ঢাকা রবিবার, সেপ্টেম্বর ২৩, ২০১৮



‘পোশাক শিল্পের বিকাশে শ্রমিকদের মজুরি বাড়ানো উচিত’

ডেস্ক রিপোর্ট: পোশাক শ্রমিকদের মজুরি বাড়লে তা গার্মেন্টস শিল্প বিকাশে সহায়ক হবে। এ কারণে গার্মেন্টস শ্রমিকদের নূন্যতম মজুরি বাড়ানো উচিত । শুক্রবার (১০ আগস্ট) জাতীয় প্রেস ক্লাবের ভিআইপি লাউঞ্জে বাংলাদেশ গার্মেন্টস শ্রমিক সংহতির উদ্যোগে ‘কী করে বাঁচে শ্রমিক’ শীর্ষক গবেষণা প্রতিবেদন প্রকাশ এবং মতবিনিময় সভায় আলোচকরা এ কথা বলেন।

আলোচকরা বলেন, মজুরি বৃদ্ধির পাশাপাশি আন্তর্জাতিক ব্র্যান্ড এবং দেশি গার্মেন্টস মালিক উভয় পক্ষ মাত্রাতিরিক্ত মুনাফা কমিয়ে আনলে বিদ্যমান কাঠামোতেই গার্মেন্টস শিল্পে শ্রমিকদের ন্যূনতম মজুরি ১৬ হাজার টাকা করা সম্ভব।

সম্প্রতি দেশের ছয়টি শিল্পাঞ্চলে ২০০ শ্রমিকের অংশগ্রহণে পরিচালিত জরিপের ভিত্তিতে একটি গবেষণা প্রতিবেদন তৈরি করেছে গার্মেন্টস শ্রমিক সংহতি।

প্রতিবেদনের সার-সংক্ষেপ উপস্থাপন করেন সংগঠনের সভা প্রধান তাসলিমা আখতার।

সূত্র: জাগো নিউজ ২৪

গবেষণা জরিপের মাধ্যমে প্রকাশিত হয়েছে যে- দেশে একজন গার্মেন্ট শ্রমিক বেতন, ওভারটাইম ও হাজিরা বোনাসসহ মোট ৮২০০ টাকা আয় করেন। প্রতিটি শ্রমিক পরিবারে গড়ে দুইজন উপার্জনকারী সদস্য এবং চার সদস্যের একটি পরিবারের মোট আয় ১৫,৮৬৩ টাকা। ৬১ শতাংশ শ্রমিক মনে করেন তার আয়ের তুলনায় ব্যয় বেশি।

অতিরিক্ত ব্যয়ের বোঝা সামাল দেয়ার জন্য গার্মেন্টস শ্রমিকরা বিভিন্ন উৎস থেকে নিয়মিত ঋণ করেন এবং খাদ্য ও বাসা ভাড়া বাবদ ব্যয় কমিয়ে দেন। গড়ে একজন গার্মেন্টস শ্রমিক দৈনিক ৮ ঘণ্টা কাজের পাশাপাশি মাসে গড়ে ৬০ ঘণ্টা পর্যন্ত ওভারটাইম করেন। ফলে শ্রমিকরা প্রয়োজনীয় ঘুম ও বিশ্রাম থেকে বঞ্চিত হন।

সভায় তাসলিমা আখতার বলেন, গার্মেন্টস শ্রমিক সংহতি এক বছরেরও বেশি সময় আগে থেকে গার্মেন্টস খাতে ন্যূনতম ১৬ হাজার টাকা মজুরির দাবিতে আন্দোলন করে আসছে এবং এ দাবি করা হয়েছে জাতীয় ও আন্তর্জাতিক বিধি-বিধান ও তথ্য নির্ভর গবেষণার ভিত্তিতে।

সরকার ও মালিক পক্ষ যে ন্যূনতম মজুরি নির্ধারণ করছে তা গার্মেন্টস শ্রমিকদের ন্যূনতম জীবনমান নিশ্চিতে মোটেও যথেষ্ট নয়। সরকার গার্মেন্টস মালিকদের জন্য বহুবিধ কর সুবিধা রাখলেও শ্রমিকদের কল্যাণ নিয়ে ততটা ভাবিত নয়। গার্মেন্টস শ্রমিকদের মজুরি বাড়লে সেটি গার্মেন্টস শিল্পের বিকাশে সহায়ক হবে।

সভায় উপস্থিত ছিলেন- সেন্টার ফর পলিসি ডায়লগ- সিপিডির গবেষণা পরিচালক ড. খোন্দকার গোলাম মোয়াজ্জেম, ট্রেড ইউনিয়ন ফেডারেশনের সভাপতি শাহ আতিউল ইসলাম, গণসংহতি আন্দোলনের রাজনৈতিক পরিষদের সদস্য ফিরোজ আহমেদ,গার্মেন্টস শ্রমিক ফ্রন্টের সভাপতি আহসান হাবিব বুলবুল, গার্মেন্টস শ্রমিক অধিকার আন্দোলনের সমন্বয়ক মাহাবুবুর রহমান ইসমাইল, নারী সহংতির সভাপতি শ্যামলী সরকার প্রমুখ।

Write a comment

Print Friendly, PDF & Email

এই বিভাগের আরও খবর


আর্কাইভ



error: Content is protected !!