ডেস্ক রিপোর্ট: রাজধানীতে বাসচাপায় দুই শিক্ষার্থীর মৃত্যুকে কেন্দ্র করে অঘোষিত পরিবহন ধর্মঘটে সবচেয়ে বেশি সংকটে পড়েছে তৈরি পোশাক খাত। ইতিমধ্যে অনেক ক্রেতা বাংলাদেশ সফর বাতিল করেছেন। এক সপ্তাহ ধরে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে আমদানি-রফতানি পণ্য আনা-নেওয়া করা যায়নি। এ কারণে ক্রেতার হাতে পণ্য পৌঁছানো সম্ভব হবে না। কোনো কোনো ক্ষেত্রে কয়েকগুণ বেশি ব্যয়ে ক্রেতার কাছে আকাশপথে পণ্য পৌঁছাতে হয়েছে। এসব কারণে আবারও ভাবমূর্তি সংকটে পড়েছে পোশাকশিল্প।
সোমবার এক সংবাদ সম্মেলনে এসব কথা জানিয়েছে তৈরি পোশাক উৎপাদন ও রফতানিকারক ব্যবসায়ীদের সংগঠন বিজিএমইএ।
রাজধানীর কারওয়ান বাজারে নিজস্ব কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত সংবাদ সম্মেলনে বিজিএমইএ সভাপতি সিদ্দিকুর রহমান বলেন, ক্রেতারা ঢাকা সফর বাতিল করায় এখন বাধ্য হয়ে উদ্যোক্তাদেরই তাদের কাছে যেতে হবে। ঢাকায় নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত মার্শা ব্লুম বার্নিকাটের গাড়িবহরে শনিবার রাতে হামলার ঘটনায় দুঃখ প্রকাশ করেন তিনি। অবশ্য, এতে রফতানি বাণিজ্যে কোনো রকম প্রভাব পড়বে না বলে মনে করেন সিদ্দিকুর রহমান।

বিজিএমইএ সভাপতি বলেন, শঙ্কার সঙ্গে তারা লক্ষ্য করছেন, ছাত্ররা ঘরে ফিরে গেলেও যানবাহন পরিস্থিতি এখনও স্বাভাবিক হয়নি। সড়ক, মহাসড়কগুলোতে পর্যাপ্ত যানবাহন নামেনি। এ কারণে পণ্য পরিবহন বিঘ্নিত হচ্ছে। জনগণকে দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে।
সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, গত এক সপ্তাহ ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে তৈরি পোশাকের আমদানি-রফতানিপণ্য স্বাভাবিকভাবে আনা-নেওয়া সম্ভব হয়নি। একদিকে যেমন বন্দরে কনটেইনার ভর্তি রফতানি পণ্য পড়ে আছে, আবার জাহাজীকরণের অপেক্ষায় কারখানায় পড়ে আছে পোশাকপণ্য। যানবাহন পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হলে অনেক পণ্য স্টকলটের শিকার হবে। অর্থাৎ, এসব পণ্য আর ক্রেতারা নেবেন না। অনেক কারখানা বাধ্য হয়ে আকাশপথে কয়েক গুণ ব্যয়ে ক্রেতার হাতে পণ্য পৌঁছাতে বাধ্য হবে। অর্থাৎ দিন শেষে মাসুল দিতে হবে পোশাকশিল্পকেই। দুই ক্রেতা জোট অ্যাকর্ড এবং অ্যালায়েন্সের সকল শর্ত পূরণ করে নিজস্ব তদারকি ব্যবস্থাপনায় চলার জন্য প্রস্তত, ঠিক তখন এ ধরনের অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি পোশাকশিল্পকে পিছিয়ে দেবে। এতে ক্রেতাদের আস্থাহানি ঘটে।
মতামত লিখুন :