ঢাকা সোমবার, নভেম্বর ১৯, ২০১৮



শেফালীদের ঘুরে দাঁড়ানোর গল্প

খন্দকার যোবায়ের: আমাদের সমাজ, সামাজিকতার সম্মানকে অসম্মান করে আজ মুখোশে ভরে গেছে। এখানে আজ মুখের চেয়ে মুখোশের সংখ্যা বেশি। আমাদের চারপাশের মুখগুলো নানা সময়ে, নানান মুখোশের আড়ালে লুকিয়ে রাখে ভয়ংকর এক মুখ। ধনি থেকে গরীব, বিত্তবান থেকে বিত্তহীন, মধ্যবিত্ত থেকে উচ্চবিত্ত, ফুটপাত থেকে অট্টালিকা সব খানেই আজ মুখোশের মহড়া। দেশ, সমাজ ও পরিবার, সবখানেই আজ মুখোশের আড়ালে লুকিয়ে থাকে পিশাচের দারুণ নগ্নতার আরো একটি মুখ। এই একটি জায়গাতেই সাদা-কালো, সুন্দর আর অসুন্দর, অষ্টাদশী যুবতী, নারী, বালক এমনকি তৃতীয় লিঙ্গেরও এখানে কোন বৈষম্য নাই। এখানে কেউ বঞ্চিত, কেউ লাঞ্চিত, কেউ অবহেলিত, কেউ আবার নির্মম নির্যাতিত হচ্ছে প্রতিদিন। এখানে মানবতার কাঁচা হাতে তৈরি করা সম্মান নামক অন্ধকার আর কালো চার দেয়ালের প্রকোষ্ঠে প্রকম্পিত ও প্রতিধ্বনিত হয় নানান আর্তনাদ। দুর্বলের উপর সবলের নগ্নতাকে সর্বোচ্চ জঘন্যভাবে প্রয়োগ করা হয় এখানে। পারিবারিক অপশিক্ষা, বিদেশী অপসংস্কৃতির আগ্রাসন আরো একধাপ এগিয়ে দিয়েছে প্রকৃত মানবতাকে লুন্ঠন করতে। ধনীর দুলালেরা ‘ও’ লেভেল শেষ না করতেই আজ সিসার বার থেকে বের হয়ে উড়ে বেড়ায় শকুনের পাখা মেলে। নিজের জঘণ্য হীনতাকে চরিতার্থ করে খুব সহজেই শহরের নীয়ন আলোতে তাদের বিভৎস মুখগুলো লুকিয়ে মিশে যায় স্বাভাবিক জনস্রোতে

এত কিছুর পরেও নীপিড়িত মানুষের সবাই থেমে যায়না। হেরে যায় না বার বার পরাজিত হয়েও। ভাঙ্গা কোমরের দু-পাশে ইস্পাত কঠিন হাত রেখে অনেকেই অস্ফুট আর্তনাদ করে উঠে দাঁড়ায়, উঠে দাঁড়াতে হয়। দেহের নয়, বরং মনের অদম্য শক্তিই যাদের পূঁজি। কেউ একজন কচি লাউ ডগার মত কোমল হাতে চোখের লোনা জল মুছিয়ে দিবে সে আশা সবাই করে না। যোদ্ধাদের চোখের জল মুছতে নেই। যোদ্ধারা চোখের লোনা জল মুছেনা। সাময়িক সময়ের জন্য নরম মাটির উপর চলার দীপ্ত গতি হয়তো তখন একটু মন্থর হয়ে যায়। অথচ বার বার পরাজিত হয়েও আবার পূর্ণোদ্যোমে এগিয়ে যায় সংগ্রামীরা। এই উঠে দাঁড়ানোর মানুষের সংখ্যা নিতান্তই কম নয়। এমনই নানা প্রতিকুলতার সাথে যুদ্ধ করে চরম প্রতিযোগিতার মধ্য দিয়ে প্রতিনিয়ত এগিয়ে যাচ্ছে আমাদের তৈরি পোশাক শিল্প। প্রায় ৫০ লক্ষ মানুষের সরাসরি সম্পৃক্ততায় সচল রয়েছে আমাদের দেশের অর্থনীতির চাকা। দেশ প্রধানরা আজ ঠান্ডা ঘরে বসে তৈরি করছে আগামীর বাংলাদেশের রুপরেখা। তুলনামুলকভাবে বেশ বড় বড় প্রকল্পের কাজ ইতিমধ্যে শুরু হয়েছে। দেশ প্রধানরা আলাদীনের চেরাগ পায়নি। আমার সোনার অশিক্ষিত, অর্ধশিক্ষিত ও শিক্ষিত কিছু শ্রমিক ভাইবোনদের রক্ত আর ঘামে অর্জিত বৈদেশিক মুদ্রাই আজ দেশ প্রধানদের শক্তি। বিনিময়টা কম নাকি বেশি তা অন্যদিন পাঠকদের কাছে তুলে ধরার পাশাপাশি করব কিছু প্রশ্নও। আজ শেফালীর (ছদ্দনাম) কথা বলতে চাই। আজ শেফালীদের প্রতিনিয়ত যুদ্ধ করে বেঁচে থাকার কথা বলতে চাই।

এক ভাই আর বাবা মাকে নিয়ে ছিলো শেফালীর সংসার। ভাইয়ের বিয়ের পর অন্ধকার গ্রাস করে ফেলে শেফালীদের সংসার। পৃথক হয়ে যায় ভাই। বয়স্ক বাবার একার পক্ষে অসুস্থ্য মা আর একমাত্র মেয়ে শেফালীর পড়ালেখাসহ অনান্য খরচ চালানো সাধ্যের বাইরে চলে যায়। পাশের বাড়ির পারুল ভাবির সাথে ২০১০ সালে গাজীপুরের একটি গার্মেন্টসে অপারেটরের সহকারী হিসাবে চাকুরীজীবন শুরু হয়। শেফালীর মা-বাবাকে গ্রামের মানুষ নানান কথা বলতে থাকে। অথচ এই মানুষগুলোই শেফালীর অনাহারের সময় খবর রাখে নাই। প্রচন্ড জ্বরে যখন গা পুড়ে গেছে, তখন কেউ পথ্য নিয়ে অথবা শান্তনা দুটি কথা বলে নাই। বরং ঘৃণ্য লালোসার লোলুপ দৃষ্টিতে সবসময় থাকতে হয়েছে নজরবন্দি। পাড়ার চাচা মামারাও নানান অজুহাতে গায়ে হাত দিতো শেফালীর। শেফালী সেটা খুব ভালো করেই বুঝতে পারে। ক্রমেই ভালো মানুষের মুখোশগুলো খুলে যেতে থাকে শেফালীর রেটিনার সামনে। শেফালীর ওভার টাইমসহ প্রতি মাসে প্রায় ৪৫০০/= থেকে ৫০০০/= টাকা রোজগার হতো। মাস শেষে সব খরচ বাদ দিয়ে দুই হাজার থেকে পঁচিশ টাকা বাবাকে দিতে পারত। প্রথম যেদিন শেফালীর বাবা শেফালীর পাঠানো টাকা হাতে পেয়েছিলো, সেদিন নাকি শেফালীর বৃদ্ধ বাবা অনেক কেঁদেছিলো।

শেফালী বলে, “কান্নার কি আছে বলেন স্যার ? বাবার তো অনেক খুশিই হওয়ার কথা ছিলো, তাই না ?”
গ্রামের কালো জলের দিঘির মতো গভীর চোখের লোনা জলের প্লাবন মুছে শেফালী বলতে থাকে তার জীবনের গল্প। ২০১৩ সালের বেতন বৃদ্ধির পর নাকি শেফালীর বুকের উপর থেকে একটি পাথর নেমে যায়। শেফালী নতুন করে স্বপ্ন দেখতে শুরু করে। মায়ের জন্য ভালো চিকিৎসার ব্যবস্থা করে শেফালী। বাবার জন্য কিনে দেয় নতুন ভ্যান গাড়ী, যা এখন ব্যাটারি চালিত অটো রিক্সায় পরিণত হয়েছে। শেফালী বলে, “স্যার অনেক দিন গেছে দুপুরে লুকিয়ে সিঙ্গারা খেয়েছি। অন্যরা দেখলে লজ্জা আর করুণার পাত্র হতে হবে ভেবে টিফিন বাটিতে সিঙ্গারা নিয়ে আসতাম। দুপুরের খাবারের নির্দিষ্ট সময়ের একদম শেষদিকে যেতাম খাবার খেতে, যাতে অন্যরা বুঝতে না পারে আমি কি খাচ্ছি।”- শেফালী ওড়নার কোনাটা টেনে এবার নাক মোছে।

অধিকাংশ দিনেই সন্ধ্যা ৭ ঘটিকা পর্যন্ত কাজ করতে হয় শেফালীর। শেফালী এখন অপারেটর। প্রায় সকল প্রসেসই তার এখন জানা। ফ্লোরের লাইনচিফ, সুপারভাইজাররা প্রথম দিকে নানান অজুহাতে শেফালীর সাথে মিশতে চাইত। কিন্তু শেফালীতো মুখোশধারীদের সম্পর্কে একটি ধারণা গ্রাম থেকেই পেয়েছে। সে আরও সতর্ক হয়। নিজেকে সংযত আর নিরাপদে রাখতে আরো সচেতন হয়। ছায়ায় কাজ করতে করতে শেফালী নাকি কিছুটা ফর্সাও হয়েছে। এবারই প্রথম হাসলো সে। একজন লাইনচিফ নাকি বেশ কয়েকবার তাকে বিয়ের জন্য বলেছিলো। নানান দ্বিধায় তখন শেফালী কোন সাড়া দিতে পারে নাই। বার বারই মনে হয়েছে গ্রামে জীর্নকায় মা-বাবার কথা। শেফালী যদি বিয়ে করে তবে তার মা-বাবাকে অথৈ সাগরে ভাসতে হবে ভেবে সে সময় কোন সিদ্ধান্ত নিতে পারে নাই। বুকের গভীরে নিজের অজান্তে ভালোলাগাটা ধীরে ধীরে বেদনায় পরিণত হয়। শেফালী বলে, “কত রাত যে সে কথা ভেবে কেঁদেছি তা বলা সম্ভব না। মাঝে মাঝে মনে হতো আমাকে দিয়ে হবেনা। আমি গ্রামের একজন সাধারণ মেয়ে হয়ে জীবনের এই যুদ্ধে টিকে থাকতে পারব না। পারুল ভাবি আর কমপ্লায়েন্স স্যারের অনুপ্রেরণায় আবার দাঁড়ানোর চেষ্টা করেছি। আমার প্রথম ভালোলাগাকে কবর দিয়ে কঠিন হয়েছি আরো। একসময় বুঝতে পেরেছি জীবনের এই যুদ্ধে আমাকে বাঁচতেই হবে। মা-বাবাকে নিয়ে শান্তির একটি পৃথিবী গড়তেই হবে আমাকে। আমার ভাইকে দেখিয়ে দিবো, তুমি বড় ছেলে হয়েও বাবা-মাকে ফেলে দিয়েছো। আর আমি মেয়ে হয়েও হাল ধরতে চেষ্টা করেছি। মা-বাবার মুখে হাসি ফোটানোর জন্য যুদ্ধ করছি।”

শেফালী বলতে থাকে, “আমি বেশ কিছু টাকা জমিয়ে বাবাকে দিয়েছিলাম একটি গরু কেনার জন্য। যা দিয়েছিলাম, তা যথেষ্ট ছিলোনা। বাবা মাত্র দশ হাজার টাকা সুদে নিয়েছিলো ছগির কাকার থেকে। আমার অসুস্থ্যতা ও ওভার টাইম কম হওয়ার কারনে বেতন কম আসায় আমি সুদের টাকাটা দিতে পারি নাই সঠিক সময়ে। ছগির কাকা আমাদের বাড়িতে এসে মাকে নানান অকথ্য ভাষায় বকাবকি করেছিলো। আমি কাকাকে মোবাইল করে বলেছিলাম আগামী মাসে, দুই মাসের সুদের টাকা একসাথে দিয়ে দিবো। কাকা আমাকেও খারাপ খারাপ কথা বলেছিলো। আমি বলেছিলাম কাকা আমার বয়সের একটি মেয়ে তো আপনারও আছে, আমাকে এসব কথা বলতে আমার মুখে বাঁধেনা কেনো? আমি সেদিন সারারাত কেঁদেছিলাম। সেই টাকা শোধ দিয়েছি। জানেন স্যার আমাদের সেই গরু থেকে একটা ষাঁড় গত কোরবানির ঈদের সময় ৭৫,০০০/= টাকায় বিক্রি হয়েছে। আর সেই ছগির কাকার মেঝো মেয়েকেও আমি নিয়ে এসে চাকরী দিয়েছি আমাদের কারখানায়। আমি একবারের জন্যও ছগির কাকাকে আমার সে দিনের কষ্টের কথা বলি নাই। তবে সেদিনের কথা আমার মনে হলে এখনও কষ্ট লাগে স্যার। মনে হয় ছগির কাকাকে গিয়ে স্মরণ করিয়ে দেই সবকথা। আমার বড় ভাই আমাদের সাথে থাকলে পাড়ার দুষ্টলোকেরা আমার দিকে লালসার দৃষ্টি দিতে পারতনা। মানুষের মুখের আড়ালে লুকিয়ে থাকা প্রকৃত মুখটা দেখার যন্ত্র থাকলে খুব ভালো হতো স্যার।”

সুপারভাইজার, লাইনচিফ বা পিএম সব সময়ই নানান ভাবে লালসার ইঙ্গিত করত। সাড়া না দেওয়াতে অনেক সময়ই নাজেহাল হতে হয়েছে। দুই বার শুধু এ কারণেই কারখানাও পরিবর্তন করেছে শেফালী। কাজের জন্যও অনেক সময় বকাঝকা শুনতে হয়েছে। বর্তমানের কারখানায় এসেও একই সমস্যা হয়েছে। ওয়েলফেয়ার আপাকে বলার পর এখন আর কোন সমস্যা নাই।

সময়ের সাথে তাল মিলিয়ে অনেক পরিবর্তন হয়েছে। শেফালী গ্রামের অনেককেই এনে চাকুরী দিয়েছে। গ্রামের সবাই এখন শেফালীকে আলাদা চোখে দেখে। অতীতের অনেক কথা মনে পরে শেফালীর, আর দারুণ এক ভালোলাগায় মাঝে মাঝে ঘনকালো চোখ দুটি ভিজেও ওঠে তার।

এভাবে সবাই যদি সবার প্রতি এমন সুন্দর আন্তরিক আর সহমর্র্মী হত, তবে বাংলাদেশ হতো পৃথিবী একমাত্র সুখী দেশ। “গ্রামের বাড়িতে বাবার ভিটায় দুইটি রুম করে টিনসেড একটি বাড়িও হয়েছে। মা-বাবা এখন খুব সুখে আছে। বাবাকে এখন টাকা না দিলেও তাদের ভালোভাবেই চলে যায় দিন। তবুও আমি চেষ্টা করি কিছু পাঠাতে। বাবা এখন আমার পাঠানো টাকা দিয়ে আমার নামে ডিপিএস করেছে। আমার পাঠানো টাকা বাবা আর খরচ করেনা। বরং মাঝে মাঝে আমার ভাইকেও দুই/চারশ টাকা দিতে হয়। আমাদের দূর্দিনে বড়ভাই আমাদের সাথে কথাও বলে নাই। এখন মাঝে মাঝেই ফোন করে ভালোমন্দ জিজ্ঞাসা করে।”

পারিবারিক ভাবেই ২০১৬ সালের ২৫ শে নভেম্বর বিয়ে হয়েছে শেফালীর। শেফালীর বরও পাশের একটি গার্মেন্টসে সুপারভাইজার হিসাবে চাকুরী করে। শেফালীর জীবন যুদ্ধের সাথে যোগ হয়েছে আরো একজন যোদ্ধা। শেফালীর দাঁড়ানোর শক্তিতে যোগ হয় আরো একটি হাত। শেফালী তার অসুস্থ্য স্বাশুড়ীকে গাজীপুর এনে অপারেশন করিয়েছে। সেফালীর স্বাশুড়ী এখন সুস্থ্য। স্বশুড়বাড়ির সবাই শেফালীকে অনেক পছন্দ করে। শেফালী দুষ্টমির হাসি হেসে বলে, “কোন কারনে যদি আমাদের স্বামী স্ত্রীর মধ্যে মনমালিন্য হয়, আর সে কথা আমার স্বাশুড়ী যদি জানতে পারেন তাহলে, নিজের ছেলেকেই বকে।” শেফালীর যেন সবচেয়ে বড় একটি আশ্রয়, এর চেয়ে বড় পাওয়া যেন শেফালীর আর কিছু নাই।

শেফালী বলে, “জানেন স্যার গত কোরবানির ঈদে বাড়িতে ফ্রিজ কিনে দিয়েছি। আমার মা অনেক খুশি হয়েছে। রোজার ঈদে নিজেদের জন্য ২৮ ইঞ্চি ওয়ালটন টেলিভিশন কিনেছি কিস্তিতে। আমাদের এখন আর কোন অভাব নাই, হাহাকার নাই। আমার নিজের নামে ও আমার স্বামীর নামে আলাদা ডিপিএস করেছি। এখন আর নির্ঘুম রাত কাটাইনা আগামীকালের খাবারের চিন্তায়। দুইজনের আয়ে তিন বেলা মোটা ভাত আর মোটা কাপড়ে আামদের চলে যায় ভালোই। কারখানাও আগের চেয়ে অনেক ভালো হয়েছে। সবাই এখন নিয়ম মেনে চলার চেষ্টা করে। মানুষ দেখে দেখে অনেক শিখেছে, এখনও শিখছে।”

শেফালীর বাবা-মা এবার তার বাসায় আসলে সে তাদের সাথে আমাকে পরিচয় করিয়ে দিতে চায়। আমার মনে হলো, এটা শুধু পরিচয় নয়। বাস্তবতার যুদ্ধে টিকে থাকা একটি যোদ্ধা পরিবারকে পরিচয় করিয়ে দিতে যায় সেফালী। শেফালীর জীবন যুদ্ধের নেপথ্যে মানুষটার জন্য সে গর্বিত বলেই হয়ত এমন চাওয়া তার। আমি সত্যিই শ্রদ্ধাবনত হয়ে শেফালীর বাবার সাথে সাক্ষাত করতে চাই। শত প্রতিকুলতার মধ্যেও শেফালীর বাবা শেফালীকে গ্রামে ফিরে যেতে বলে নাই। পিছন থেকে শেফালীকে টেনে ধরে নাই। নানান প্রতিকুলতায় বুকের ক্ষতকে চেপে ধরে স্বপ্ন দেখিয়েছে সুন্দর আগামীর।

এই শেফালীদের গল্প একদিনে বলে শেষ হবেনা, শেষ হবারও নয়। আমার এই লেখাটি পাঠকরা যখন পড়বে তখন আমার এই আবেগ তাদেরকে তাড়িত করবে কিনা জানা নাই। তবে, আমি শিখেছি শেফালীর কাছ থেকে। আমি জেনেছি কিভাবে প্রতিকুল অবস্থায় টিকে থাকতে হয়। নিজের সম্মান বাঁচিয়ে কিভাবে চলতে হয় কাঁকর বিছানো এলোমেলো জীবনের পথে। শেফালীরা হারেনা কখনই। শেফালীরা টিকে থাকে অথচ কোন গল্প, উপন্যাস বা কোন প্রবন্ধে শেফালীদের প্রকাশ ঘটে না। নিভৃতেই থেকে যায় শেফালীদের সাফল্যগাঁথা। শেফালীরা বেঁচে থাক। শেফালীরা ভালো থাক।

লেখক : সহকারী ব্যবস্থাপক (এইচআর এন্ড কমপ্লায়েন্স), নীট প্লাস লিমিটেড, মৌচাক, গাজীপুর। 

Write a comment

Print Friendly, PDF & Email

এই বিভাগের আরও খবর


আর্কাইভ



error: Content is protected !!