Logo

সংকট নিরসনে সরকার-মালিক-শ্রমিক একাত্ম হয়ে কাজ করতে হবে

RMG Times
শুক্রবার, মে ১, ২০২০
  • শেয়ার করুন

ডেস্ক রিপোর্ট: বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব লেবার স্টাডিজ-বিল্স এবং ডেইলি স্টার এর যৌথ উদ্যোগে ‘কোভিড-১৯: বাংলাদেশের শ্রমজীবী মানুষের অবস্থা, চ্যালেঞ্জ ও উত্তরণে করণীয়’ শীর্ষক একটি গোলটেবিল বৈঠক আজ ৩০ এপ্রিল ২০২০ সকাল ১০টা থেকে বেলা ১টা পর্যন্ত অনলাইনে অনুষ্ঠিত হয়।

বৈঠকে সকল আলোচক মহান মে দিবসের বীর যোদ্ধা ও শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানান এবং তাদের পথ ধরে ঐক্যবদ্ধ আন্দোলনের মাধ্যমে শ্রমজীবি মানুষের বিদ্যমান সমস্যা সমাধানের মাধ্যমে মহান মে দিবসের চেতনা বাস্থবায়নের আহবান জানান।

বিল্স চেয়ারম্যান মোঃ হাবিবুর রহমান সিরাজের সভাপতিত্বে এবং মহাসচিব ও নির্বাহী পরিচালক নজরুল ইসলাম খানের সঞ্চালনায় গোলটেবিল বৈঠকে দুটি সেশনে প্রধান আলোচক হিসেবে অংশগ্রহণ করেন যথাক্রমে কলকারখানা ও প্রতিষ্ঠান পরিদর্শন অধিদপ্তরের মহাপরিদর্শক শিবনাথ রায় এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ডেভেলপমেন্ট স্টাডিজ বিভাগের অধ্যাপক ড. রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর। বৈঠকে ট্রেড ইউনিয়ন নেতৃবৃন্দ, নাগরিক সমাজ, মানবাধিকার ও উন্নয়ন সংগঠনের প্রতিনিধিগণ, গবেষক, শিক্ষাবিদ এবং সাংবাদিকগণ উপস্থিত ছিলেন।

করোনা মোকাবিলায় সরকারের গৃহীত বিভিন্ন উদ্যোগের কথা উল্লেখ করে প্রধান আলোচকের বক্তব্যে শিবনাথ রায় বলেন, করোনা পরিস্থিতিতে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন শ্রমিকরা।

তিনি বলেন, তাদের কল্যাণে শ্রমিক কল্যাণ ফাউন্ডেশনের অর্থ কিভাবে ব্যয় করা যায় সেটা ভাবতে হবে। এ ছাড়া কল্যান তহবিল থেকে শ্রমিকদের সহায়তা পাওয়ার ক্ষেত্রে সরকারের সাথে ট্রেড ইউনিয়ন নেতৃবৃন্দকে আলোচনা করতে হবে। যেসব শ্রমিক ইতোমধ্যে চলে এসেছেন তাদের সুরক্ষার বিষয়টিকে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ উল্লেখ করে তিনি বলেন, যেসকল কারখানা খুলে দেওয়া হয়েছে সেখানে পর্যাপ্ত স্বাস্থ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে। এজন্য পরিদর্শকবৃন্দ, শিল্প পুলিশ এবং বিজিএমইএকে নির্দেশ দেয়া হয়েছে। পর্যায়ক্রমে কারখানাগুলোকে খোলা হবে উল্লেখ করে তিনি বলেন, তবে ঢাকার বাইরে থেকে শ্রমিক আনা হবে না বলে মালিকরা বলেছেন। তারা বলেছেন, কোন শ্রমিক ছাঁটাই বা লে-অফ করবেন না। তবে ৬০ ভাগ বেতন দেয়া হবে। তিনি বলেন মালিকপক্ষ বেতন দেয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করলেও ২৯ এপ্রিল পর্যন্ত ৪২২ টি কারখানার ১ লাখ এক হাজার একশত ৭০ জন শ্রমিক মার্চ মাসের বেতন পাননি। খাদ্য সংকট ঠেকাতে জেলা প্রশাসকরা কাজ করছেন বলে তিনি উল্লেখ করেন। এ ছাড়া গার্মেন্টস শিল্পকে বাঁচিয়ে রাখতে টাস্ক ফোর্সের মাধ্যমে ক্রয়াদেশ টিকিয়ে রাখার চেষ্টা করা প্রয়োজন বলে তিনি মন্তব্য করেন।

ড. রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর বলেন, দেশে এমনিতেই বেকারত্বের হার বেশি, এখন করোনার কারণে এ হার আরো বেড়ে যাবে। এছাড়া প্রবাসীদের পাঠানো রেমিটেন্সের পরিমান কমে আসায় দেশের অর্থনৈতিক অবস্থা আরো দুর্বল হতে পারে বলে তিনি আশংকা প্রকাশ করেন। করোনা মোকাবেলায় শ্রমিকদের সুরক্ষা নিশ্চিত করতে আগামী বাজেটে বিশেষ বরাদ্দ রাখা, স্বল্প ও দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনা এবং স্থায়ী সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচি গ্রহণের পাশাপাশি বর্তমানে দ্রæত জাতীয় স্বাস্থ্য ব্যবস্থার পরিবর্তন করে স্বাস্থ্য কার্ড করা প্রয়োজন বলে তিনি মন্তব্য করেন। কভিড-১৯ পরিস্থিতিতে দেশের ১০ শতাংশ জিডিপি ব্যয় করে দিয়ে শ্রমজীবী মানুষ ও অর্থনীতিকে রক্ষা করা সম্ভব বলে তিনি উল্লেখ করেন। এ ছাড়া ভবিষ্যত জ¦ালানীর ক্ষেত্রে গ্রীন ডেভলপমেন্ট ফান্ড তৈরির ওপর গুরুত্বারোপ করেন তিনি।

সভাপতির বক্তব্যে বিল্স চেয়ারম্যান মো: হাবিবুর রহমান সিরাজ বলেন, করোনা সংকট মোকাবেলায় মাননীয় প্রধানমন্ত্রী বিভিন্ন উদ্যোগ নিয়েছেন। শ্রমিকরা যাতে বেতন পায় তার জন্য পাঁচ হাজার কোটি টাকার প্রণোদনা ঘোষণা করেছেন। তারপরও শ্রমিকরা এখনো বেতন ভাতার জন্য আন্দোলন করছেন। এ জন্য দায়ীদের খুঁজে বের করে তাদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে।

অন্যান্য আলোচকদের মধ্যে করোনা মোকাবেলায় এবং শ্রমিকদের সুরক্ষায় ট্রেড ইউনিয়ন নেতৃবৃন্দের ভূমিকা আরো জোরদার করার দাবি জানিয়ে শ্রমিক নিরাপত্তা ফোরামের আহ্বায়ক ড. হামিদা হোসেন বলেন, শুধু গার্মেন্টস নয় অন্যান্য সেক্টরের শ্রমিকদের কথাও ভাবতে হবে। তিনি বলেন যেসব স্থানে কারখানা খুলে দেওয়া হয়েছে সেসব কারখানার শ্রমিকদের কারখানার কাছাকাছি রাখার ব্যবস্থা করতে পারলে শ্রমিকদের সুবিধা হবে। এতে শ্রমিক আক্রান্ত হওয়ার হাত থেকে রক্ষা পাবে। এছাড়া লকডাউন অবস্থায় নারী শ্রমিকদের উপর নানা ধরণের নির্যাতন হচ্ছে উল্লেখ করে তিনি বলেন নারী নির্যাতন কিভাবে রোধ করা যায় সেটা নিয়েও ভাবতে হবে। তিনি আরও বলেন, ট্রেড ইউনিয়নের সহযোগিতায় শ্রমিকদের তালিকা করা যেতে পারে। এছাড়া সরকারের মাধ্যমে রেশন কার্ড বিতরণের প্রয়োজনীয়তা উল্লেখ করে তিনি বলেন, ত্রাণ বিতরণের কার্যক্রম সঠিকভাবে মনিটরিং করতে হবে।

স্বাস্থ্য খাতে বিনিয়োগ বাড়ানোর কথা উল্লেখ করে জাতীয় শ্রমিক জোটের সভাপতি এবং বিল্স এর উপদেষ্টা পরিষদ সদস্য মেসবাহউদ্দীন আহমেদ বলেন, স্বাস্থ্য খাতের আরো অনেক উন্নয়ন করতে হবে। এর জন্য দরকার বেশি বিনিয়োগ। কৃষি খাতে বেশি করে প্রণোদনা প্রদানের মাধ্যমে কৃষকদের বেশি করে সাহায্য করা গেলে করোনা পরবর্তী খাদ্য সংকট উত্তরণে সম্ভব বলে তিনি মন্তব্য করেন।

বাংলাদেশ লেবার ফেডারেশনের সভাপতি এবং বিল্স এর উপদেষ্টা পরিষদ সদস্য শাহ মো: আবু জাফর বলেন, মে দিবসের স্বাদ বাংলাদেশের শ্রমিকরা এখনো পায়নি। এখনো শ্রমিকরা ভালোভাবে বাঁচার জন্য আট ঘন্টা কাজের বাইরে ওভারটাইম করে জীবিকা নির্বাহ করছে। তিনি বলেন শ্রমিকদের পাওনা নিশ্চিত করতে প্রয়োজনে মালিকদের উপর চাপ প্রয়োগ করতে হবে। শ্রমিকদের দুঃখ দুর্দশা পরিমাপ করে প্রধানমন্ত্রীকে সঠিক পদক্ষেপ নেয়ার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, ত্রাণ বিতরণে সেনাবাহিনীকে নিয়োগ দেয়া যেতে পারে।

গার্মেন্টস কারখানা খোলার বিষয়টি উল্লেখ করে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের সভাপতি আনোয়ার হোসেন বলেন, একাত্তরের শরনার্থীর মত শ্রমিকরা পায়ে হেঁটে ঢাকায় আসছে এরকম দৃশ্য আমাদের দেখতে হচ্ছে। এ অবস্থার অবসান হওয়া দরকার বলে তিনি মন্তব্য করেন।

বিল্স এর যুগ্ম মহাসচিব ডা. ওয়াজেদুল ইসলাম খান বলেন, একদিকে শ্রমিকরা গৃহবন্দী হয়ে আছে আবার অন্যদিকে কোথাও কোথাও জনসুমদ্র তৈরি হচ্ছে। এখনই এসব বিষয়ে ব্যবস্থা না নিলে সামনে আরো বড় বিপদ অপেক্ষা করছে। শ্রমিক ছাঁটাই বন্ধ করতে হবে। তাদের তিন মাসের বেতন নিশ্চিত করতে হবে। পর্যাপ্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থা না করে শ্রমিকদের দিয়ে কাজ করালে স্বাস্থ্য ঝুঁকি বেড়ে যাবে। এজন্য কলকারখানা ও প্রতিষ্ঠান পরিদর্শন অধিদপ্তরকে আরো দায়িত্ব সহকারে কাজ করতে আাহ্বান জানান তিনি।

সমাজতান্ত্রিক শ্রমিক ফ্রন্টের সভাপতি রাজেকুজ্জামান রতন বলেন, করোনা ভাইরাসের প্রাদুর্ভাবে অভিবাসী ইস্যূতে বাংলাদেশ পাঁচ ধরণের সমস্যার সম্মুখীন হবে, যেমন, নতুন কর্মসংস্থান বন্ধ হয়ে যাবে, রেমিটেন্স এর পরিমাণ কমবে, দেশে বেকার সমস্যা বাড়বে, অভিবাসী নারী শ্রমিকদের ঝুঁকি বাড়বে এবং ফিরে আশা শ্রমিকরা সামাজিক ও অর্থনৈতিক সমস্যার সম্মুখীন হবে। তিনি বলেন, এসব সমস্যা সমাধানে প্রথমত শ্রমিকদের পুনর্বাসন ও দক্ষতা বৃদ্ধিও উপর মনোযোগ দিতে হবে। ইতোমধ্যে প্রত্যেকের জন্য সরকার ৫ লাখ টাকা প্রণোদনার যে ঘোষণা দিয়েছেন তার যথাযথ বাস্তবায়ন দরকার। বর্তমানে প্রবাসী আয় শতকরা ১২ ভাগ কমেছে। এতে বেকারত্ব বাড়বে এবং বিদেশে যাবার প্রবণতা বেপরোয়াভাবে বেড়ে যাবে। এ ক্ষেত্রে প্রবাসফেরতদের জন্য বাজেটে বিশেষ বরাদ্দ রাখা প্রয়োজন বলে তিনি উল্লেখ করেন।

দেশে ৪০ লক্ষ দোকান কর্মচারী বর্তমানে অমানবিক জীবন যাপন করছে উল্লেখ করে জাতীয় শ্রমিক জোট বাংলাদেশের সাধারণ সম্পাদক নইমুল আহসান জুয়েল বলেন, দোকান কর্মচারীরা শ্রম আইনের সুযোগ সুবিধা থেকে বঞ্চিত।
জাতীয় শ্রমিক লীগের সাধারণ সম্পাদক আজম খসরু বলেন, করোনা কোন স্থানীয় সংকট নয়, এটা বৈশি^ক সংকট, এ সংকটময় মুহুর্তে বিভেদ নয় বরং ঐক্য নিয়ে যার যার অবস্থান থেকে শ্রমিকদের পাশে দাঁড়াতে হবে।

প্রতিদিন বকেয়া বেতনের জন্য শ্রমিকদের আন্দোলন করতে হচ্ছে উল্লেখ করে ইন্ডাষ্ট্রিঅল বাংলাদেশ কাউন্সিলের সাধারণ সম্পাদক চায়না রহমান বলেন, করোনায় শ্রমিকরা তাদের প্রাপ্য পাচ্ছেনা। এর মধ্যে মালিকরা শ্রমিক ছাঁটাই করছে, কারখানা লে-অফ ঘোষণা করছে, যা সম্পূর্ণ বেআইনি এবং শ্রম আইন পরিপন্থী। তিনি বলেন যেখানে কারখানা খোলা রাখা হয়েছে সেখানে পর্যাপ্ত স্বাস্থ্য সুরক্ষা ও নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। অনিরাপদ কর্মস্থলে কাজ করতে বাধ্য হচ্ছে শ্রমিকরা।

দৈনিক প্রথম আলোর যুগ্ম সম্পাদক সোহরাব হোসেন বলেন, যে সমস্ত শ্রমিকরা এখনো মার্চ মাসের বেতন পায়নি, তারা রাজপথে নেমে আন্দোলন করছে। কারণ করোনার চেয়ে বড় বিপদ ক্ষুধা। তিনি আরও বলেন, ক্ষুধার্ত শ্রমিকদের পাশে দাঁড়াননি পরিবহন নেতারা। এ ক্ষেত্রে সরকারের ব্যবস্থা নেয়া প্রয়োজন। তিনি বলেন, দরিদ্রদের জন্য নগদ সহায়তা দেয়া এখন বেশী প্রয়োজন। শ্রমিকদের ওপর দায় চাপিয়ে লে অফ ঘোষণা অন্যায্য উল্লেখ করে তিনি বলেন, পোশাক খাতের ৪০ লক্ষ শ্রমিকদের মজুরি এতই কম যে তাদের পক্ষে জীবন ধারন করা সম্ভব না, সেখানে এই পরিস্থিতিতে তাদের হয়রানি আরও বাড়বে।

ইমারত নির্মাণ শ্রমিক ইউনিয়ন বাংলাদেশের সাধারণ সম্পাদক আব্দুর রাজ্জাক বলেন, নির্মাণ শ্রমিকের সংখ্যা আনুমানিক ৪০ লক্ষ। করোনা সংকটে তারা কর্মহীন হয়ে পড়েছে। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শ্রমবান্ধব হলেও শ্রম আইনে নির্মাণ শ্রমিকরা অন্তর্ভুক্ত না হওয়ায় তারা সকল সুবিধা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। নির্মাণ শ্রমিকরা দিন আনে দিন খায় উল্লেখ করে তিনি বলেন, তাদের কাজ নেই, মজুরি নেই, পর্যাপ্ত ত্রানও তারা পাচ্ছেনা।

গৃহশ্রমিক অধিকার প্রতিষ্ঠা নেটওয়ার্কের ভারপ্রাপ্ত সমন্বয়কারী আবুল হোসেন বলেন, গৃহশ্রমিকরা সবসময়ই অবহেলিত। যেসব গৃহশ্রমিক অনাবাসিক এবং খন্ডকালীন কাজ করে তারা কর্মহীন হয়ে পড়েছে। সরকারি ত্রান তাদের অনেকের কাছেই পৌঁছায় নি। তারা অনেকেই গৃহে নির্যাতনের শিকার। বর্তমান সময়ে তারা যেন চাকুরিচ্যূত না হয় এবং সবেতন ছুটি পায় সে বিষয়ে নিয়োগকারীদের লক্ষ্য রাখার প্রতি তিনি আহŸান জানান।

জাতীয় রিক্সা ভ্যান শ্রমিক লীগের সাধারণ সম্পাদক ইনসুর আলী বলেন, গণ পরিবহনের প্রায় ১ কোটি শ্রমিক বেকার। শ্রমিকদের জন্য প্রধানমন্ত্রী ঘোষিত প্যাকেজ তারা কিভাবে পাবেন তা সকলের জানা দরকার বলে তিনি মন্তব্য করেন। ২৫০০ কোটি টাকা বাৎসরিক চাঁদা শ্রমিক কল্যানের উদ্দেশ্যে পরিবহণ নেতারা নিয়েছেন কিন্তু এটি তাদের কল্যাণে ব্যয় হওয়ার কোন নজির পাওয়া যায় নি। এ ক্ষেত্রে দায়ীদের তালিকা করে ব্যবস্থা নেয়ার ওপর গুরুত