Logo

‘রানা প্লাজার ট্রাস্ট ফান্ডে ক্ষতিপূরণের টাকা পড়ে আছে, এখন আর নিতে আসে না কেউ‘-বিজিএমইএ সভাপতি

RMG Times
রবিবার, এপ্রিল ২২, ২০১৮
  • শেয়ার করুন

ডেস্ক রিপোর্ট: গতকাল শনিবার (২১ এপ্রিল) রাজধানীর কাওরানবাজারে বিজিএমইএ ভবনে রানা প্লাজা দুর্ঘটনার পাঁচ বছর উপলক্ষে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তৈরি পোশাক মালিকদের সংগঠন বিজিএমইএ’র সভাপতি সিদ্দিকুর রহমান বলেন বলেন ‘দুর্ঘটনার পাঁচবছর অতিক্রম হওয়ায় এখন আর কোনও শ্রমিকের পাওনা বুঝে নিতে বাকি নেই। তাই নতুন করে আর কারও আসার সম্ভাবনা নেই। তিনি উল্লেখ করেন, ‘রানা প্লাজার দুর্ঘটনায় শ্রমিকদের ক্ষতিপূরণ বাবদ মোট ২৮০ কোটি টাকা দেওয়া হয়েছে। এখনও রানা প্লাজার ট্রাস্ট ফান্ডে ক্ষতিপূরণের টাকা পড়ে আছে। তবে সে টাকা নিতে এখন আর কেউ আসে না।’

সিদ্দিকুর রহমান বলেন, ‘রানা প্লাজা দুর্ঘটনায় শ্রমিকদের জন্য বিজিএমইএ’র পক্ষ থেকে ১৫ কোটি টাকা খরচ করা হয়েছে। বিজিএমইএ-এর পক্ষ থেকে দুই কোটি টাকা প্রধানমন্ত্রীর ত্রাণ তহবিলে দেওয়া হয়েছে। এছাড়া, প্রধানমন্ত্রী নিজে ২৫ কোটি টাকা সবাইকে দিয়েছেন। অন্যদিকে, ২৮০ কোটি টাকা নিয়ে বিভিন্ন ব্রান্ড ও আইএলও’র তত্ত্বাবধানে রানা প্লাজা ট্রাস্ট ফান্ড গঠন করে সেখান থেকে বিতরণ করা হয়েছে।’

পোশাক শ্রমিকদের জন্য গঠিত কল্যাণ তহবিল সম্পর্কে তিনি বলেন, ‘এই তহবিলের আওতায় ইতোমধ্যে ৮০ কোটি টাকা জমা হয়েছে। এ টাকার অর্ধেক শ্রমিকদের বীমা বাবদ ব্যয় হবে। বাকি ৪০ কোটি টাকা শ্রমিকদের কল্যাণে ব্যয় হবে। এখানে কর্মরত অবস্থায় কোনও শ্রমিক মারা গেলে দুই লাখ টাকা এবং দুর্ঘটনায় মারা গেলে আরও তিন লাখ টাকাসহ মোট পাঁচ লাখ টাকা পাবেন’।

এছাড়াও স্বচ্ছতা ও নিরাপত্তার দিক থেকে বাংলাদেশের পোশাকশিল্প এখন বিশ্বের রোল মডেল বলে উল্লেখ করেন সিদ্দিকুর। তিনি বলেন, ‘সারাবিশ্ব আমাদের তৈরি পোশাক খাতের প্রশংসা করছে। বর্তমানে বিশ্বের লিড সার্টিফায়েড ১০টি কারখানার মধ্যে সাতটি কারখানার অবস্থান বাংলাদেশে অবস্থিত। এছাড়াও ইউনাইটেড স্টেটস গ্রিণ বিল্ডিং কাউন্সিল থেকে বাংলাদেশের ৬৭টি কারখানা লিড সনদ পেয়েছে। এর মধ্যে ১৩টি রয়েছে প্লাটিনাম কারখানা। শুধু তাই নয়, বর্তমানে বাংলাদেশের পোশাক খাতে প্রায় শতভাগ নিরাপদ কর্মপরিবেশ নিশ্চিত করা হয়েছে’।

তিনি বলেন, ‘বর্তমানে আমরা এখন আর শার্ট প্যান্ট তৈরির মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই। আমরা বিভিন্ন প্রকারের পোশাক উৎপাদন করছি। গত চার বছর আগে আমাদের গ্যাস বিদ্যুৎ সমস্যা অনেকটা কেটে গেছে। ফলে আগামী পাঁচ বছরে এই খাতে আরও  এককোটি লোকের কর্মসংস্থানের সুযোগ রয়েছে।’