নিজস্ব প্রতিনিধি: দেশের পোশাক শিল্পে কর্মরত উচ্চ পদস্থ কর্মকর্তাগণ তাদের ক্ষমতাবলে নিজ পরিবার থেকে সদস্যদেরকে কারখানার টপ লেভেলে চাকরি প্রদান করেন, ফলে যোগ্যতা সম্পন্ন ব্যক্তিরা বেকারত্বের অভিশাপে নিষ্পেষিত হয়। গতকাল শনিবার রাজধানীর গুলশানের একটি অভিজাত হোটেলে সেন্টার ফর পলিসি ডায়লগ (সিপিডি) এর তৈরি পোশাক শিল্প নিয়ে প্রকাশিত এক জরিপ প্রতিবেদনে বলা হয়, দেশের পোশাক শিল্পখাতে চলছে পরিবারতন্ত্রের দাপট। এ খাতটির পরিচালনায় শতকরা ৮৯ শতাংশই পরিবারতন্ত্রের দখলে বলে জানিয়েছে গবেষণা প্রতিষ্ঠান সিপিডি। সংস্থাটি বলছে, প্রতিষ্ঠানগুলোর পরিচালনা বোর্ডের অধিকাংশই একই পরিবারের সদস্য।
এ সময় সিপিডির চেয়ারম্যান রেহমান সোবহান, সিপিডির রিসার্চ ফেলো ড. দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য, সাবেক শ্রম সচিব মিকাইল শিপার, বিজিএমইএ সভাপতি সিদ্দিকুর রহমান, বিকেএমইএ’র সহ-সভাপতি ফজলে শামীম, শ্রমিক নেতা বাবুল আকতার, সামসুন নাহার উপস্থিত ছিলেন। এতে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন সিপিডির পরিচালক ড. খন্দকার গোলাম মোয়াজ্জেম। ১৯৩টি কারখানার ২ হাজার ২৭০ জন শ্রমিকের ওপর জরিপ চালিয়ে প্রতিবেদনটি প্রকাশ করা হয়।

প্রতিবেদনে বলা হয়, ২০১২ থেকে ২০১৬ সাল পর্যন্ত চার বছরে পোশাকখাতে কর্মসংস্থানের প্রবৃদ্ধি হয়েছে ৩ দশমিক ৩ শতাংশ। বিপরীতে ২০০৫ থেকে ২০১২ পর্যন্ত প্রবৃদ্ধি ছিল ৪ দশমিক শূন্য ১ শতাংশ। সে হিসেবে চার বছরে কর্মসংস্থানের প্রবৃদ্ধির হার কমেছে দশমিক ৭১ শতাংশ। সার্বিকভাবে তৈরি পোশাক খাতে নারী শ্রমিকের সংখ্যাও কমেছে বলে উল্লেখ করা হয় ওই প্রতিবেদনে।
এতে আরও বলা হয়, পোশাকখাতে পুরুষ ও নারীর মজুরির ক্ষেত্রে গড়ে তিন শতাংশ বেতন বৈষম্য রয়েছে। এখানে পুরুষদের গড় বেতন ৭ হাজার ২৭০ টাকা, অপরদিকে নারীদের গড় বেতন ৭ হাজার ৫৮ টাকা। সিপিডির মতে, দেশে তৈরি পোশাকশিল্পের ১৬ ভাগ কারখানায় বিদেশী শ্রমিকরা উচ্চ পদে-উচ্চ বেতনে কাজ করছেন। এদের মধ্যে প্রোডাকশন প্লানিংয়ে ৩৭ দশমিক ৩ শতাংশ, মার্চেন্টডাইজিংয়ে ২০ দশমিক ১ শতাংশ এবং কোয়ালিটি এ্যাসুয়ারেন্সে ১১ দশমিক ৯ শতাংশ এবং ওয়াশিং সেক্টরে ৮ দশমিক ২ শতাংশ বিদেশী শ্রমিক কাজ করছে।
রেহমান সোবহান বলেন, পোশাক শিল্পের এই সম্ভাবনাকে আমাদের কাজে লাগাতে হবে। এ খাতে শ্রমিক ও শ্রমিক সংগঠনের মধ্যে ঐক্য না থাকায় তারা তাদের দাবি দাওয়ার বিষয়ে জোরালভাবে তুলে ধরতে পারছে না। পোশাক শিল্পে ৭০টির বেশি সংগঠন রয়েছে। এগুলোর মধ্যে বিভক্তি থাকায় ন্যায্য দাবি আদায় হচ্ছে না। পোশাকখাতের সম্ভাবনা কাজে লাগাতে এ খাতের আন্তর্জাতিক ক্রেতাদের ডেকে সম্মেলনের প্রয়োজনীয়তার কথা উল্লেখ করে রেহমান সোবহান আরও বলেন, এতে করে তারা বাংলাদেশের পোশাকখাতে আরও বেশি বিনিয়োগে উৎসাহিত হবে।
পোশাক খাতে বিদেশি কর্মকর্তা ও শ্রমিকদের উচ্চপদে কাজ প্রসঙ্গে, শ্রমিক নেতা বাবুল আকতার বলেন, বাংলাদেশের পোশাকশিল্পে ভারত ও শ্রীলঙ্কার অনেক শ্রমিক কাজ করছে। তারা অনেক টাকা এই দেশ থেকে নিয়ে যাচ্ছে। এটা কৌশলে বিদেশে টাকা পাচার করার শামিল।
মতামত লিখুন :