ঢাকা মঙ্গলবার, নভেম্বর ২১, ২০১৭


ঈদের আগে বেতন বোনাসঃ প্রতিশ্রুতি নয়, শ্রমিকের প্রাপ্য অধিকার সময়মত বুঝিয়ে দিন

আব্দুল আলিম : পুরো এক মাস রোজার পর মুসলিম দুনিয়া পালন করবে পবিত্র ঈদ উল ফিতর। সকলের মত শ্রমিকের ঈদ আনন্দও একই রকম হবার কথা থাকলেও অতিরিক্ত আনন্দে প্রয়োজনীয় অতিরিক্ত অর্থের যোগান আসবে যে বোনাস থেকে সেই বোনাস সময়মত না পাওয়ার আশঙ্কায় থাকতে হয় প্রতিবছরই। রমজানের প্রথম সপ্তাহেই রাজধানীর বড় বড় বিপনি বিতানে পা ফেলার জায়গা নেই, আর শেষ সপ্তাহে যেন তিল ধারণের জায়গা থাকবেনা। উঁচু তলার লোকেরা যখন ঈদ উদযাপনের সকল প্রস্তুতি শেষ করে ঈদের বাঁকা চাঁদ দেখার অপেক্ষায় থাকেন তখন আমাদের পোশাক শ্রমিকরা মালিকের দয়ার দিকে তাকিয়ে থাকে। কবে হবে বোনাস? ঈদের আগে বেতনটাও হবে কিনা এই প্রশ্ন যেন পুরো রমজান জুড়েই কারখানার বাতাসে ভাসতে থাকে। তবু থেমে থাকেন না পোশাক শিল্পের এই সুনিপুণ কারিগরেরা। মালিকের প্রতি অগাধ আস্থা রেখে রোজা রেখেই চালিয়ে যান তাদের কাজ।

বরাবরের মত এবারও এসেছে প্রতিশ্রুতি। ২০ রোজার মধ্যেই মিলবে বেতন বোনাস। বিশ্বাস করতে চাইলেও মনের কোণে সন্দেহ বাসা বাঁধার যথেষ্ট কারন আছে। শত প্রতিশ্রুতি থাকা সত্ত্বেও ইতিপূর্বে কবে কোন ঈদে পোশাক শিল্পের সকল শ্রমিক সময়মত  বেতন-ভাতা নিয়ে হাসিমুখে ঈদের ছুটিতে স্বজনের কাছে যেতে পেরেছিল তা মনে করা কঠিন। এবারও ব্যতিক্রম হয়নি প্রতিশ্রুতিতে। তবে এবার আমরা ব্যতিক্রম দেখতে চাই প্রতিবারের ধারাবাহিক ব্যর্থতার। ব্যর্থতার ধারাবাহিকতা ভেঙ্গে এবার বিজিএমইএ এর নেতৃত্ব সফলতার সাথে তাদের প্রতিশ্রুতির বাস্তবায়ন করবে আর এর ফলশ্রুতিতে দেশের মুল চালিকাশক্তি এই পোশাক খাতের খেটে খাওয়া শ্রমিকেরা পরিবারের সাথে হাসিমুখে ঈদ উৎসব করবে এটাই জাতি আশা করে।

মাথাপিছু আয় ১৬৫০ ডলারে উন্নীত হওয়ার পেছনে সবচেয়ে বড় অবদান শ্রমিকদের। দেশে পোশাক খাতে এবং বিদেশে বিভিন্ন খাতে খেটে খাওয়া সেই শ্রমিকদের কল্যাণে উন্নত দেশ হওয়ার স্বপ্ন দেখা এই দেশের শ্রমিক শ্রেণীই শোষিত হয় বারবার। বিশ্ব অর্থনীতিতে মন্দার পরেও দেশের অর্থনীতির চাকা ভালভাবেই চালু রেখেছে যে খাত সেই শিল্পের কারিগরদের আমরা প্রতিবছর ঈদের আগে পরিবারের সাথে ঈদ করার মানবিক দাবীতে রাস্তা আটকিয়ে আন্দোলন করতে দেখতে চাই না। মালিকপক্ষের অন্যায় আচরণে কারণে শ্রমিকরা যখন রাস্তায় নেমে আসবে ঠিক তখনি একটি চরম সুবিধাবাদী মহল তাদেরকে আরও ক্ষেপিয়ে তুলে মালিকদের জিম্মি করবে। আর মালিক পক্ষ তখন শ্রমিকদের সাথে দেনা পাওনা না মিটিয়ে তৃতীয় পক্ষের সাথে বসে মিটমাট করে। তাতে শ্রমিকের পাওনা সম্ভাবনা ক্ষীণ হয়ে যায় আর ফায়দা লুটে শ্রমিকের বন্ধু নামক সেই তৃতীয় পক্ষ যারা সব সময় পোশাক শিল্পকে অস্থির দেখতে চায়।

এবার রোজার শুরুতেই মালিক সংগঠনের পক্ষে ঘোষণা এসেছে, ঘোষণা আসবে সরকারের পক্ষ থেকেও। তবে ঘোষণার চেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হল শ্রমিকের প্রাপ্য অধিকার সময়মত বুঝিয়ে দেয়া। ব্যর্থতার বৃত্ত থেকে বেরিয়ে এসে শ্রমিকদের অধিকার নিশ্চিতের মাধ্যমে এই শিল্পকে টেকসই করতে এখনই কার্যকর পদক্ষেপ নিয়ে ঝুঁকিপূর্ণ কারখানা চিহ্নিত করে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ গ্রহণ করতে হবে।

লেখক : সম্পাদক ও প্রকাশক, দি আরএমজি টাইমস

Write a comment

এই বিভাগের আরও খবর

Share on Facebook0Share on Google+0Tweet about this on TwitterShare on LinkedIn0Email this to someonePrint this page

Like us on Facebook