ঢাকা মঙ্গলবার, নভেম্বর ২১, ২০১৭


ঈদে ঘরে ফেরা নিরাপদ ও নির্বিঘ্ন করতে প্রয়োজন সচেতনতা আর কর্তৃপক্ষের কঠোর নজরদারী

তৌহিদুল ইসলাম চঞ্চল : রোমেছার ঈদ ভ্রমণের পর যানজটের কারণে পোশাক শিল্পের কর্মকর্তাদের কর্মঘণ্টা নষ্ট হওয়ার বিষয়টি লিখলাম। লিখতে গেলে মাঝে মাঝে উৎসাহ হারিয়ে ফেলি কার উদ্দেশ্যে লিখছি এই ভেবে। জনমানুষের সমস্যা, এই দুঃখ কষ্টের বিষয়গুলি আমরাতো লিখেই যাচ্ছি কিন্তু আসলেই কি তা গন্তব্যে পৌঁছাচ্ছে! নাকি এই বার্তা নিউজ পোর্টালগুলির সার্ভারের মাধ্যমে আকাশে বাতাসে ভেসে বেড়াচ্ছে! সমস্যাগুলো যে কারও অজানা নয় তাওতো ভাবা অবান্তর। তবে কি জেনেও না জানার কৌশলটা আমরা ভাল শিখে গেছি? যাক সেসব কথা। কেউ শুনুক আর না শুনুক আমাদের তো লিখে যেতেই হবে, কে জানে এতে হয়তো কষ্ট কিছুটা লাঘব হলেও হতে পারে। ঐ যে কথায় আছেনা- “দুঃখ শেয়ার করলে দুঃখটা একটু প্রশমিত হয়”। তবে তা আদৌ হয় কিনা সেক্ষেত্রেও একটা বিতর্ক আছে।

আসি আজকের বিষয়ে, আমার বন্ধু পাভেল আমায় ফোন করে জিজ্ঞাসা করলো, “দোস্ত বাড়ী যাবি না? টিকেট করেছিস? কবে যাবি?” ওর এই প্রশ্নে আমি আমার উত্তর দেয়ার পর ও যা বলল তা শুনে আমার চোখের সামনে ভেসে আসলো লক্ষ লক্ষ শ্রমিক আর কর্মকর্তা কর্মচারীদের মুখ! পাভেল জানালো, ওর বোন কিছুদিন আগে বাড়ী গিয়েছিল আসতে লেগেছে ১৬ ঘণ্টা! স্বাভাবিক সময় কোন উৎসব কোন ঘটনা দুর্ঘটনা নেই ৭/৮ ঘণ্টার পথ কেন এতো সময় লাগলো ওকে জিজ্ঞাসা করলে ও জানালো, বগুড়ার আশেপাশে একটি সেতু আর টাঙ্গাইল থেকে যমুনা সেতু রাস্তায় একটি সেতু মোট দুটি সেতু ভগ্নপ্রায়। যার ফলে সে এলাকায় প্রচণ্ড যানজট হয়। এছাড়া রাস্তার দশাও বেহাল। এখানে সেখানে ছাল চর্মহীন কঙ্কালসার অবস্থা। বৃষ্টির কারণে পথঘাঁটের বাজে অবস্থা।


আরও পড়ুন : বেহাল রাস্তা ও জ্যামের ফাঁদে নষ্ট হচ্ছে কর্মঘন্টা ও ব্যক্তিগত সময়


প্রাকৃতিক দুর্যোগের কারণে কিছু কিছু জায়গায় রাস্তাঘাট ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছে আর এটা ঠিক করতে যদি পর্যাপ্ত ও কার্যকরী ব্যবস্থা গ্রহণ না করা হয় তবে, আগামী ৩০ তারিখ থেকে আমার শ্রমিক কর্মকর্তা ভাই বোনেরা যখন বাড়ী অভিমুখে যাত্রা শুরু করবে তখন কি বেহাল দশা হবে তা ভেবে কুলকিনারা পাইনা! এমনিতেই ঈদের সময় এই রাস্তায় যে পরিমাণ যানজট ও চাপ পরে তার সাথে যোগ হল এই নতুন সমস্যা! হায়! আমিতো কল্পনায় দেখছি ২ দিনেও বাড়ী পৌঁছানো যাবে কিনা সন্দেহ!

আমি সম্ভাবনার কথা বলছি আর নিশ্চয় তা অমূলক নয়। অতীতে বহুবার এমন পরিস্থিতির মুখোমুখি হয়েছি আমরা। বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে দেখি চলমান যানের ছবি দিয়ে বলছে এবার যাত্রা নির্বিঘ্ন আর নিজে যখন মাঠে নামি সকলে একত্রে একটি গানই গাই, “গাড়ী চলে না , চলে না , চলে না রে গাড়ী চলেনা” যদিও লেখক এই গাড়ী বলতে মানবদেহকে বুঝিয়েছেন কিন্তু উদাহরণ তো দেয়া যেতেই পারে।


আরও পড়ুন : একজন পোশাক শ্রমিক রোমেছা আর তার ঈদভ্রমণ


আশাকরি কর্তৃপক্ষ একটি সুন্দর পরিকল্পনার মাধ্যমে আমাদের ঈদ ভ্রমণ একটু শান্তিময় করবেন। এমনিতেও ৬/৭ দিন ছুটি তার ২ দিন যদি যায় পথে, হাতে আর রইলো কি? এই মুহূর্তে নিজেকে বড্ড অসহায় মনে হচ্ছে কারণ এক্ষেত্রে আমাদের করার কিছুই থাকে না। যাদের করার কথা, দেখি- তারা কি করেন। ছেড়ে দিলাম বিবেকের উপর।

গতবার ঈদের ছুটিতে যাত্রাপথে বেশকিছু জায়গায় সড়ক দুর্ঘটনায় আমাদের বেশকিছু শ্রমিক ভাইবোন প্রাণ হারিয়েছেন এবং প্রায় প্রতিবারই সড়ক দুর্ঘটনা হয়। যারা আজ অবধি দুর্ঘটনায় প্রাণ হারিয়েছেন তাদের সকলের রুহের মাগফেরাত কামনা করছি।

এক্ষেত্রে কারখানার এইচআর ও এডমিন বিভাগের কর্মকর্তাদের প্রতি আমার একটা অনুরোধ, আপনারা এবার ঈদের ছুটি দেয়ার আগে শ্রমিক ভাইবোনদের এই সড়ক দুর্ঘটনার কথা মনে করিয়ে, তাদেরকে চলার পথে ও চলাচলের যান নির্ধারণে সতর্ক থাকার পরামর্শ দিন। যেন তারা কিছু টাকা বাঁচাতে গিয়ে বা উপায় অন্তঃ না পেয়ে মালবাহী ট্রাক, ট্যাঙ্কলরী, কিংবা মহাসড়কে তিন চাকার কোন যানে যেন যাতায়াত না করেন। আমরা বললে হয়ত তারা কিছুটা সচেতন হলেও হতে পারে। আমার যতদূর মনে পরে মহাসড়কে সিএনজি, অটোরিকশা চলাচল নিষিদ্ধ কিন্তু তবুও প্রতিবার বাড়ী যাবার সময় দেখতে পাই। এটা কেন বন্ধ হচ্ছে না সেটাও ভাববার বিষয়। আশাকরি কর্তৃপক্ষ এ সকল কিছু সুনজরে আনবেন।

সকলের ঈদ ভ্রমণ নিরাপদ ও নির্বিঘ্ন হোক এই কামনা রইলো।

লেখক : মানবসম্পদ প্রশিক্ষক

Write a comment

এই বিভাগের আরও খবর

Share on Facebook0Share on Google+0Tweet about this on TwitterShare on LinkedIn0Email this to someonePrint this page

Like us on Facebook