ঢাকা সোমবার, মে ২৭, ২০১৯



পোশাক কর্মীদের হাত ধরেই তৃতীয় বিশ্ব থেকে বেরিয়ে আসছে বাংলাদেশ

আব্দুল আলিম: বাংলাদেশ হেনরি কিসিঞ্জারের সেই নাক সিটকানো তলাবিহীন ঝুড়ি উক্তিটি মিথ্যা প্রমাণ করেছে অনেক আগেই। পাকিস্তান আমাদের সকল অধিকার থেকে বঞ্চিত করেছিল সেদিন আর সমর্থন পেয়েছিল এই মানবতার মুখোশ পরা হেনরি কিসিঞ্জারদের। সেই কিসিঞ্জারদের জীবদ্দশায়ই বাঙালি শুধু স্বাধীন দেশের সংসদেই বসেনি, বাঙালির রক্ত এখন ব্রিটিশ সংসদেও বসছে। অনেকেই পাইপ লাইনে আছেন কিসিঞ্জারের আমেরিকার সংসদে বসবার। বাংলাদেশ আজ অনুন্নত নয়, স্বল্পোন্নত নয়, উন্নয়নশীলদের তালিকায়। সব ঠিকঠাক চললে আর দেশি বিদেশি ষড়যন্ত্র রুখে দিতে পারলে ২০৪১ সালের আগেই পৌঁছে যাবে উন্নত দেশের তালিকায়।

ইদানিংকালের সকল অর্থনীতিবিদের কাছেই বিস্ময় মনে হয়েছে বাংলাদেশের অর্থনীতির দ্রুত এগিয়ে যাওয়া। শত কৃত্রিম আর প্রাকৃতিক বাধা বিঘ্ন থাকা সত্ত্বেও প্রথমবারের মত একটি উন্নয়নশীল দেশের তালিকায় নাম লেখানোর সকল মাপকাঠি অতিক্রম করেছে বাংলাদেশ। স্থায়ীভাবে স্বীকৃতি পেতে এই অবস্থা ধরে রাখতে হবে ২০২৪ সাল পর্যন্ত।

তলাবিহীন ঝুড়ি থেকে আজকে মাথা উঁচু করা বাংলাদেশ গড়তে অবদান রয়েছে বাংলার প্রতিটি মানুষের। তারপরও সবচেয়ে বড় অবদানের স্বীকৃতি কাউকে দিতে হলে সবার আগেই আসবে যাদের নাম তারা হল প্রবাসী আর পোশাক কর্মী। আমি পোশাক কর্মীদের একটু এগিয়েই রাখতে চাই। কারণ তাদের আয়ের বড় অংশ খরচও হয় এ দেশেই যা আবার আরেকজনের আয়ের সাথে সংশ্লিষ্ট ও জিডিপি’তে ইতিবাচক ভুমিকা রাখে। মাথাপিছু গড় আয় ১২৭৪ ডলারে উন্নিত হওয়ার পিছনে এক বিরাট অবদান রয়েছে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ ভাবে প্রায় এক কোটি মানুষের কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করা এই পোশাক শিল্পখাত।

প্রায় ৩০ বিলিয়ন ডলারের এই রপ্তানী শিল্পটিতে সরাসরি কাজ করা মহিলা শ্রমিকগণ ঘুরিয়ে দিয়েছেন বাংলাদেশের রুপ। গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার যতলোকের কর্মসংস্থান করেন সেই সংখ্যার চেয়েও বেশি শুধু মহিলা শ্রমিকের সংস্থান হয়েছে এই শিল্পে। আর পিছিয়ে পড়া এই মহিলাদের কর্মসংস্থানের মাধ্যমেই বাংলাদেশ আজ তার লক্ষে অটল থেকে নাম লিখিয়েছে করেছে উন্নয়নশীল দেশের তালিকায়।

মালিক-শ্রমিকসহ সকলের আন্তরিক প্রচেষ্টায় অর্জিত হবে আমাদের ৫০ বিলিয়ন ডলারের লক্ষ্যমাত্রা। আর তারপরের লক্ষটিই হবে উন্নত বিশ্বের তালিকায় বাংলাদেশের নাম। ২০৪১ সালের মধ্যে উন্নত দেশের নাগরিক হয়েই মাথা উঁচু করে পরিচয় দিতে চাই আমি, আমরা গর্বিত বাংলাদেশের নাগরিক।


আর্কাইভ