Logo

প্রাতিষ্ঠানিক স্বার্থ ও একজন কর্মীর দায়িত্ব

RMG Times
মঙ্গলবার, এপ্রিল ১১, ২০২৩
  • শেয়ার করুন

 


তৌহিদুল ইসলাম চঞ্চল:
প্রাতিষ্ঠানিক স্বার্থ যে কোন প্রতিষ্ঠানের জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। এ সম্পর্কে সহজভাবে বলা যায় যে, কোম্পানির পণ্য, পণ্যের ক্রেতা, প্রক্রিয়া বা পরিষেবাসমূহ যেগুলি নিয়ে কোম্পানির কর্মচারীবৃন্দ তার চাকরির মেয়াদকালে কাজ করে বা কাজের মধ্য দিয়ে সেই বিষয়গুলি সম্পর্কে গোপনীয় তথ্য জানতে পারে।

আমরা যারা দেশীয় বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে কাজ করি হয়তো এ বিষয়ে খুব গুরুত্ব দিইনা বা দেয়ার প্রয়োজন বোধ করিনা কারন বেশীরভাগ ক্ষেত্রেই অধিকাংশ কোম্পানীর এ জাতীয় নির্দিষ্ট পলিসি থাকেনা। বিক্ষিপ্তভাবে কিছু নিয়ম কানুন লক্ষ্য করা যায় তা কেবলমাত্র কাগজে কলমেই সীমাবদ্ধ থাকে। যেমন ধরি প্রাতিষ্ঠানিক নিরাপত্তার বিষয়ে বিভিন্ন নিরীক্ষার চাহিদাকে পরিপূরণ করার জন্য আমরা হয়তো ডাটা সংরক্ষন পলিসির মতো অন্যান্য পলিসি তৈরি করি যা বেশীরভাগ ক্ষেত্রে কাগজে কলমে সীমাবদ্ধ।

অপরদিকে আমরা যদি বহুজাতিক বা আন্তর্জাতিক কোম্পানীগুলির কার্যক্রম পর্যবেক্ষণ করি সেক্ষেত্রে প্রাতিষ্ঠানিক স্বার্থ রক্ষায় তারা কতোটা গুরুত্ব দেয় তা আমরা অনুধাবন করতে পারবো।

আমাদের মনে রাখতে হবে যে ব্যক্তিস্বার্থ আর প্রাতিষ্ঠানিক স্বার্থের মধ্যে বিস্তর ফারাক রয়েছে। যেক্ষেত্রে ব্যক্তিস্বার্থ প্রাধান্য পায় সেক্ষেত্রে একটি বড় বিপত্তি ঘটে যাকে এক কথায় স্বার্থের দ্বন্দ্ব হিসাবে আক্ষায়িত করা যায়।

কিছু কিছু ক্ষেত্রে পরিলক্ষিত হয় যে, কর্মীরা বুঝে কিংবা না বুঝেও এমন কিছু কাজ করে ফেলে যা সরাসরি কোম্পানীর স্বার্থের জন্য হুমকিস্বরূপ। এই পরিস্থিতিতে ব্যক্তিগত এবং পেশাগত উভয় ক্ষেত্রেই আনুগত্য থাকা জরুরী। নচেৎ আমরা যেমন না জেনে অনেক পাপ করি সে ধরনের একটি অপরাধে আমরা জড়িয়ে পড়তে পারি, আমাদের চাকুরীর অবসান ঘটাতে পারে কিংবা আইনি জটিলতায় ফেলতে পারে। এই উভয় স্বার্থকে ব্যাল্যান্স করে চলা অতন্ত জরুরী। কোন কোন ক্ষেত্রে ব্যক্তি স্বার্থকে কম প্রাধান্য দিয়ে হলেও পেশাগত স্বার্থের দায়িত্বগুলি খুব গুরুত্ব সহকারে পালন করতে হয়।

প্রাতিষ্ঠানিক স্বার্থ সংশ্লিষ্ট কিছু উদাহরন দিচ্ছি,

  • কোম্পানীর গোপনীয় তথ্য জেনে বা না জেনে কোম্পানীর বাইরের কোন ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানকে জানানো।
  • ক্লায়েন্টের কোন তথ্য অথবা গোপনীয় বিষয় প্রকাশ করা।
  • কোম্পানী কিংবা ক্লায়েন্টের কোন সম্পদ অপব্যবহার কিংবা ব্যক্তিগতকাজে ব্যবহার করা।
  • কোম্পানীর কোন দলিল দস্তাবেজকে কোনভাবে বিকৃত করা।
  • কোম্পানীর দেয়া ফোন অথবা অন্যান্য যোগাযোগের মাধ্যম যেমন ইমেইল নিজের ব্যক্তিগতকাজে ব্যবহার করা।
  • কোম্পানীর দেয়া ইন্টারনেট সেবার অপব্যবহার।
  • কোম্পানীর কোন কপিরাইট কনটেন্ট বিনা অনুমতিতে অন্যকে দেয়া।
  • কোম্পানীর কোন সম্পত্তির ক্ষতিসাধন করা।
  • কোম্পানীতে কর্মরত অবস্থায় বিনা অনুমতিতে একই ধরনের কিংবা ভিন্ন কোন কাজে নিজেকে নিয়োজিত রাখা।
  • কোম্পানীর কোন ক্লায়েন্ট এর সাথে কোন ব্যক্তিগত ব্যবসায় নিজেকে জড়ানো।
  • ক্লায়েন্টের সাথে কোন ব্যক্তিগত সম্পর্ক স্থাপনের চেষ্টা যা কোম্পানীর স্বার্থকে সরাসরি ক্ষতিগ্রস্ত করে।
  • একজন ক্লায়েন্টকে নিজের কিংবা নিজের কোন আত্মীয়ের মালিকানাধীন কোম্পানিতে বিনিয়োগ করার পরামর্শ দেয়া।
  • যোগ্য কিংবা অযোগ্য কোন আত্মীয়কে কোম্পানীতে বিনা অনুমতিতে নিয়োগ দেয়া কিংবা ব্যবসার সুযোগ করে দেয়া।

উপরোল্লিখিত উদাহরনগুলি ছাড়াও আরও অনেক উদাহরন রয়েছে কিন্তু যে বিষয়গুলি উল্লেখ করা হল সেগুলি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

আমাদের মনে রাখতে হবে যে আমরা যে কোম্পানীর সাথে কাজ করছি তার স্বার্থ রক্ষার গুরু দায়িত্ব রয়েছে। একটি ছোট ভুল আমাদেরকে অনেক বড় সমস্যায় ফেলতে পারে। সুতরাং এই ধরনের স্পর্শকাতর বিষয়গুলিতে আমাদের অত্যন্ত সতর্ক থাকা জরুরী।