ঢাকা মঙ্গলবার, নভেম্বর ২১, ২০১৭


ইংরেজিতে দক্ষতা এবং এপ্রোপ্রিয়েট ইন্টারভিউয়ের গুরুত্ব

ওয়ালিদুর রহমান: কয়েকদিন আগে ফেসবুক ও লিংকডইনে ইংরেজির প্রয়োজনীয়তা এবং সিরিয়াস ইন্টারভিউ এর যৌক্তিকতা নিয়ে একটা প্রশ্ন করেছিলাম। প্রচুর মানুষ তাতে রিপ্লাই করেছেন। একটা বড় অংশই ছিলেন যারা মনে করেন ইংরেজিতে দক্ষতা থাকাটা তেমন জরুরী না কিংবা সব জবের জন্য এসেনশিয়াল না। কেউ কেউ ইংরেজির দক্ষতা চাওয়াটাকেই অহেতুক মনে করেন। সবাইকে ধন্যবাদ মন্তব্য করার জন্য। সবাইকে আলাদা আলাদা উত্তর না দিয়ে ভাবলাম সবগুলোকে নিয়ে একটা পোষ্ট দিই। আপনারা পক্ষে বিপক্ষে অনেক যুক্তি দিয়েছেন। সবার প্রতি পূর্ণ সম্মান রেখেই আমি ওই বিষয় দুটোর প্রতি আমার মতামতটি বলছি।

একটা পুরোনো মুভি দেখেছিলাম-ইংলিশ ভিংলিশ। শ্রীদেবী’র বোধহয় এটা সেরা মুভিগুলোর একটা যেখানে তিনি ইংলিশ না জানায় নাস্তানাবুদ হওয়া আর শেখার বিভিন্ন সংগ্রাম করেন। ইংরেজি শেখার গুরুত্ব-আমার খুব বোরিং একটা খাসলত যা নিয়ে বহু মানুষ আমার উপর বিরক্ত। বহুকাল আগে একবার একটা কোম্পানীর মার্কেটিং এর লোকেরা তাদের একটি টেকনোলজি সংক্রান্ত প্রোডাক্ট’র ডেমো দেবার জন্য এলো। সংশ্লিষ্ট ডিপার্টমেন্টের সব অফিসার তাদের বসসহ প্রেজেন্টেশনে হাজির। ঘন্টাখানেক ইংরেজিতে পাওয়ারপয়েন্ট প্রেজেন্টেশন দিলেন বিদেশী প্রেজেন্টার। আমি খেয়াল করলাম পুরো পেজেন্টেশনে পিনপতন নিরবতা। শ্রোতারা সব গভীর মনোযোগে কথা শুনছে। এমনিতে নামাজের মধ্যেও মানুষ দেখি কাশি টাশি দেয়। অথচ এই পুরো একঘন্টা কেউ একটা কাশিও দেয়নি। আমি মুগ্ধ হলাম তাদের মনোযোগ দেখে। পেজেন্টেশন শেষ হবার পর বিদেশী প্রশ্ন করল-এনি কোয়েশ্চেন? রুমে পিনপতন নিরবতা। আবার প্রশ্ন-এনি কোয়েশ্চেন? রুমে এবার কবরেরও নিরবতা। তো প্রশ্নকর্তা এবার নিজেই তার প্রেজেন্টেশনের খুটিনাটি সম্মন্ধে শ্রোতাদের মতামত জানতে চাইলেন। শ্রোতারা এবার একে অন্যের মুখের দিকে তাকাতে শুরু করলেন। এতক্ষণে কাহিনী বোঝা গেল রুমের অস্বাভাবিক নিরবতার। উপস্থিত ব্যক্তিবর্গের কেউই ইংরেজিতে দেয়া প্রেজেন্টেশনের ছিটেফোঁটাও বোঝেন নি। ইংরেজি প্রশ্নও নয়। কী বিচিত্র এই দেশ? ন্যুনতম ইংরেজি জ্ঞান না থাকার পরও বিভাগীয় প্রধান।

অনেক মানুষ আমার উপরে খুব বিরক্ত হয় যখন আমি মানুষদের ইংরেজি জানার জন্য জোর দিই, ইংরেজি শেখার কথা বারবার বলি। কেন বলি নিশ্চই বুঝতে পারছেন? তবে দুর্মূখেরা উল্টো বলে, দেখেন, ইংরেজিতে সামান্য দাড়ি কমা ভুল করাতেই না বাংলাদেশ ব্যংকের রিজার্ভের সব টাকা ডাকাতরা হ্যাক করে নিতে পারল না। তাই ভূল ইংরেজিই তো ভাল। একজন ইকোনোমিক্সে মাস্টার্স হোল্ডার এসেছিলেন ইন্টারভিউ দিতে। ইন্টারভিউ শুরু করতেই তিনি বললেন, আমাকে ইংরেজিতে প্রশ্ন করলে পারব না, ইংরেজিতে লিখতে পারব না। কথা না বাড়িয়ে সংক্ষেপে বলি কেন দরকার ইংরেজির দক্ষতা:

১. ইংরেজি দরকার কি দরকার না-সেটা নির্ভর করে পজিশনের উপরে। আপনি যদি এমন একটা পজিশনে চাকরী করতে চান যেখানকার কাজের ধরনটাই হল ইংরেজি লাগে (বিশেষত এক্সিকিউটিভ হোয়াইট কলার জব) তবে আপনার জন্য ইংরেজিটা সারভাইভাল, কম্পিটেন্সি, প্রতিযোগীতা ও প্রেস্টিজ ইস্যু। দেশের ১০০ ভাগ মানুষকে ইংরেজিতে সুদক্ষ হতে হবে না। শুধু যাদের জব বা ব্যাবসার ন্যাচার অনুযায়ী দরকার তাদের কথা বলা হচ্ছে।

২. বিভিন্ন বায়ার অডিট ফেস করা এবং নিত্যনতুন মডার্ন প্রাকটিসের জন্য যে পরিমান কনটেন্ট লিখতে হয় সেটা করতে কতটা বেশি শুদ্ধ ইংরেজি জানা দরকার? ক্লারিক্যাল কাজ হতে ডেভেলপমেন্টাল কাজের মুল্যায়ন বেশী হয়ে থাকে। ডেভেলপমেন্টাল কাজ করতে কনটেন্ট ডেভেলপ করা তথা ইংরেজি লাগে।

৩. ইংরেজিতে যথেষ্ট দক্ষতা না থাকলে পড়ার জগত বা শেখার আগ্রহটা কমে যায় অটোমেটিক্যালি কারন এখনো আন্তর্জাতিক ভাষা হিসেবে ইংরেজির মার্কেট শেয়ার বেশি। নলেজের উৎসের সিংহভাগ ইংরেজিতে। যদি ইংরেজি না জানি, তাতে করে জানার জগতটা ছোট হয়ে যাবে এবং স্বাভাবিকভাবেই জানতে চাওয়ার আগ্রহটা সীমিত হয়ে যাবে। যদি কারো কোল্ড এলার্জি থাকে, স্বাভাবিকভাবেই তিনি আইসক্রিমের বিজ্ঞাপন দেখলে আগ্রহ বোধ করবেন না। আগ্রহ না থাকলে সংগ্রহও কমে যায়।

৪. একদম মারমার কাটকাট করে যদি বলি ইংরেজি কেন দরকার তাহলে বলব-কমিউনিকেশন, করেসপনডেন্স, কনটেন্ট রাইটিং, রিপোর্টিং, ফরেন ডিপেনডেন্সি, ফরেন নেটওয়ার্কিং, ফরেন ট্যুর, ডাটা মেইনটেইনিং, প্রেজেন্টেশন/ডেমোনেস্ট্রেশন, প্রোগ্রামিং, নেগোশিয়েশন-এই কাজগুলোর কোনোটা যদি আপনার জবের সাথে রিলেটেড হয় তবে আপনাকে ইংরেজি জানতে হবে।

৫. অনেকে মাতৃভাষার জন্য আমাদের রক্তদানের কথা স্মরন করিয়ে বলতে চান, যদি ইংরেজিই সব হয় তবে কেন ভাষা আন্দোলনে জীবন দিলাম কিংবা সর্বস্তরে বাংলা ভাষার প্রচলনের দাবীর তাহলে কী হবে? ভাষা আন্দোলন করেছিলাম বাংলাকে রাষ্ট্রভাষা বহাল রাখার জন্য। বাংলা কেন্দ্রীক জাতিসভ্যতার অস্তিত্ব রক্ষার জন্য। মায়ের ভাষার সম্মান ধরে রাখতে। ইংরেজিকে বিতাড়িত করতে নয়। আর বাংলাকে সর্বরকমে প্রমোট করব এমনিতেই। তার জন্য ইংরেজিকে অস্বীকার করার সুযোগ তৈরী হয়না। বাংলাকে দরকার আমাদের আত্ম-পরিচয়ের স্বার্থে, বাঙালিত্ব’র স্বার্থে। ইংরেজির দরকার সম্পূর্ন কমার্শিয়াল স্বার্থে। ভাষা আন্দোলনের থীমের সাথে ইংরেজি জানার কোনো বিরোধ নেই। বাংলাকে পূর্ণ মর্যাদা ও অগ্রাধিকার দিয়েও ইংরেজি শিখতে হবে।

৬. আন্তর্জাতিক মার্কেটে ভাষা হিসেবে ইংরেজির মার্কেট সবচেয়ে বেশি এবং এটি সারা পৃথিবীতে সবচেয়ে কমোনলি এভেলেবল ভাষা। তাই আন্তর্জাতিক পরিমন্ডলে ব্যবসা, বানিজ্য, যোগাযোগ, বিনিময়, শিক্ষা, গবেষনা-এগুলোর দরকারে ইংরেজি জানা লাগে। ঠিক যেমন ইউএস ডলারের প্রয়োজনীয়তা। সারা পৃথিবীতে ওটার ব্যবহার।

৭. কেউ কেউ চায়নিজ, কোরিয়ান বা জাপানীজদের ইংরেজি না জানা স্বত্ত্বেও উন্নতি করাকে যুক্তি হিসেবে দেখান। ওয়েল, আমি কখনোই বলি না, উন্নতি (অর্থনৈতিক) করতে হলে ইংরেজি জানতেই হবে বিশেষত সারা দেশের সব মানুষের। ইংরেজি জানতে হবে নির্দিষ্ট কিছু দরকারে এবং নির্দিষ্ট কাজের মানুষদের। চায়নিজরা ইংরেজি না পেরেও অর্থনৈতিক সুপার পাওয়ার হয়েছে ঠিকই কিন্তু তারাই কিন্তু যখন ইংরেজি ভাষী কোনো প্রতিষ্ঠান বা দেশের সাথে বিজনেস ডিলের প্রশ্ন আসে তখন দোভাষী অবশ্যই সাথে নেয়। তো ইংরেজিকে কিন্তু তারা অস্বীকার করতে পারছে না। আর সমস্ত চায়নিজরা বাই ডিফল্ট ইংরেজি নির্বাসনে দিয়েছে এ কথা কে বলল ভাই?

৮. কেউ কেউ বলেন, ইংরেজি লাগবে না। কমিউনিকেশন করতে পারলেই হল। “আরে ভাই ধুমাইয়া মার্কেটিং জব করছি, ইংরেজি না জেনেই, জাপানীদের সাথে কাজ করি ইংরেজি না জেনেই” ইত্যাদি। ওয়েল, যদি আপনাকে ইউএসএতে বা অষ্ট্রেলিয়ায় মার্কেটিং করতে হয় তখন কী করবেন? বাংলায় করবেন? আর চায়নিজদের সাথে যদি আপনি ইংরেজি না জেনেই কাজ করে থাকেন তো তাদের সাথে কথা বলেন কোন ভাষায়? তারা বাংলায় বলে, না আপনি চায়নিজ বলেন? যদি তারা বাংলায় বলে বা আপনি চায়নিজে, তবে তো আপনি মেনেই নিলেন যে বিদেশী ভাষা জানার দরকার আছে। আর সেক্ষেত্রে সর্বাধিক প্রচলিত বিদেশী ভাষা হিসেবে ইংরেজিই যদি শেখেন তো ক্ষতি কী? আর যদি বলেন, কোনো ভাষাতেই না, বাংলা ইংরেজি চায়নিজ, ইশারা-সবকিছু মিলিয়ে একরকম যোগাযোগ রক্ষা করে কাজ চালাই তাহলে ভাবুন, সব কাজই কি ওভাবে চালাতে পারবেন?

৯. কাজ বোঝাতে পারলেই তো হল, কাজ উদ্ধার হলেই তো হল, কমিউনিকেট করতে পারলেই তো হল, ইংরেজি বড় কথা নয়-এমন যুক্তি দেন অনেকে। হ্যা, কাজ উদ্ধার হওয়া নিয়েই কথা। তবে কাজটা যদি এমন হয় যেখানে আপনাকে ইশারায় কাজ চালালে হবে না, যেমন মনে করুন, আপনাকে আপনার প্রোডাক্ট বা সার্ভিসের উপর একটা পাওয়ার পয়েন্ট প্রেজেন্টেশন দিতে হবে বিদেশী বায়ার বা ডেলিগেটসের সামনে, তখন কী করবেন?

১০. ডাটাবেসের প্রয়োজনীয়তা তো জানেন? তো যদি আপনার প্রতিষ্ঠানের জন্য একসেল শীটেও ডাটা রাখেন সেটা কি বাংলায় রাখতে পারবেন? ইংরেজি লাগবে না?

১১. ইংরেজি জানা বলতে আপনাকে ইংরেজির জাহাজ হতে বলা হচ্ছে না। সুপার IELTS or GMAT স্কোর চাওয়া হচ্ছে না। শুধুমাত্র ইংরেজিতে স্পোকেন, লেখা, ইংরেজি পড়া ও বোঝার দক্ষতাকে বোঝানো হচ্ছে।

১২. ”ইংরেজীতে দক্ষ এবং সিরিয়াস ইন্টারভিউ তে উত্তীর্ণ হওয়ার পরে ও অনেকে কাজ পারে না”-এই যুক্তি দিয়েছেন কেউ কেউ। ওয়েল, সেটা কি ইংরেজি জানার দোষে? তার জন্য কি ইংরেজি শেখা বন্ধ করে দেব? আর আপনাকে কে বলল, শুধু ইংরেজি জানাই দক্ষতার একমাত্র ইন্ডিকেটর বা ইন্টারভিউয়ার শুধু ইংরেজি জানলেই প্রার্থীকে যোগ্য বলে মনে করেন? ইংরেজি জানা অনেক যোগ্যতার একটি মাত্র। সাথে আরো যোগ্যতা লাগে।

১৩.কেউ কেউ মনে করেন তারা রবীন্দ্রনাথের পিতামাতামহের দৃষ্টান্ত অনুসরন করবেন “আগে চাই বাংলা ভাষার গাঁথুনি, এরপর ইংরেজির পত্তন।” ওকে, এখানে কিন্তু ইংরেজি শিখতে না করা হয়নি। আগে বাংলাকে শিখে তারপর ইংরেজিতে দক্ষতা বৃদ্ধির কথা বলা হয়েছে। রবীন্দ্রনাথ কিন্তু তার গীতাঞ্জলি কাব্যের বাংলা রূপের জন্য নোবেল পাননি। পেয়েছেন যখন ইংরেজিতে কনভার্ট করে লেখা হয়েছে (আমার ভুলও হতে পারে)। ভাই, সহজ ব্যাপার, আপনি যদি শুধু বাংলা শেখাকেই যথেষ্ট মনে করেন, তবে আপনি চাকরীর বাজারে শুরুতেই প্রতিযোগীতায় পিছনে পড়বেন কারন এখনকার দিনে ছেলেমেয়েরা রীতিমতো ২/৩ টি ভাষা রপ্ত করছে যার মধ্যে ফ্রেঞ্চ, জার্মানও আছে।

১৪.অনেকে বলবেন, ইংরেজি তো জাস্ট একটি ভাষা, ইংরেজিতো জ্ঞান নয়, নিজের মাতৃভাষা বাদ দিয়ে ইংরেজি নিয়ে কেন পড়লাম? তাছাড়া কেউ কেউ বলেন, ইংরেজি নিয়ে এত মাতামাতি করার জন্যই কি ভাষা আন্দোলন করেছিলাম? ভাই, আমি চাকরীর বাজারের বাস্তবতার কথা বলছি। আবেগ বা নৈতিকতা নয়। যিনি বা যেই কোম্পানীরা চাকরী দেবে তারা যদি ইংরেজিতে দক্ষতা খোঁজেন আর আপনি মাতৃভাষার দোহাই দিয়ে অভিমান করে ইংরেজিকে দুরে সরাতে চান-তাহলে কী করার?

১৫.সবশেষে, একজন বলেছেন, ”যে দেশে মানুষের পেটে ভাত জোটে না, সেদেশে ইংরেজি শিখে কী হবে?” ভাই, পেটে ভাত যোগাতে যা যা করতে হবে সেগুলো করতে গেলে অনেকগুলো কাজেই ইংরেজি লাগবে।
দ্বিতীয় আরেকটি ইস্যুতে প্রশ্ন করেছিলাম যে, চাকরী দাতাদের কী করা উচিৎ-প্রোপার/আধুনিক/সিরিয়াস/টেকনিক্যাল ইন্টারভিউ করা উচিৎ নাকি প্রার্থীদের শুধু সিভিটা দেখেই চাকরীতে নিয়োগ করা উচিৎ। অনেকেই সিরিয়াস ইন্টারভিউ কথাটাকে ভুল বুঝেছেন। সিরিয়াস বলতে আমি কোয়ালিটি বা স্মার্ট বা সময়োপযোগী বা কাজের সাথে উপযুক্ত ইন্টারভিউকে বুঝিয়েছিলাম। অবশ্যই ভিন্ন ভিন্ন জবের ইন্টারভিউ ভিন্ন ধরনের হবে। অনেকেই সাজেষ্ট করেছেন, ইন্টারভিউ নেবার তেমন আবশ্যকতা নেই। সরাসরি প্রার্থী নিয়োগ করা হোক। প্রাকটিক্যাল কাজ দেখে তারপর রাখা না রাখার সিদ্ধান্ত নেয়া হোক। এটা নিয়ে কোনো বিতর্ক না করে বলছি, এভাবে বিনা ইন্টারভিউতে লোক নিয়োগ পৃথিবীতে কোথাও হয়না। সম্ভবও না। কোনো ইন্টারভিউ না করে এমপ্লয়ার কিভাবে নিয়োগ করবেন-লটারী করে নাকি আগে আসলে আগে পাবেন? আর যদি ইন্টারভিউ ছাড়া লোক নেয়ার কথা বলেন, তাহলে তো বিসিএস বন্ধ করতে হবে, ইউনিভার্সিটির এডমিশন টেষ্ট বন্ধ করতে হবে, টিচার নিয়োগে সাক্ষাতকার বন্ধ করতে হবে। ইন্টারভিউ ছাড়া নিয়োগ-আপনি বলেন, কিভাবে তাহলে লোক নিয়োগ হবে? আর ”শুধুমাত্র মাস্টার্স পাশ”-এটা কোনো চাকরীপ্রার্থীর চাকরী পাবার বা অফিসার হবার নিয়ামক হতে পারে না। বাংলাদেশের বর্তমান মাস্টার্সের গুনগত মানের অবস্থাতো জানেনই। ভাল কথা, বাংলাদেশেই এখন পিএইচডি বিক্রি হয় যেটা কিনতে আগে বিদেশ যেতে হত।

কেউ কেউ বলেছেন, ইন্টারভিউতে ভাল মানেই এমপ্লয়ী ভাল নয়। হ্যা অবশ্যই। কিন্তু তাতে ইন্টারভিউ করার গুরুত্ব তো কমে যাবে না। ভাল কোম্পানীর এইচআর হলে তিনটি দিক বিবেচনায় নিয়ে প্রার্থীর উপযুক্ততা বিচার করে: ১.একাডেমিকস মানে লেখাপড়ার রেজাল্ট, ভাষাগত দক্ষতা, করেসপনডেন্স স্কিল, লেখার ক্ষমতা ইত্যাদি। ২.ফিজিক্যাল ও মেন্টাল ফিটনেস এবং সার্বিক এক্সপোজার ৩.বুদ্ধিমত্তা, এপিয়ারেন্স, এটিচুড, স্মার্টনেস, তাৎক্ষনিক বুদ্ধি, ব্যবহার ইত্যাদি। এই তিনটি স্কেলে যোগ্য বিবেচিত হলেই তবেই তাকে এক্সিকিউটিভ চাকরীর জন্য বিবেচনা করা হয়। একজন স্মার্ট জব ক্যান্ডিডেটের ভেতরে আমরা কী কী যোগ্যতা খুঁজব? তার উত্তরে বিভিন্ন সোর্স হতে যে উত্তর পেয়েছি তা হল: স্মার্ট ক্যান্ডিডেট তাকে বলব যার মধ্যে এই বৈশিষ্ট আছে: communication skill, body language, eye contact, intelligence, presentation skill, gesture, posture, motivation for the job, appearance, knowledge about subject matter, skill of expressing self, specific, measurable, attainable, realistic, time bound, informed, positive and visionary।

বলবেন, ওরে বাবা, এত গুণ থাকতে হলে তো চাকরীই হবেনা। নারে ভাই, এত গুন থাকতেই হবে না। ইন্টারভিউয়ার এগুলো মাথায় রেখে ইন্টারভিউ করেন। প্রত্যেক প্রার্থীর সত্যিকার অবস্থা যাচাই করেন, এরপর তুলনামুলক যারা এগিয়ে থাকেন তাদের নেন। প্রোপার ও পরিপূর্ণ ইন্টারভিউ তাই এতটা জরুরী।

লেখক : এইচ আর প্রফেশনাল

Write a comment

এই বিভাগের আরও খবর

Share on Facebook0Share on Google+0Tweet about this on TwitterShare on LinkedIn0Email this to someonePrint this page

Like us on Facebook