Logo

৬ শতাধিক পোশাক কারখানায় শ্রমিক অসন্তোষের শঙ্কা

RMG Times
বৃহস্পতিবার, মে ১৬, ২০১৯
  • শেয়ার করুন

ডেস্ক রিপোর্ট: ঈদের আগে প্রায় প্রতি বছরই কোনো না কোনো পোশাক কারখানায় বেতন-ভাতা ও বোনাসের দাবিতে আন্দোলনের ঘটনা ঘটে থাকে। ঈদের আগে বকেয়া বেতন-ভাতা ও বোনাস শ্রম আইন অনুযায়ী পাওয়া যাবে—এ আশা সব শ্রমিক-কর্মচারীই করেন। খুব ছোট কারখানার মালিকরাও আপ্রাণ চেষ্টা করেন শ্রমিক-কর্মচারীদের বেতন-ভাতা ও বোনাস পরিশোধ করে দিতে, যাতে সবাই খুশিমনে পরিবার-পরিজন নিয়ে ঈদ অবকাশ যাপন করতে পারে। কিন্তু যখন এর বিপরীত ঘটে কিংবা ঘটার আশঙ্কা দেখা দেয়, তখন শ্রমিক-কর্মচারীদের বিক্ষুব্ধ হয়ে ওঠা মোটেও অস্বাভাবিক কিছু নয়। এবার ঈদের আগে বেতন-বোনাস নিয়ে অসন্তোষের আশঙ্কা দেখা দেয়ায় নজরদারিতে রয়েছে ছয় শতাধিক পোশাক কারখানা। এরই মধ্যে বিভিন্ন এলাকায় শ্রমিক আন্দোলনের খবর মিলছে। অধিকাংশ মানসম্পন্ন কারখানা সঠিক নিয়মে যথাসময়ে বেতন-বোনাস প্রদান করলেও কিছু কারখানা এটিকে জিইয়ে রেখে ফায়দা হাসিলের চেষ্টা করে বলে অভিযোগ রয়েছে। এক্ষেত্রে শ্রম মন্ত্রণালয় থেকে শুরু করে বিজিএমইএ উদ্যোগ নিলেও পরিস্থিতির খুব বেশি উন্নতি হয় বলে জানা যায় না। তার পরও তাদের আলোচনার উদ্যোগ শ্রম অসন্তোষ কিছুটা হলেও প্রশমন করে। এবারো আলোচনা চলছে, এখনো সমাধান আসেনি।

কর্মসংস্থান ও বৈদেশিক মুদ্রা আয়ের দিক দিয়ে বিচার করলে তৈরি পোশাক শিল্প বাংলাদেশের বড় শিল্প খাত। অশিক্ষিত ও স্বল্পশিক্ষিত বিপুলসংখ্যক নারী ও পুরুষ এ শিল্পে কাজ করেন। অন্যদিকে পোশাক তৈরি করে রফতানির মাধ্যমে গার্মেন্ট শিল্প প্রতি বছর হাজার হাজার কোটি টাকার বৈদেশিক মুদ্রা আয় করে। এ শিল্পে শান্তি, সুস্থিরতা এবং অব্যাহত বিকাশ সবাই আশা করে।

কিন্তু যথাসময়ে শ্রমিকের ন্যায্য পাওনা না দিয়ে অসন্তোষ ডেকে আনা হলে যেকোনো শিল্প-কারখানা ও প্রতিষ্ঠানে অস্থিরতা দেখা দেয়া স্বাভাবিক। আর শ্রমিক অসন্তোষ ও অস্থিরতা থাকলে যেকোনো শিল্পের প্রত্যাশিত বিকাশ আশা করা দুরাশা মাত্র। আমাদের দেশে গার্মেন্ট খাতে শ্রমিক অসন্তোষ এখন যেন নিত্যনৈমিত্তিক ব্যাপার হয়ে দাঁড়িয়েছে। ভাংচুর-জ্বালাও-পোড়াওয়ের অনেক ঘটনা ঘটেছে। আন্দোলনরত শ্রমিকদের ওপর পুলিশের অনেক হামলা-মামলার ঘটনাও ঘটেছে। অনেক শ্রমিক নির্যাতন ভোগ করেছেন। শত শত শ্রমিক চাকরি হারিয়েছেন। এক গবেষণায় বলা হচ্ছে, বাংলাদেশে তৈরি পোশাক খাতের কারখানাগুলোয় বেতন-ভাতা, কর্মপরিবেশসহ নানা কারণে শ্রমিক অসন্তোষের ঘটনা প্রায়ই ঘটে। তবে এর সমাধানের জন্য কোনো স্থায়ী ব্যবস্থা নেই বললেই চলে। তৈরি পোশাক খাত বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় রফতানি খাত হলেও এখানে শ্রমিক, মালিক ও সরকার—এ তিন পক্ষের প্রতিনিধিত্ব আছে এমন কোনো স্থায়ী কাঠামো এত দিনেও গড়ে ওঠেনি।

শ্রমিকদের ন্যায্য পাওনাটুকুও মালিকপক্ষ পরিশোধ করেননি অনেক সময়। গার্মেন্ট শ্রমিকদের শোষণ-বঞ্চনার অবসান ঘটানোর লক্ষ্যে (সরকার, মালিক ও শ্রমিক) ত্রিপক্ষীয় সমঝোতার ভিত্তিতে ন্যূনতম মজুরি নির্ধারণ করে দেয়া হয়েছে। দুঃখের বিষয়, নির্ধারিত সেই মজুরি কাঠামোও কোনো কোনো গার্মেন্ট মালিক এখন পর্যন্ত বাস্তবায়ন করেননি। বেতন বকেয়া রাখা কিংবা নির্ধারিত তারিখে পরিশোধ না করার প্রবণতাও রয়েছে অনেক গার্মেন্ট মালিকের মধ্যে। সময়মতো বেতন-ভাতা পরিশোধ না করার পেছনে গার্মেন্টের সংশ্লিষ্ট মালিকদের অজুহাতের কোনো অভাব হয় না। শিল্প-কারখানা কিংবা যেকোনো প্রতিষ্ঠান চালাতে হলে শ্রমিক-কর্মচারীদের নির্ধারিত সময়ে নিয়ম অনুযায়ী বকেয়া বেতন-ভাতা এবং পবিত্র ঈদুল ফিতর উদযাপনে স্বীকৃত বোনাস অবশ্যই পরিশোধ করতে হবে। এমনিতেই তৈরি পোশাক শিল্পের শ্রমিকরা বছরের পর বছর বঞ্চিত হয়ে আসছেন ন্যায্য পাওনা থেকে। দেশের অর্থনীতির মেরুদণ্ড শ্রমঘন গার্মেন্ট শিল্পে শ্রমিক অসন্তোষের পুনরাবৃত্তি যাতে আর ঘটতে না পারে, সেদিকে সরকার ও সংশ্লিষ্ট সবারই খেয়াল রাখা দরকার। ঈদের আগে দেশের মেহনতি শ্রমিক-কর্মচারীরা যাতে বেতন-ভাতা ও বোনাস পেতে পারেন, প্রতিটি শিল্প-কারখানা ও প্রতিষ্ঠানে তার পরিপূর্ণ নিশ্চয়তা বিধান করা সরকারের দায়িত্ব।