নিজস্ব প্রতিবেদক: তিনটি শর্ত দিয়ে করোনা মোকাবেলায় ক্ষতিগ্রস্ত রফতানিমুখী শিল্পপ্রতিষ্ঠানের জন্য ৫ হাজার কোটি টাকার প্যাকেজ তহবিল ব্যয়ের নির্দেশনা জারি করেছে অর্থ মন্ত্রণালয়। প্রথম শর্ত হচ্ছে সচল শিল্পপ্রতিষ্ঠান এ অর্থ পাবে। দ্বিতীয়- এ অর্থ শুধু শ্রমিকদের বেতন-ভাতা পরিশোধ করা হবে। শেষ শর্ত হচ্ছে সরাসরি শ্রমিকের ব্যাংক অ্যাকাউন্ট বা মোবাইল ব্যাংকিংয়ের হিসেবে তাদের বেতন বাবদ এ অর্থ ব্যাংক থেকে পাঠানো হবে।
মঙ্গলবার অর্থ বিভাগ এ সংক্রান্ত নির্দেশনা জারি করেছে। পাশাপাশি তহবিলের অর্থ বিতরণের নীতিমালা দ্রুত প্রণয়নের জন্য বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নরকে একই দিনে চিঠি দিয়েছে অর্থ বিভাগ। সংশ্লিষ্ট সূত্রে পাওয়া গেছে এসব তথ্য।

নির্দেশনায় বলা হয়েছে, যেসকল শিল্প প্রতিষ্ঠান মোট উৎপাদনের ন্যুনতম ৮০% রপ্তানি করে থাকে কেবলমাত্র সেসকল সচল প্রতিষ্ঠান এই তহবিল থেকে ঋণ সুবিধা পাবে। এ তহবিল হতে প্রাপ্ত অর্থ সর্বোচ্চ তিন মাসের বেতন-ভাতা পরিশোধের জন্য ব্যবহার করা যাবে। এই অর্থ সরাসরি শ্রমিকদের ব্যাংক হিসেবে প্রদান করতে হবে। কোনো প্রকার ক্যাশ টাকার লেনদেন করা যাবে না।
প্রথমে বাংলাদেশ ব্যাংক বরাদ্ধকৃত ৫ হাজার কোটি টাকা বানিজ্যিক ব্যাংকগুলোকে চাহিদা মতো বিনাসুদে ঋণ প্রদান করবে। পরে বানিজ্যিক ব্যাংক থেকে ২ শতাংশ সরল সুদে এই ঋণ সুবিধা গ্রহণ করতে পারবে রপ্তানিমূখী শিল্প প্রতিষ্ঠানের উদ্যোক্তরা। এই ঋণের টাকায় প্রতিষ্ঠানগুলো শ্রমিক-কর্মচারীদের বেতন-ভাতা পরিশোধ ব্যতিরেক অন্য কোনো খাতে ব্যবহার করতে পারবে না।
নিদের্শনায় আরো বলা হয়, ঋণগ্রহিতা প্রতিষ্ঠানগুলো ৬ মাস প্রেস পিরিয়ডসহ মোট ২ বছরে ১৮টি কিস্তিতে গৃহিত ঋণ বানিজ্যিক ব্যাংকে পরিশোধ করবে এবং বানিজ্যিক ব্যাংকগুলো সমান ১৮ কিস্তিতে বাংলাদেশ ব্যাংকে এই পরিশোধ করবে।
ঋণ প্রদানে বানিজ্যিক ব্যাংকগুলোর ক্ষেত্রে অনুসরণীয় কার্যব্যবস্থা নির্দেশনায় বলা হয়, রপ্তানিমূখী প্রতিষ্ঠানে ঋণ প্রদানের আগে বিগত তিন মাসের (ডিসেম্বর-২০১৯, জানুয়ারী-২০২০ ও ফেব্রুয়ারী-২০২০) সেলারী শীট পরীক্ষাপূর্বক ঋণ প্রদান করবে। এছাড়া এই ঋণের টাকা সরাসরি মোবাইল ফিনান্সিয়াল সিস্টেম (এমএফএস) এর মাধ্যমে সরাসরি শ্রমিকের ব্যাংক হিসেবে প্রদান করবে। এক্ষেত্রে ব্যাংকগুলো শ্রমিকদের জাতীয় পরিচয় পত্র বাধ্যতামূলক পরীক্ষা করবে।















মতামত লিখুন :