ঢাকা সোমবার, ফেব্রুয়ারী ২৬, ২০১৮



ঢাকা অ্যাপারেল সামিট বর্জন করছে পোশাক শিল্পের শীর্ষস্থানীয় পাঁচ ব্র্যান্ড

ডেস্ক রিপোর্ট : বাংলাদেশ তৈরি পোশাক প্রস্তুত ও রফতানিকারক সমিতি (বিজিএমইএ) আয়োজিত ‘ঢাকা অ্যাপারেল সামিট’ এ অংশগ্রহণ করবে না বলে জানিয়েছে ৫টি শীর্ষস্থানীয় ক্রেতা প্রতিষ্ঠান।  প্রতিষ্ঠানগুলো হলো, এইচ অ্যান্ড এম, ইন্ডিটেক্স (জারা), সি অ্যান্ড এ, নেক্সট  ও টিচিবো। নেদারল্যান্ডসভিত্তিক আন্তর্জাতিক শ্রম সংগঠন ক্লিন ক্লথস ক্যাম্পেইনের ওয়েবসাইটে বুধবার এই খবরটি প্রকাশ করা হয়।  

তারা বলেছে যে এইচঅ্যান্ডএম, ইন্ডিটেক্স (জারা), সিঅ্যান্ডএ, নেক্সট ও চিবোর মতো বড় ব্র্যান্ডের এই নজিরবিহীন ঘটনার কারণে বাংলাদেশ সরকার ও বিজিএমইএ বিব্রতকর অবস্থায় পড়বে। এর মাধ্যমে পোশাক খাতের শ্রমিক অধিকার নিশ্চিত করার বিষয়ে আন্তর্জাতিক মহলের উদ্বেগ বাড়বে।

এই প্রতিষ্ঠানগুলি ছাড়াও বিভিন্ন পোশাক কোম্পানি, ট্রেড ইউনিয়ন এবং এনজিওদের নিয়ে তৈরি জোট এথিকাল ট্রেডিং ইনিশিয়েটিভ (ইটিআই)ও এতে অংশ নিচ্ছে না। ইটিআই বিশ্বজুড়ে শ্রমিকের অধিকারের মর্যাদাকে তুলে ধরে।  বিগত দুই মাস ধরে পোশাক শিল্প শ্রমিকদের আন্দোলনে বাংলাদেশ সরকার এবং কারখানা মালিকরা যে দমন পীড়ন চালিয়েছে তা বন্ধের আহ্বান জানিয়ে করা প্রচারণায় সাড়া দিয়ে প্রতিষ্ঠানগুলো এই সিদ্ধান্ত নেয়। এই কোম্পানিগুলি প্রতি বছর বাংলাদেশি পোশাক নির্মাতাদের কাছ থেকে বিলিয়ন ডলারের পোশাক ক্রয় করে থাকে।

বাংলাদেশি পোশাক শিল্পের বার্ষিক প্রদর্শনী ঢাকা অ্যাপারেল সামিট অনুষ্ঠিত হবে ২৫ ফেব্রুয়ারি। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এতে অংশগ্রহণ করবেন।  প্রখ্যাত ব্র্যান্ডগুলোর ঢাকা অ্যাপারেল সামিট থেকে নাম প্রত্যাহার করে নেয়ার নজিরবিহীন এই ঘটনা বাংলাদেশ সরকার এবং বিজিএমইএ’র জন্য বিব্রতকর একটি অবস্থার সৃষ্টি করেছে। এই বয়কটের মাধ্যমে বাংলাদেশ পোশাক শিল্পে শ্রমিক অধিকারের ক্রমাবনতির বিষয়টি নিয়ে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের উদ্বেগের বিষয়টি তুলে ধরা হয়েছে।

গত বছরের ডিসেম্বরে বেতন বাড়ানোর জন্য আশুলিয়ার পোশাক শ্রমিকরা শান্তিপূর্ণ বিক্ষোভ করে। এই বিক্ষোভে ব্যাপক দমন পীড়ন চালায় সরকার। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত দুই মাস ধরে ৩৪ জন শ্রমিক ইউনিয়ন নেতা, সংগঠক এবং পোশাক শ্রমিকদের গ্রেফতার এবং আটক করা হয়। এছাড়া অন্তত ১ হাজার ৫০০ জন শ্রমিককে চাকরিচ্যুত করা হয়। সম্প্রতি পুলিশ বেশ কয়েকটি ট্রেড ইউনিয়নের কার্যালয় বন্ধ করে দিয়েছে।  

ক্লিন ক্লথস ক্যাম্পেইনের মিরিয়াম ভ্যান হিউটেন জানান, নেতৃস্থানীয় পোশাক ব্র্যান্ডগুলি ঢাকা অ্যাপারেল সামিট বয়কটের মাধ্যমে বিজিএমইএ এবং বাংলাদেশ সরকারকে পরিষ্কারভাবে এই বার্তাই দিতে চায় যে আটক ব্যক্তিদের মুক্তি না দিলে, তাদের বিরুদ্ধে আনা মিথ্যা অভিযোগ প্রত্যাহার না করলে এবং ট্রেড ইউনিয়নের নেতাদের হয়রানি বন্ধ না করলে তারা পোশাক শিল্পের টেকসই প্রবৃদ্ধির জন্য আয়োজিত এ ধরনের অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণ করবে না।

Write a comment

Print Friendly, PDF & Email

এই বিভাগের আরও খবর


Like us on Facebook