। এগুলোয় কাজ করছে ২১ লাখ ২৮ হাজার ৬২৬ শ্রমিক। অ্যালায়েন্সের সম্পর্ক ছেদের তালিকায় কারখানা রয়েছে ১৬৫টি। এর মধ্যে সাতটিতে পুনরায় সংস্কার কাজ শুরু হলেও তা এখনো সাসপেন্ডেড হিসেবেই চিহ্নিত। অন্যদিকে অ্যাকর্ডের টার্মিনেটেড তালিকাভুক্ত কারখানার সংখ্যা ১৩৩টি। এসবের মধ্যে বৃহৎ, ক্ষুদ্র ও মাঝারি— তিন ধরনের কারখানাই রয়েছে। আছে ব্যবসায়ী সংগঠনের নেতাদের মালিকানাধীন কারখানাও।