ঢাকা মঙ্গলবার, নভেম্বর ২১, ২০১৭


অবশেষে হাইকোর্টের নির্দেশে লিবার্টি ফ্যাশন পরিদর্শনে যাচ্ছে অ্যাকর্ড

ফজলুল হক, নিজস্ব প্রতিনিধি : অবশেষে হাইকোর্টের নির্দেশে লিবার্টি ফ্যাশন পরিদর্শনে যাচ্ছে তৈরি পোশাক খাতের কারখানা সংস্কারকাজ পরিদর্শনকারী ইউরোপের ক্রেতা জোট প্রতিষ্ঠান অ্যাকর্ড অন ফায়ার অ্যান্ড বিল্ডিং সেফটি (অ্যাকর্ড)। আগামী ২২ মার্চ লিবার্টি ফ্যাশনের কারখানাটি পরিদর্শনে যাবে অ্যাকর্ড।

‘লিবার্টি ফ্যাশন একটি শতভাগ রপ্তানিমুখী প্রতিষ্ঠান। এ ছাড়া বিশ্বের সব ধরনের আধুনিক সুযোগ-সুবিধাসম্পন্ন এ কারখানা সম্পূর্ণ কমপ্লায়েন্স। ১৪ বছর ধরে ব্রিটিশ ক্রেতা প্রতিষ্ঠান টেসকোর সঙ্গে ব্যবসা করে আসছিল। ২০১৩ সালে রানা প্লাজা ধসের পরের মাসে টেসকোর প্রকৌশলী সংস্থা মিডওয়ে কনসালট্যান্সি সার্ভিসকে (এমসিএস) দিয়ে আশুলিয়া থানার জিরানী বাজার এলাকায় ‘লিবার্টি ফ্যাশন ওয়্যারস লিমিটেড’লিবার্টির কারখানা ভবন মারাত্মক ঝুকিঁপূর্ণ ঘোষণা করে। এমসিএস প্রতিবেদন দিয়ে বলেছিল, ‘কারখানার ২ নম্বর ভবনটি ঝুঁকিপূর্ণ। ৬০ ঘণ্টার মধ্যেই ধসে পড়বে।’ এর পরপরই টেকসোর কর্তৃপক্ষ লিবার্টি থেকে পোশাক না কেনার ঘোষণা দেয়। একই সঙ্গে অন্য ১১ ক্রেতাপ্রতিষ্ঠানকে বিষয়টি ই-মেইলের মাধ্যমে জানিয়ে দেয় টেসকো। তখন ওই সব ক্রেতাও লিবার্টির ক্রয়াদেশ বাতিল করে। কিন্তু কারখানাটি পরবর্তীতে বিভিন্ন পক্ষের পরিদর্শনে ত্রুটি নেই বলে বলা হয়।

টেসকো ইউরোপীয় ক্রেতাদের জোট অ্যাকর্ড অন ফায়ার অ্যান্ড বিল্ডিং সেফটি ইন বাংলাদেশের সদস্য। বাণিজ্য মন্ত্রণালয় ও বিজিএমইএ লিবার্টিতে নতুন করে পরিদর্শন কার্যক্রম চালাতে অ্যাকর্ডের কর্মকর্তাদের অনুরোধ করে। তবে অ্যাকর্ড তা করবে না বলে জানিয়ে দেয়। অ্যাকর্ডের যুক্তি, জোট গঠিত হওয়ার আগেই লিবার্টির সঙ্গে ব্যবসায়িক সম্পর্ক ছিন্ন করে টেসকো এবং কোনো সদস্য ক্রেতা প্রতিষ্ঠান লিবার্টির নাম সুপারিশ না করলে তাদের চুক্তি অনুযায়ী কিছুই করার নেই। এরপর অ্যাকর্ডের বিরুদ্ধে হাইকোর্টে মামলা করে লিবার্টি কর্তৃপক্ষ।

গত ২ মার্চ ২০১৭ তারিখে ঐ মামলার রায় প্রকাশ করে হাই কোর্ট। রায়ে অ্যাকর্ডকে অবিলম্বে লিবার্টি ফ্যাশনের কারখানাটি পরিদর্শন করে সকল রিপোর্ট অ্যাকর্ডের ওয়েব সাইটে প্রকাশ করতে এবং এর সদস্য ক্রেতা প্রতিষ্ঠানগুলোকে জানাতে আদেশ করে হাইকোর্ট।

ঐদিন অ্যাকর্ডের ক্রেতাজোট প্রতিষ্ঠানের সাথে ব্যবসায়িক সম্পর্ক ছিন্ন হওয়া আরও দুইটি পোশাক কারখানা ইন্টারলুপ বাংলাদেশ ও হেসং নীটওয়্যার লিমিটেড পক্ষেও রায় প্রকাশ করে হাই কোর্ট।   ইন্টারলুপ বাংলাদেশের জন্য ৮ সপ্তাহ ও হেসং নীটওয়্যার এর ২১ মার্চ পরবর্তী শুনানী হওয়ার আগ পর্যন্ত ব্যবসায়িক সম্পর্ক বাতিলের সিদ্ধান্ত স্থগিত করার নির্দেশ দেয় আদালত। 

লিবার্টি ফ্যাশনের চেয়ারম্যান ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক মোজাম্মেল হক বলেন, ভবনটি বাংলাদেশের বিল্ডিং কোর্ড ও স্ট্যান্ডার্ড যথাযথভাবে মেনে গড়া হয়েছে। এমসিএস কর্তৃক পরিদর্শনের পরে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান কারখানাটি পরিদর্শন করে নিরাপদ ঘোষণা করেছে। কিন্তু অ্যাকর্ড আমাদের কারখানাটি পরিদর্শন না করে আগের রিপোর্টকে সমর্থন করে। পরে হাইকোর্টে মামলা করা হলে আদালত অ্যাকর্ডকে কারখানা পরিদর্শনের জন্য আদেশ করেন। আগামী ২২ মার্চ অ্যাকর্ড কারখানা পরিদর্শনে আসবে। আশা করছি, লিবার্টি ফ্যাশন নিরাপদ কারখানা হিসেবে চিহ্নিত হয়ে অবিলম্বে উৎপাদন কার্যক্রম শুরু করবে। 

আইনী পরামর্শদানকারী প্রতিষ্ঠান “Attoneys”  এর কর্ণধার ও উক্ত তিন প্রতিষ্ঠানের নিয়োগকৃত আইনজীবি এডভোকেট জাফরুল হাসান শরিফ বলেন,  অ্যাকর্ড নেদারল্যান্ডের আমস্টারডামের নিবন্ধিত প্রতিষ্ঠান। তাই প্রতিটি মামলা নেদারল্যান্ডের কোর্টে করা হয়েছিল। কিন্তু পরবর্তীতের অ্যাকর্ডের আবেদনের প্রেক্ষিতে বাংলাদেশের হাইকোর্টে স্থানান্তরিত হয়। 

তিনি বলেন, লিবার্টি ফ্যাশন যেহেতু অ্যাকর্ডের তালিকাভূক্ত সদস্য প্রতিষ্ঠানের জন্য তৈরী পোশাক সরবরাহ করতো সেহেতু অ্যাকর্ড কোনোভাবেই কারখানাটি পরিদর্শন করতে অস্বীকার করতে পারে না।  হাইকোর্টের রায়ে আমরা সন্তুষ্ট।

তিনি আরও বলেন, অ্যাকর্ডের নীতিমালায় আইনের আশ্রয় নেয়ার কোনো বিধান নেই। কিন্তু এটা সরাসরি মানবাধিকার লংঘন। প্রত্যেকটি সিস্টেমে কোর্টে আবেদন করার সিস্টেম থাকা উচিত। 

উল্লেখ্য যে, লিবার্টি ফ্যাশন বিগত ৩০ বছর ধরে ব্যবসা করে আসছে। ২০ বিঘা জমির ওপর অবস্থিত কারখানার মধ্যে ৩ লাখ বর্গ ফুট কাজের উপযোগী জায়গানহ ওয়েট প্রসেস, ড্রাই প্রসেস, অ্যাম্ব্রয়ডারি, ইয়ার্ন ডাইং, আধুনিক ইটিপি, কাটিং, সুইং, ফিনিসিং, ২০ লাখ গজ কাপড় ধারন ক্ষমতা সম্পন্ন স্টোর, ডে-কেয়ার, কেন্টিন, কারখানায় ৩৫ ফুট প্রসস্ত রাস্তা ১২ লাখ লিটিার পানি ধারণ ক্ষমতাসম্মন্ন পানির ট্যাঙ্কসহ সব ধরনের সুযোগ-সুবিধা রয়েছে। এছাড়া গত ১৪ বছর ধরে টেসকোর সঙ্গে ব্যবসা করছে।

Write a comment

এই বিভাগের আরও খবর

Share on Facebook0Share on Google+0Tweet about this on TwitterShare on LinkedIn0Email this to someonePrint this page

Like us on Facebook