ঈদকে সামনে রেখে পোশাক কারখানায় হিজড়াদের ব্যাপক চাঁদাবাজি; প্রশাসন নীরব

মীর আলতাফ হোসেন সিপন, চট্টগ্রাম: ঈদুল ফিতরকে সামনে রেখে দেশের অন্যান্য স্থানের মতো চট্টগ্রামেও চলছে হিজড়াদের ব্যাপক চাঁদাবাজি। আর এ চাঁদাবাজিতে সবচেয়ে বেশী ক্ষতিগ্রস্থ হচ্ছে চট্টগ্রামের তৈরী পোশাক কারখানাগুলো।

সরেজমিনে দেখা যায়, ৪-৫ জন নিয়ে টিম গঠন করে তারা এলাকা ভিত্তিক এ ধরনের চাঁদাবাজি কার্যক্রম চালাচ্ছে।

আগে থেকেই পোশাক কারখানাগুলো থেকে তারা মাসিক ভিত্তিতে ৫০০-১৫০০ টাকা পর্যন্ত নিয়মিত চাঁদা আদায় করে থাকে, আর ঈদকে সামনে রেখে তাদের চাঁদার পরিমান বেড়ে যায় কয়েক গুণ বেশী। এ ক্ষেত্রে ৫০০০-১৫০০০ টাকা পর্যন্ত তারা দাবি করে এবং তা তারা কৌশলে আদায় করে থাকে।

ফাইল ফটো

এ প্রসঙ্গে চট্টগ্রামের স্টীচটোন এ্যাপারেলস লিঃ এর হিসাব ব্যবস্থাপক জনাব পলাশ চন্দ্র সাহা জানান, আমরা প্রতি মাসে তাদের ৭০০ টাকা করে চাঁদা দিয়ে আসছি। এছাড়াও তারা বাংলা ও ইংরেজী নববর্ষ, দূর্গাপূজা, ঈদ এবং তাদের নিজেদের কিছু অনুষ্ঠানের কথা বলে এসব টাকা নির্ধারিত অনুষ্ঠানের ২-৩ মাস পূর্বেই নিয়ে যায়। যেমন আমরা গত কয়েকদিন আগে ঈদের চাঁদা দিলাম। আর তাদের চাহিদামত চাঁদা দিতে অসম্মতি জানালে তারা কুরুচিপূর্ণ অঙ্গ-ভঙ্গি,নগ্ন হয়ে যাওয়া ছাড়াও কারখানার নিরাপত্তাকর্মীদের ধাক্কা মেরে কারখানায় প্রবেশ করে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করে। কারখানায় ক্রেতা বা ক্রেতা প্রতিনিধি এবং কর্মীদের কাছে নিজেদের সন্মান বজায় রাখার জন্য আমরা প্রতিনিয়ত এ অবৈধ চাঁদা প্রদান করতে বাধ্য হচ্ছি। 

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক চট্টগ্রামের আরেক কারখানার পরিচালক জানান,বিষয়টি তারা নিকটস্থ থানা ও বিজিএমইএ’তে অভিযোগ করেও কোন ধরনের প্রতিকার পাননি। দিনে দিনে এ চাঁদাবাজি মহামারির আকার ধারণ করছে।

প্রশাসনের নাকের ডগায় বসে হিজড়াদের এহেন চাঁদাবাজিতে কারখানার মালিক ও শ্রমিকরা এক প্রকার অসহায় আত্মসমর্পন করছে।

এভাবে নিয়ন্ত্রণহীন চাঁদাবাজি বন্ধ করা না গেলে ভবিষ্যতে বাংলাদেশের তৈরী পোশাক কারখানাগুলোতে সহিংসতাসহ মারাত্মক অবস্থার সৃষ্টি হতে পারে, সরকারের সুদৃষ্টিতে হিজড়াদের কর্মসংস্থান এ সমস্যার সমাধানে ভূমিকা রাখতে পারে।

Write a comment

Print Friendly, PDF & Email

এই বিভাগের আরও খবর


আর্কাইভ



error: Content is protected !!