ঢাকা রবিবার, এপ্রিল ১৮, ২০২১



কর্মক্ষেত্রে যৌন হয়রানি প্রতিরোধ ও সুরক্ষা আইন প্রণয়ন এবং আইএলও কনভেনশন ১৯০ অনুসমর্থনের আহ্বান

ডেস্ক রিপোর্ট: কর্মক্ষেত্রে যৌন হয়রানি প্রতিরোধ ও সুরক্ষা বিষয়ে হাইকোর্টের নির্দেশনা রয়েছে তাই এ বিষয়ে আইন প্রণয়ন এবং যথাযথ বাস্তবায়ন এবং আইএলও কনভেনশন ১৯০ অনুসমর্থন জরুরি বলে অভিমত ব্যক্ত করেছেন ট্রেড ইউনিয়ন, নাগরিক সমাজ ও মানবাধিকার সংগঠনের নেতৃবৃন্দ। জেন্ডার প্ল্যাটফর্ম বাংলাদেশ এর উদ্যোগে “কর্মক্ষেত্রে যৌন হয়রানি প্রতিরোধ ও সুরক্ষা আইন প্রণয়ন এবং আইএলও কনভেনশন ১৯০ অনুসমর্থন” শীর্ষক পরামর্শ সভায় আজ ৩১ মার্চ, ২০২১ রাজধানীর বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব লেবার স্টাডিজ-বিলস্ সেমিনার হলে বক্তারা এ অভিমত ব্যক্ত করেন।

বিলস্ উপদেষ্টা পরিষদ সদস্য মেসবাহউদ্দীন আহমেদ এর সভাপতিত্বে সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য শিরীন আখতার, এমপি। বাংলাদেশ লেবার ফেডারেশনের নির্বাহী পরিচালক আশরাফ উদ্দীন এর সঞ্চালনায় সভায় স্বাগত বক্তব্য রাখেন আওয়াজ ফাউন্ডেশনের নির্বাহী পরিচালক নাজমা আক্তার। আরো বক্তব্য রাখেন জাতীয় শ্রমিক ফেডারেশনের সভাপতি কামরূল আহসান, গৃহশ্রমিক অধিকার প্রতিষ্ঠা নেটওয়ার্কের ভারপ্রাপ্ত সমন্বয়কারী আবুল হোসাইন, ফেয়ার ওয়্যার ফাউন্ডেশনের কান্ট্রি রিপ্রেজেন্টেটিভ বাবলুর রহমান, বাংলাদেশ জাতীয় শ্রমিক ফেডারেশন সভাপতি শামীম আরা, কর্মজীবী নারীর পরিচালক (প্রোগ্রাম) সানজিদা সুলতানা, শ্রমিক কর্মচারী ঐক্য পরিষদ-স্কপ প্রতিনিধি মোঃ আব্দুল ওয়াহেদ এবং পুলক রঞ্জন ধর, বিলস্ নির্বাহী পরিষদ সদস্য নাসরিন আক্তার ডিনা প্রমুখ।

সভায় আইএলও কনভেনশন-১৯০ বিষয়ক ধারণাপত্র উপস্থাপন করেন বিলস্ পরিচালক নাজমা ইয়াসমীন এবং কর্মক্ষেত্রে যৌন হয়রানি প্রতিরোধ সুরক্ষা বিষয়ক প্রস্তাবিত আইন (খসড়া) উপস্থাপন করেন আওয়াজ ফাউন্ডেশনের আইন উপদেষ্টা নাহিদা আনজুম কনা। সভায় জাতীয় ট্রেড ইউনিয়ন ফেডারেশন, মানবাধিকার ও শ্রমিক অধিকার সংগঠনের নেতৃবৃন্দ, নাগরিক সমাজের প্রতিনিধিবৃন্দ, নীতি নির্ধারক, সরকারি ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তাবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।

বাংলাদেশের সংবিধানে সকল নাগরিকের মানবাধিকারের কথা বলা আছে উল্লেখ করে প্রধান অতিথির বক্তব্যে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য শিরীন আখতার, এমপি বলেন, কর্মক্ষেত্রে যৌন হয়রানি প্রতিরোধ ও সুরক্ষা আইন প্রণয়ন করা দরকার কারন এটা শুধুমাত্র নারীদের জন্য নয়, এটা সকলের জন্য প্রযোজ্য। তিনি বলেন নারীরা পূর্বের তুলনায় অনেক সচেতন কিন্তু এ সচেতনতা তখনই কাজে আসবে যখন পুরুষরাও সমান সচেতন হবে। তিনি আরো বলেন প্রত্যেকটা সংগঠন তাদের নিজ নিজ প্রতিষ্ঠানে আইনের বাস্তবায়ন কতটুকু হচ্ছে তার দিকে নজর দেয়া উচিত।

সভায় বক্তারা বলেন, সকলকে নিজ নিজ অবস্থান থেকে দৃষ্টিভঙ্গির পরিবর্তন করতে হবে। কর্মক্ষেত্রে যৌন হয়রানি প্রতিরোধ ও সুরক্ষা আইন ও আইএলও কনভেনশন-১৯০ বাস্তবায়নের সকলকে সম্মিলিতভাবে কাজ করার আহ্বান জানান বক্তারা।

যৌন হয়রানির বিরুদ্ধে দেশে পেনাল কোডে আইন রয়েছে উল্লেখ করে সভাপতির বক্তব্যে বিল্স উপদেষ্টা পরিষদ সদস্য মেসবাহউদ্দীন আহমেদ বলেন, শুধুমাত্র আইন হলেই হবে না তা বাস্তবায়ন এবং প্রয়োগ থাকতে হবে। এর জন্য সকলকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে হবে। পাশাপাশি সচেতনতা বৃদ্ধির জন্য অ্যাডভোকেসি এবং প্রচারের ব্যবস্থা করতে হবে।

Comments


আর্কাইভ