ঢাকা মঙ্গলবার, ডিসেম্বর ৬, ২০২২



২০২৫ সালের মধ্যে শিশুশ্রম মুক্ত দেশ গড়তে কাজ করছে সরকার

ডেস্ক রিপোর্ট: ২০২৫ সালের মধ্যে দেশের সকল সেক্টর থেকে শিশুশ্রম মুক্ত করতে আন্তরিকভাবে কাজ করছে সরকার। তবে এ বিষয়ে বৈশ্বিক সহায়তা ও সম্মিলিত উদ্যোগ প্রয়োজন। এ লক্ষ্য বাস্তবায়নে শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয় বদ্ধপরিকর।

৮ জুন, বুধবার সুইজারল্যান্ডের জেনেভায় শিশুশ্রম নিরসন বিষয়ক এক উচ্চ পর্যায়ের বৈঠকে শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের সচিব জনাব মোঃ এহছানে এলাহী একথা বলেন। শিশুশ্রম নিরসনে বাংলাদেশের অর্জনের হালনাগাদ তথ্য ও স্ট্যাটাস সভায় উপস্থাপন করেন শ্রম সচিব।

সভায় মোঃ এহছানে এলাহী বলেন, বাংলাদেশ সংবিধানে জবরদস্তিমূলক শ্রম নিষিদ্ধ করা হয়েছে। এছাড়া বাংলাদেশ শ্রম আইনের ধারা ৩৪-এ শিশুশ্রম নিষিদ্ধ করা হয়েছে। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নির্দেশনায় এবং শ্রম প্রতিমন্ত্রী বেগম মন্নুজান সুফিয়ান, এমপি এর তত্ত্বাবধানে শিশুশ্রম নিরসনে শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয় এবং কলকারখানা ও প্রতিষ্ঠান পরিদর্শন অধিদপ্তর (ডাইফ) আন্তরিকভাবে কাজ করছে।

সারাদেশে শিশুশ্রম নিরসন প্রক্রিয়া জোরদারকরণ এবং শিশুশ্রম নিরসন তদারকি করার জন্য শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের শিশুশ্রম নিরসন বিষয়ক শাখাকে ইউনিটে রূপান্তরিত করার পরিকল্পনার কথা বলেন শ্রম সচিব।

ডাইফ মহাপরিদর্শক (অতিরিক্ত সচিব) জনাব মোঃ নাসির উদ্দিন আহমেদ বলেন, কাজে যোগদানের ন্যূনতম বয়স সম্পর্কিত আইএলও কনভেনশন ১৩৮ অনুসমর্থন করেছে বাংলাদেশ। শিশুশ্রম নির্মূল সংক্রান্ত জাতীয় কর্মপরিকল্পনা (২০২১-২০২৫) প্রণয়ন করা হয়েছে। ইতোমধ্যে ইউনিসেফের সাথে এ সংক্রান্ত একটি সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষর করা হয়েছে। কর্মজীবী শিশুদের প্রত্যাহারের উদ্দেশ্যে শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয় কর্তৃক জাতীয় শিশুশ্রম নির্মূল নীতি-২০১০ প্রণয়ন করা হয়েছে। বর্তমানে এই নীতি হালনাগাদের কাজ চলমান রয়েছে।

ডাইফ মহাপরিদর্শক জানান, অধিদপ্তরের ঢাকা জেলার ‘কেরানীগঞ্জ উপজেলার’ সকল সেক্টর থেকে শিশুশ্রম নির্মূলের জন্য দুই বছরের কর্মপরিকল্পনা (২০২২-২০২৩) প্রস্তুত করা হয়েছে। এছাড়াও, সারা দেশের সমস্ত সেক্টর থেকে শিশুশ্রম নির্মূলের জন্য এক বছরের (২০২২) কর্মপরিকল্পনা তৈরি করা হয়েছে৷

জনাব মোঃ নাসির উদ্দিন আহমেদ বলেন, সমন্বিত কার্যক্রমের মাধ্যমে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে শিশুশ্রম নির্মূল করা সম্ভব হবে বলে বিশ্বাস করি।

সভায় আইএলও’র প্রতিনিধিগণ ইতোমধ্যে শিশুশ্রম নিরসনকৃত সেক্টরগুলোতে মনিটরিং জোরদারকরণের উপর গুরুত্ব প্রদান করেন। শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের ‘শিশুশ্রম নিরসন বিষয়ক ইউনিট’ প্রতিষ্ঠায় সহযোগিতা এবং বাংলাদেশের সকল সেক্টর থেকে শিশুশ্রম নিরসনের মাধ্যমে বাংলাদেশকে শিশুশ্রম নিরসনের মডেল হিসেবে প্রতিষ্ঠা করা জন্য সার্বিক সহযোগিতা করার প্রতিশ্রুতি প্রদান করে আইএলও।

সভায় অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন শ্রম অধিদপ্তরের মহাপরিচালক (অতিরিক্ত সচিব) খালেদ মামুন চৌধুরি এনডিসি। শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের যুগ্মসচিব মোঃ হুমায়ুন কবীর, মহিলা শ্রমিক লীগের সভাপতি সুরাইয়া আক্তার, আইএলও’র সলিউশন অ্যান্ড ইনোভেশন ইউনিটের প্রধান ফ্রান্সেসকো ডিঅভিডিও, সিনিয়র গবেষণা বিশেষজ্ঞ ফেডেরিকো ব্লাংকো, এশিয়া প্যাসিফিক অঞ্চলের টেকনিক্যাল স্পেশালিস্ট নাদাইন ওসেইরান, ভার্চুয়ালি সংযুক্ত ছিলেন আইএলওর ফান্ডামেন্টাল প্রিন্সিপালস অ্যান্ড রাইটস বিশেষজ্ঞ ইনসাফ নিজাম, আইএলও বাংলাদেশের ন্যাশনাল প্রোগ্রাম কোঅর্ডিনেটর সৈয়দা মুনিরা সুলতানা প্রমুখ।

Comments


আর্কাইভ