নিজস্ব প্রতিবেদক: গত ১৬ই মে ২০১৯, বৃহস্পতিবার ইউনিফর্ম টেক্সটাইল লিঃ এর অংশগ্রহণকারী কমিটির (পিসি) নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। গত ১১ই এপ্রিল ২০১৯ নির্বাচন কমিশন গঠনের মাধ্যমে এই নির্বাচনের যাত্রা শুরু হয়, কারখানার মানব সম্পদ ও কমপ্লায়েন্স ব্যবস্থাপক এম. মাহবুব আলম এর নেতৃত্বে পাঁচ সদস্য বিশিষ্ট একটি নির্বাচন কমিশন গঠিত হয়, যেখানে শ্রমিকদের মধ্যে থেকে তিন জন ও মালিক পক্ষের প্রতিনিধি হিসেবে দুই জন দায়িত্ব পালন করেন এবং অবাধ, সুষ্ঠ ও নিরপেক্ষ এবং উৎসবমুখর পরিবেশে এই নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়।
৫ই মে প্রতীক বরাদ্দের তারিখ থেকে উৎসব মুখর পরিবেশে প্রচার প্রচারণা শেষে ১৬ই মে নির্বাচনের দিন ১৮ জন প্রার্থীর অংশগ্রহণে এই নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয় এবং ৮৫৪ জন ভোটারের মধ্যে ৮১১ জন ভোট প্রদান করেন যা মোট ভোটের ৯৪.৯৬%।
নির্বাচনে পর্যবেক্ষক হিসেবে শ্রম অধিদপ্তরের প্রতিনিধি ও বেশকিছু ক্রেতা প্রতিনিধি নির্বাচন পর্যবেক্ষণ করেন।

নির্বাচন উপলক্ষ্যে ভোটারদের মধ্যে ব্যাপক উৎসাহ উদ্দীপনা লক্ষ্য করা যায়। বেশকিছু ভোটারের সাথে কথা বললে তারা জানান, শ্রম আইন অনুযায়ী আমাদের সুযোগসুবিধা যথাযথ ভাবে পাওয়া, অভাব অভিযোগ কর্তৃপক্ষের কাছে যথাযথভাবে তুলে ধরা এবং কারখানার উৎপাদন ও পোশাকের মান উন্নয়নে এই নির্বাচিত কমিটি গতিশীল ভূমিকা পালন করবে বলে আমরা মনে করি।
প্রার্থীদের সাথে কথা বলে জানা যায়, তারাও আশাবাদী এই নির্বাচিত কমিটি কার্যকর ভূমিকা পালন করবে শ্রমিকদের উন্নয়ন ও কারখানা সুচারুরূপে পরিচালনায়।
এ প্রসঙ্গে কথা হয় কারখানার পরিচালক জনাব আলহাজ্ব মোঃ গিয়াস উদ্দিনের সাথে। তিনি বলেন, শুধু শ্রম আইন অনুযায়ী আমরা এই নির্বাচন করছি এমনটা নয়, আমরা মনে করি সম্পূর্ণ গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায়ই শ্রমিকদের মধ্যে থেকে শ্রমিক প্রতিনিধি বাছাই করা উচিৎ। সুষ্ঠ, অবাধ ও নিরপেক্ষ নির্বাচন করার জন্য নির্বাচন পরিচালনা কমিটিকে তিনি ধন্যবাদ জানান।

সকাল ১০.০০ টা থেকে বিকাল ৩.০০ টা পর্যন্ত এই ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হয়। ভোট গ্রহণ শেষে বিকাল ৩.৩০ মিনিটে গণনা শুরু হয়, গণনা শেষে ১৮ জন প্রার্থীর মধ্যে ৯ জন প্রার্থীকে অধিক সংখ্যক ভোট পাওয়া সাপেক্ষে নির্বাচিত ঘোষণা করা হয়।
নির্বাচন প্রসঙ্গে নির্বাচন পরিচালনা কমিটির আহবায়ক এবং কারখানার মানব সম্পদ ও কমপ্লায়েন্স ব্যবস্থাপক জনাব এম. মাহবুব আলম বলেন, সম্পূর্ণ অবাধ ও নিরপেক্ষ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছে এবং আগের ঘোষণা অনুযায়ী সর্বোচ্চ ভোট পাওয়া প্রার্থী মিস. আঁখিকে সহ-সভাপতি হিসেবে ঘোষণা করা হয়। এটাও একটা গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া যে আমরা সহ-সভাপতিও শ্রমিকদের সরাসরি ভোটেই নির্বাচিত করেছি।
তিনি আরো বলেন, নির্বাচনের আরেকটি উল্লেখযোগ্য দিক হচ্ছে এই নির্বাচনে আমরা প্রতীক হিসেবে সকল সেইফটি সরঞ্জমাদি যেমন – ফায়ার এক্সটিংগুইসার, ফায়ার এলার্ম, এক্সিট বক্স, স্মোক ডিটেক্টর, ফায়ার এলার্ম সুইচ, ফায়ার হোজ বক্স, লক কাটার, গামবুট, ফায়ার বাকেট, ফায়ার গ্লাভস, নিড্ল গার্ড, এয়ার প্লাগ, আই সেইফটি গ্লাস, কাটিং গ্লাভস, ফার্স্ট এইড বক্স, মাস্ক, ফায়ার ব্লাংকেট প্রভৃতি ব্যবহার করেছি যাতে শ্রমিকদের মধ্যে এই নিরাপত্তা সামগ্রীর পরিচিতি আরো বাড়ে।
পরিশেষে তিনি নির্বাচনে সর্বাত্মক সহযোগিতার জন্য সকলকে ধন্যবাদ জানান
মতামত লিখুন :