Logo

৫০ বিলিয়ন ডলার রপ্তানির লক্ষ্যমাত্রা পূরণে উচ্চমূল্যের পোশাক তৈরির তাগিদ

RMG Times
বুধবার, জুলাই ১১, ২০১৮
  • শেয়ার করুন

ডেস্ক রিপোর্ট: ২০২১ সালে পোশাক খাতের বার্ষিক রপ্তানি ৫০ বিলিয়ন ডলার অর্জন নিয়ে সন্দিহান অর্থনীতিবিদরা। তাদের মতে, এতবড় রপ্তানির লক্ষ্যমাত্রা পূরণে এখনই উচ্চমূল্যের পণ্য তৈরিতে জোর দিতে হবে। বিশ্ব বাজারে টেকসই অবস্থান নিশ্চিত করতে উদ্যোক্তাদের সস্তা পোশাক তৈরির মানসিকতা থেকে বেরিয়ে আসতে হবে। পোশাক শিল্প মালিকরা বলছেন, রপ্তানি লক্ষ্যমাত্রা পূরণ কঠিন হলেও হাল ছাড়েননি তারা। উচ্চমূল্যের পোশাক তৈরিতে এরইমধ্যে করেছেন বড় অংকের বিনিয়োগ ।

গত কয়েক দশকে বিশ্ববাজারের জন্য টি শার্ট, ট্রাউজার, পোলো শার্ট আর শীতের পোশাকের অন্যতম উৎপাদনকারী দেশে পরিণত হয়েছে বাংলাদেশ। সস্তা শ্রম আর তুলনামূলক কমদামের পোশাকে ভর করে এতদূর এসেছে পোশাক খাত। কিন্তু আন্তর্জাতিক বাজারের ৪০ শতাংশ উচ্চ মান ও মূল্যের পোশাকের দখলে। তাই শুধু পোশাকের সংখ্যায় নয় টাকার অংকে রপ্তানির পরিমাণ বাড়াতে উন্নতমানের পণ্য উৎপাদনে জোর দেন অর্থনীতিবিদরা।

অর্থনীতিবিদ ড. গোলাম মোয়াজ্জেম বলেন, ‘সম্ভাবত ২০২১ সালের মধ্যে আমরা পোশাক খাতে বার্ষিক রপ্তানি ৫০ বিলিয়ন অর্জন করতে পারছি না। এধরণের একটা উচ্চ লক্ষ্যমাত্রা অর্জনের জন্যর আমাদের কৌশলগতভাবে চেষ্টা করা উচিত, ধীরে ধীরে মধ্যমমানের ও উচ্চমূলের পণ্যের পরিমাণ বাড়ানো।’

পোশাকের বাজারে ভিয়েতনাম, চীন, কম্বোডিয়ার সাথে তীব্র প্রতিযোগিতায় রয়েছে বাংলাদেশ। তাই বৈচিত্র্যময় পোশাক তৈরিতে উন্নত প্রযুক্তি নির্ভর কারখানা গড়ে তোলার পরামর্শ বিদেশী ক্রেতাদের

আন্তর্জাতিক বাজারে পোশাক রপ্তানিতে শীর্ষে থাকা চিনের রপ্তানির পরিমাণ বাংলাদেশের তুলনায় প্রায় ৫ গুণ। যাদের হাতে রয়েছে উচ্চমূল্যের পোশাকের বাজারের বড় অংশ। দেরিতে হলেও বাংলাদেশে নতুন প্রজন্মের বড় বড় পোশাক কারখানায় এমন পোশাক তৈরি শুরু হয়েছে। এদেশী ব্লেজার, দামি জিন্স ও শার্টের মত পোশাকগুলো ক্রেতাদের কাছে কদরও পাচ্ছে বলে জানান এই ব্যবসায়ী নেতা ।

বিজিএমইএ’র সিনিয়র সহসভাপতি ফারুক হাসান বলেন, ‘৫০ বিলিয়ন ডলার অনেক চ্যালেঞ্জিং। কিন্তু আমরা এখনও চেষ্টা করে যাচ্ছি। গেলো কয়েক বছর বেশ কিছু বিনিয়োগ করেছি। নতুন মার্কেট দখল করছি এবং ট্রেক্সটাইল গার্মেন্টেসে নতুন পণ্য তৈরি করতে যাচ্ছি’।

সাধারণত একটি পোশাকের মূল্য ৬০ ডলারের বেশি হলে তাকে উচ্চমূল্যের পোশাক হিসেবে ধরা হয়। বিজিএমইএর তথ্যমতে, বর্তমানে দেশের মোট পোশাক রপ্তানির মধ্যে এমন পণ্য ১০ শতাংশের কম।