ঢাকা শনিবার, সেপ্টেম্বর ২২, ২০১৮



নিম্নতম মজুরী বৃদ্ধি ও প্রাসঙ্গিক কিছু কথা

আখলাকুর রহমান: রপ্তানি মূখী পোশাক লিল্প একটি যাযাবর প্রকৃতির শিল্পপ্রতিষ্ঠান। বিগত দু’শ বছরে এই শিল্পটি আমেরিকা, ইউরোপ পাড়ি দিয়ে এশিয়ার চীন, হংকং, শ্রীলংকা, ইন্দোনেশিয়া, মালেশিয়া, জর্ডান, ভিয়েতনাম, কম্বোডিয়া, তুরস্ক, পাকিস্থান, ভারত, বাংলাদেশ সহ বিশ্বের নানা দেশ ভ্রমন করেছে এবং একুশ শতকে কোন কোন দেশ থেকে প্রস্থান করে নতুন নতুনভূখন্ড ও মহাদেশে ভিত্তি স্থাপনের প্রস্তুতি গ্রহণ করছে ইতিমধ্যে।ইদানিং আবার আমেরিকানদের জিএসপি’র (GSP) সুযোগ কাজে লাগিয়ে এই শিল্পটি এশিয়ার মিয়ানমার, আফ্রিকার কেনিয়া, ইথিয়পিয়া সহ কয়েকটি দেশে যাত্রা শুরু করেছে এবং বাংলাদেশর ডিবিএল গ্রুপও ইতিমধ্যে ইথিয়পিয়াতে তাদের কারখানা স্থাপন করেছেন।অবশ্য মিয়ানমারে কেবল চাইনিজরাই পোশাক কারখানা স্থাপন করেছেএবং সেখানে চাইনীজরাই ব্যবসা নিয়ন্ত্রণ করছে কারণ মিয়ানমার এখনো্ও পোশাক শিল্পে দক্ষ হয়ে ওঠেনি।আবার বিশেষ সুযোগ-সুবিধার প্রদানের প্রস্তাব সহ বাংলাদেশী বিনিয়োগকারীদেরও মিয়ানমারে পোষক শিল্পে বিনিয়োগের জন্য আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। আফ্রিকার কতিপয় দেশও পোশাক শিল্পে বাংলাদেশী বিনিয়োগকারীদের আকৃষ্ট করার জন্য সকল প্রকার সুযোগ-সুবিধা উজার করে দিয়ে আমন্ত্রণ করেছে সেই সকল দেশে পোষক শিল্প স্থাপনের জন্য। কারণ বাংলাদেশ বিশ্বে পোশাক শিল্পে নেতৃত্বকারী অপ্রতিদন্দ্বী একটি দেশ।

 

পোশাক শিল্প স্থাপনের জন্য মৌলিক উপাদানগুলোর মধ্যে ভুমরি অবাধ ব্যবহার, মূলধন বিনিয়োগ, মেশিনারী, সস্তা শ্রম ও শ্রমিকের প্রাপ্যতা, পরিবেশ বিধ্বংসী কার্যকলাপে নিয়ন্ত্রণ না থাকা, বন্দর ব্যবহারের সুবিধা ইত্যাদি অন্যতম উপাদান। বাংলাদেশে এই শিল্প বিকাশের অন্যতম প্রধান কারণ হলো সস্তা শ্রমিক ও শ্রমিকের প্রাপ্যতা, শ্রমকিদের নমনীয়তা ও দীর্ঘ সময় কাজ করার অভ্যাস, ভূমির অবাধ ব্যবহার, প্রাকৃতিক গ্যাস, সমুদ্র বন্দর সহ অন্যান্য কিছু উপাদানের সমন্বয়। ৮০’র দশকের প্রথম দিকে এই শিল্পের যাত্রা শুরু হলেও আজ পর্যন্ত এই শিল্প ঠেকসই ভিত্তির ওপর দাঁড়াতে পারেনি বহুকারণে। প্রথম দিক থেকেই নূন্যতম মজুরী ও নৈতিক মজুরী প্রদান নিয়ে যে সকল সমস্যা ও অনৈতিকতা ছিল,আজোবধি সেই সমস্যা বিদ্যমান। বিগত সময়ে নূন্যতম মজুরী বৃদ্ধি পেলেওএই মজুরী শ্রমিক শ্রেণীর জীবন মান বৃদ্ধিতে উল্লেখযোগ্যকোন ভুমিকা আছে বলে প্রতিয়মান নয়। গ্রামীন সমাজের পিছিয়ে পড়া, অবহেলিত, নিগৃহীত নারী সমাজ জীবন ধারণের তাগিদে পোশাক শিল্পের প্রধান মেরুদন্ড এবং চালিকা শক্তিতে পরিণত হয়েছে মাত্র। আর এরাই দেশের এর্মাজিং অর্থনীতির (Emerging Economy) প্রধান অক্ষশক্তি কিন্ত তাদের কথা ভাবার জন্য কারো মাথা ব্যাথা নেই। 

২০১৮ সালে নিম্নতম মজুরী (Minimum wages) বৃদ্ধির জন্য মজুরী বোর্ড গঠন করা হয়েছে এবং সেই বোর্ড ইতিমধ্যে তাঁদের প্রতিবেদন জমা দিয়েছেনে এবং সংশ্লিষ্ট মহল তা বাস্তবায়নের জন্য কাজ করে যাচ্ছেন্। এরই মধ্যে নানা মহল ও শ্রমিক ফেডারেশনসমূহ (Worker Federations)নিম্নতম মজুরীর কত হবে সেই পরিমাণটা নিয়ে দ্বিধাগ্রস্তহয়ে পড়েছেন। আমরাওনিম্নতম মজুরীর পরিমাণটা নিয়ে সংশয়ের মধ্যে রয়েছি এবং আশা করছি একটি গ্রহণযোগ্য নিম্নতম মজুরী ঘোষণা করা হবে। নির্দিষ্ট সময়ান্তে নিম্নতম মজুরী বৃদ্ধি প্রাসঙ্গিক কিন্ত এই মজুরী বৃদ্ধির হার শিল্পের সাথে সহায়ক হওয়াও বাঞ্চনীয়।

২০০৮ সালে শুরু হওয়াবিশ্ব অর্থনৈতিক মন্দা (Economic recession), ২০১২ সালে তাজরীন ফ্যাশনে অগ্নিকান্ড, শাহরিয়ার গার্মেন্টস ধ্বসে পড়া, ২০১৩ সালেরানাপ্লাজার ধ্বংসাত্বক দুর্ঘটনা, আমেরিকা কর্তৃক জিএসপি/শুল্ক মুক্ত পণ্য প্রবেশাধিকার (Generalized System of Preferences) বাতিল,২০১৩/১৪ সালের অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক সংকট, বাংলাদেশের পোষক শিল্প নিয়ে আন্তর্জাতিক ষড়যন্ত্র,ব্রেক্সিট (Brexit means British exit from European union) এবং ক্রেতাগণ কর্তৃক অর্থনৈতিক মন্দার কারণ দেখিয়ে ক্রমাগত পোশাকের মূল্য কমানোর পরেও বাংলাদেশের পোশাক রপ্তানি উর্ধ্বগতিতে রয়েছে। বিশেষ ভাবে উল্লেখ করতে হচ্ছে যে, পোশাক রপ্তানি অব্যাহত থাকার কারণে বিশ্ব অর্থনৈতিক মন্দার প্রভাব বাংলাদেশের অর্থনীতি পড়েনি। এই ক্রমাগত বৃদ্ধি অব্যাহত রাখার জন্য এই শিল্প সংশ্লিষ্ট সবারই কম বেশী দায়-দাযিত্ব আছে। সংশ্লিষ্ট সবাইতাদের ওপর অর্পিত দায়িত্ব পালন করলে অবশ্যই এই শিল্পের ক্রমাগত প্রবৃদ্ধি অব্যাহত থাকবে এবং পোশাক রপ্তানিতে বিশ্ব বাজারেবাংলাদেশের প্রতিনিধিত্ব অব্যাহত থাকবে। তাই নূন্যতম মজুরীর প্রেক্ষাপটে আমাদের নৈতিক ও পেশাগত দায়-দায়িত্বের একটি সংক্ষিপ্ত বিবরণ দেওয়ার প্রয়াস করছি এই নিবন্ধনে।

ক) বাংলাদেশের রপ্তানি আয়ের ৮০% বেশী আয় আসে পোশাক রপ্তানির মাধ্যমে। এই দেশের অর্থনীতির প্রধান মেরুদন্ড হলো পোশাক রপ্তানি খাত। এই খাতের কোন বিকল্প খাত এখনো তৈরী হয়নি এবং নিকট ভবিষ্যতে এর কোন বিকল্প তৈরী হওয়ার সম্ভাবনা দেখতে পাচ্ছিনা। একটি দেশের মৌলিক অর্থনৈতিক মেরুদন্ড যে খাত ও যে সকল শ্রমজীবীদের ওপর ভিত্তি করে দাড়িয়ে রযেছে, অবশ্য তাদের প্রতি সরকারের দায়দায়িত্ব আছে। সরকারের অবহেলার কারণে যদি এই খাত পিছিয়ে যায় তবে বাংলাদেশের ক্রমবর্ধমান অর্থনীতির গতি বিঘ্নিত হবে। আর এই পোশাক রপ্তানি খাতের সাথে সরাসরি জড়িত প্রায় ৫০ লক্ষ শ্রমিক এবং পরোক্ষ ভাবে জড়িত সংযোগ শিল্প, ব্যাংক, বীমা, পরিবহন সহ নানা খাত হয়ে পড়বে স্তবির। তাই এই খাতের শ্রমিকদের সহায়তায় এগিয়ে আসf সরকারের নৈতিক দায়িত্বের মধ্যেই পড়ে। যেমন দ্রব্য মূল্যের উর্দ্ধগতির কারণে স্বল্প মূল্যে চাল, ডাল, আটা ওতেলেরমতো নিত্য প্রয়োজনীয় দ্রব্যেররেশনিং ব্যাবস্থা চালু করতে পারে। তাদের বসবাসরত এলাকায় বিশেষ করে বাড়ি ভাড়া নিয়ন্ত্রণ করা, পোশাক শিল্পের শ্রমিকদেরআবাসিক এলাকায় শ্রমিকদের সন্তানদের জন্য স্বল্প খরচে পড়া-শুনা করানোর জন্য বিশেষ স্কুল স্থাপন করা যায়। স্বল্প খরচে চিকিৎসা সেবা প্রদান করার জন্য পর্যাপ্তচিকিৎসা কেন্দ্র স্থাপন করে সরকার সহায়তার হাত প্রসারিত করতে পারে। আবার পোশাক শিল্পের জন্য সার্বক্ষণিক গ্যাস, বিদ্যুৎ সর্বরাহের ব্যবস্থা করা, ঢাকা থেকে বন্দর পর্যন্ত পণ্যবাহী যানের দ্রুত যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়ন এবং বন্দরে কার্গো ওঠানো-নামানোর আধুনিকায়ন করা সহ নানাবিধ পদক্ষেপ সরকার গ্রহণ করে পোশাক শিল্পের অগ্রযাত্রাকে দীর্ঘায়িত ও ঠেকসইকরতে পারে।আবার আমেরিকাতে জিএসপি (GSP) পুনরুদ্ধারের জন্য সকল প্রকার চেষ্টা অব্যাহত রাখতে হবে কারণ আমেরিকাই ওভেন (woven) পোশাক রপ্তানিরে একক বড় বাজার। কোন প্রকার অবহেলা বা রাজনৈতিক অদূরদর্শিতার কারণে এই বাজার যাতে হাত ছাড়া না সেই দিকেও নজর রাখতে হবে সরকারকেই।আবারবাংলাদেশ ২০২৪ সালে উন্নয়নশীল রাষ্ট্রের তালিকা ভূক্ত হওয়ার পথে ধাবমানএবং ২০২৭ সালের পর ইউরোপের বাজারে জিএসপি (GSP) সুবিধা হারাবে বাংলাদেশ,সঙ্গত কারণে জিএসপি হারানোর বিষয়টি যথাযত গুরুত্বের সাথে মোকাবেলা করতে হবে। অন্যথায় ২০২৭ সালের পরে, ইউরোপেও পোশাক রপ্তানি কঠিন হুমকীর মধ্যে পড়বে।

খ) বলাবাহুল্য ইউরোপ, আমেরিকা সহ বিভিন্ন দেশের ক্রেতাগণ বৈশ্বিক অর্থনৈতিক মন্দা, বাজার অর্থনীতিতে প্রতিযোগিতা, পোশাক ক্রয়কারীদের ক্রয় ক্ষমতার নিম্নগামিতা ইত্যাদি অজুহাত দেখিয়ে এবং আমাদের দেশের পোশাক শিল্পরে মালিক সহ বায়িং হাউজ এবং ক্ষেত্র বিশেষ লিয়াজন অফিসগুলোর দর নির্ধারণে এক ধরণের নীরব প্রতিযোগিতা ও অপরিপক্ষতার কারণে পোশাক ক্রয়াদেশ বা উৎপাদনের দাম দিন দিন একেবারে নিম্ন পর্যায়ে এসে পৌঁছেছে। খোঁজ নিয়ে জানা যায় যে, একই ধরণের পোশাক বাংলাদেশেরপ্রতিযোগী (চীন, ভারত, ভিয়েতনা ইত্যাদি) দেশগুলো বেশী দামে ক্রয়াদেশ নিচ্ছে।অথচ আমরা দাম নির্ধারণেরপ্রতিযোগিতা ও কৌশলে ঐ সকল দেশের কাছে পরাজিত।তাই ক্রেতাদের মধ্যেএকটি ধারণা তৈরী হয়ে গিয়েছে যে, যতই দাম কমানো হোক বাংলাদেশ ক্রয়াদেশ গ্রহণ করবেই।এসকল অনৈতিক বদ্ধমূল ধারণা থেকে ক্রেতাদের বের করতে না পারলে এবং ক্রয়াদেশ নির্ধারণ ও গ্রহনে নৈতিক দর নির্ধারণে দক্ষতা ও কৌশলের উন্নতি করতে না পারলে সামনে পোশাক শিল্প ও শিল্প সংশ্লিষ্ট সকলের জন্য অশনি সংকেতেই অপেক্ষা করছে। তাছাড়াও ২০১৮ সালের নূন্যতম মজুরী বৃদ্ধির ফলে উৎপাদন মূল্য ২৮-৩৫% বৃদ্ধি পাবে। আর এই উৎপাদন খরচ বৃদ্ধির সমন্বয়ের জন্য ক্রয়াদেশ গ্রহনের সময় মূল্যবৃদ্ধির কোন বিকল্প নেই। সেই সাথে ক্রেতাদেরকেও বুঝাতে সক্ষম হতে হবে যে, বাংলাদেশের মাথাপিছু আয়, ক্রয় ক্ষমতা, দ্রব্যমূল্য, বাড়ী বাড়া, শিক্ষা, চিকিৎসা সহ যাতায়াতের মূল্য ক্রমাগত বৃদ্ধি পাচ্ছে তাই পোশাকের ক্রয়াদেশে যৌক্তিক ও নৈতিক মূল্য বাড়ানো অনৈতিক দাবি নয় মোটেও।

গ) শিল্প মালিক, শ্রমিক ও অন্যান্য স্বার্থ ভোগীদের দায়-দায়িত্ব কোন অংশে কম নয়। শ্রমিকরা আজীবন শ্রমিক থাকবে এই বদ্ধমূল ধারণা থেকে মালিক পক্ষকে বের হয়ে আসতে হবে।সময়ের প্রয়োজনে নৈতিক, গ্রহণযোগ্য নূন্যতম মজুরী অবশ্যইস্বাগত জানাতে হবে। মজুরী বৃদ্ধি শ্রমিক পক্ষকে আরো বেশী দায়িত্বশীল ও কর্মক্ষম করবে। কিন্তু ‍পিছিয়ে পড়া এই পক্ষকে দায়িত্বশীল ও কর্মক্ষম করার দায়িত্ব ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষের ওপর। সঠিক, সময়োচিত, দক্ষ কর্মী ও মানব সম্পদ ব্যবস্থাপনায় কোন প্রকার কার্পণ্য করলে হবে না। দক্ষ, আধুনিক ও প্রকৌশল নির্ভর উৎপাদন ব্যবস্থার উপযোগী করে সাজাতে হবে শ্রমিক ও কর্মীদের্। ইফিসিয়েন্সি (Efficiency) বাড়াতে হবে মেশিন, শ্রমিক ও ব্যবস্থাপনার ক্ষেত্রে। সার্বিক ইফিসিয়েন্সি (Efficiency)বাড়িয়ে আরো ১০% মজুরী বৃদ্ধিরমোকাবেলা করা সম্ভব স্বাভাবিক ভাবেই। শিল্প মালিকদের সংগঠনের মাধ্যমে সরকারের ওপর চাপ প্রয়োগ অব্যাহত রাখতে হবে যাতে দ্রব্য মূল্য, বাড়ী ভাড়া, তেল, গ্যাস সহ অন্যান্য পণ্যেরে মূল্য স্বাভাবিক মাত্রায় থাকে ও সহনশীল মাত্রায় বৃদ্ধি পায়। নিম্নতম মজুরী বৃদ্ধির আগেই যাতে বাড়ি ভাড়া অসহনীয় মাত্রায় বৃদ্ধি না পায় সেই দিকে সজাগ দৃষ্টি রাখতে হবে সরকার, শিল্প মালিক সংগঠন সহ সংশ্লিষ্ট সকলকে। আবার সংযোগ শিল্পে এখনও অনেক পিছিয়ে থাকার কারণে কাঁচা মাল ক্রয় করতে হয় চীন সহ অন্যান্য প্রতিযোগী দেশ থেকে। সেই কারণে অতিরিক্ত মূল্য, অতিরিক্ত সময় ক্ষেপনের কারণে লীড টাইম (Lead time) নিয়েও অনেক সময় সমস্যায় পড়তে হয়। ইদানিং ক্রেতাবৃন্দ লীড টাইমও (Lead time) কমিয়ে দিচ্ছে ক্ষেত্র বিশেষ কতিপয় ক্রয়াদেশে।উৎপাদনের সময় সঠিক পরিকল্পনার (Accurate planning) অভাব ও সময় মতো কাঁচামাল যোগান না পাওয়ার কারণে ক্রয়াদেশের (Order) তারিখ মতো পোশাক জাহাজীকরণ (Shipment) করা সম্ভব হয় না। ফলে সঠিক সময়ে পোশাক ক্রেতার (Buyer) কাছে পৌঁছানোর জন্য অতি উচ্চ বাড়ায় কার্গো বিমানে (By Air Cargo)পোশাক পাঠাতে হয় গন্তব্যে। গবেষণায় প্রমাণিত হয়েছে যে, এই ভাবে কার্গো বিমানে পোশাক পাঠানোর দরুন কোটি কোটি ডলার ব্যয় হয় এবং অনেক কারখানা কার্গো বিমানের ভাড়ার লোকসান দিতে দিতে পথে বসে গিয়েছে এবং হাজার হাজার শ্রমিকও বেকার হয়েছে। অন্য দিকে আমাদের দেশের শ্রমিক শ্রেণীর সরলতা, স্বল্প শিক্ষা ইত্যাদি কাজে লাগিয়ে দেশীয় ও আন্তর্জাতিক চক্র বিভিন্ন ভাবে শ্রমিকদের দিয়ে আন্দোলন তৈরী করে উৎপাদন ব্যবস্থা ব্যাহত করা সহ আন্তর্জাতিক বাজারে বাংলাদেশের ভাবমূর্তি নষ্ট করার কার্যক্রমপরিচালনা করে যাচ্ছে প্রতিনিয়ত। আবার কিছু অদক্ষ, অসৎ ও নিন্ম মানের শিল্প উদ্যোক্তার কারণে কারখানায় অগ্নিকান্ড, ইমারত ধ্বসের মতো ঘটনা ঘটছে,যে কারণে ক্রেতাগণ আমাদের ওপর চাপ প্রয়োগ করার সুয়োগ পেয়ে যায় এবং পোশাক ক্রয়ের জন্য বাংলাদেশকে অনিরাপদ দেশ বলে প্রায়ই তাঁরা কপালের চামড়ায় ভাঁজ তৈরী করে থাকেন যা আদৌ কাম্য, গ্রহণ যোগ্য ও সহনীয় নয়।

পোশাক শিল্পের ঠেকসই ক্রমোন্নতি অব্যাহতকরণ, ২০২১ সালে ৫০বিলিয়ন রপ্তানির লক্ষ্য মাত্রা অর্জন, বিশ্ববাজারে নিজেদের হিস্যা রক্ষা ও ক্রমাগত রপ্তানি বৃদ্ধি করার জন্য মধ্যম সারির ব্যবস্থাপনা (Mid level management) অতীব গুরুত্ব পূর্ণ মাধ্যম।আশার কথা হলো, দিন দিন উচ্চ শিক্ষিত জনবল এই সেক্টরে প্রবেশ করছে এবং তাদের শ্রম, মেধা-মনন ও কর্ম দক্ষতা দিয়ে এই শিল্প সেক্টরকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে নিরলস ভাবে এবং তারা সফলও হচ্ছে। যদিও বিদেশীদের চাকুরী বাজার এখনোওে এদেশে অনেক রমরমা। বিদেশীদের হাত থেকে স্বর্ণালী এই চাকুরী বাজার উদ্ধার করে এদেশীয় উদ্যোমী, প্রশিক্ষিত, সম্ভাবনাময় তরুণদের সুযোগ দিতে হবে প্রতিনিধিত্ব করার জন্য। তাদেরকেওনৈতিক, কারিগরি, প্রকৌশলগত উৎপাদন ব্যবস্থাপনা, মানবিক, নৈতিক ও পেশাগত আচরণ সহ অন্যান্য কলাকৌশল রপ্ত করে এর প্রয়োগ ও বাস্তবায়নে হতে হবে সুনিপুণ কারিগর। ইংরেজি ভাষায় দক্ষতা অর্জন ও প্রয়োগে আমাদের যে দৈনতা আছে, সেই দৈনতা এখনোও অতিক্রম করা সম্ভব হয়নি। যোগাযোগ ও ব্যবসার অন্যতমএই মাধ্যম, ভাষাগত দৈনতাও কাটিয়ে ওঠতে হবে যথাশীঘ্র।

সময়ের পরিক্রমায় নূন্যতম মজুরী বৃদ্ধি যেমন প্রাসঙ্গিক তেমনি শিক্ষিত ও দক্ষ ব্যবস্থাপনায় প্রকৌশলগত পদ্ধতিতে পোশাক শিল্পের উৎপাদন অব্যাহত রাখতে পারলে নিম্নতম মজুরী বৃদ্ধিরকারণ পোশাক শিল্পের অগ্রযাত্রার জন্য আদৌ কোন সমস্যা বা প্রতিবন্ধকতা নয়। 


লেখক : সমাজ কর্মী ও পরিবেশবাদী

Compliance Manager, CherryField Trading Ltd., Gulshan-2, Dhaka.


 

 

Write a comment

Print Friendly, PDF & Email

এই বিভাগের আরও খবর


আর্কাইভ



error: Content is protected !!