ঢাকা বৃহস্পতিবার, ডিসেম্বর ৩, ২০২০



ভিয়েতনাম ও কাতার ফেরত শ্রমিকদের ৫৪ ধারায় আটকের ঘটনায় শ্রমিক নিরাপত্তা ফোরামের উদ্বেগ

ডেস্ক রিপোর্ট: গত ১ সেপ্টেম্বর ২০২০ তারিখে ভিয়েতনাম থেকে প্রতারিত হয়ে ফিরে আসা ৮১ জন এবং কাতার ফেরত ২ জন প্রবাসী শ্রমিক কে আটক করে কারাগারে প্রেরণ করার ঘটনায় শ্রমিক নিরাপত্তা ফোরাম-এসএনএফ গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে।

গণমাধ্যমে প্রকাশিত সংবাদের ভিত্তিতে জানা যায়, পুলিশ এই শ্রমিকদের বিরুদ্ধে সঙ্গবদ্ধভাবে সরকার ও রাষ্ট্রবিরোধী কর্মসূচি গ্রহণের সলাপরামর্শ করার অভিযোগ এনেছে। পুলিশের বক্তব্য এই আটকৃত শ্রমিকরা বিভিন্ন অপরাধে জড়িত থাকায় সাজাপ্রাপ্ত হয়ে ভিয়েতনামের কারাগারে ছিলেন। তারা আর্ন্তজাতিক পরিমন্ডলে বাংলাদেশের ভাবমূর্তি ক্ষুন্ন করেছেন। অথচ ভিয়েতনাম ফেরত ভূক্তভোগী শ্রমিকদের ভাষ্যমতে, ভিয়েতনামে তারা কোন অপরাধ এর সাথে সংযুক্ত ছিলেন না। তারা মুলত প্রতারিত হওয়ার বিষয়ে বাংলাদেশী দূতাবাসে অভিযোগ জানাতে গিয়েছিল এবং সেখানে তারা অবস্থান নিয়েছিলেন।

বৈদেশিক কর্মসংস্থান ও অভিবাসী আইনের ২৯(১) ধারা অনুযায়ী, কোন অভিবাসী শ্রমিক বিদেশ গিয়ে কোন বিপদের সম্মুখিন হলে তার প্রতিকারের জন্য দূতাবাসের সহযোগিতা পাবার অধিকার রাখে এবং কোন রিক্রুটিং এজেন্টের অবহেলা বা বেআইনী কার্যক্রমের কারণে কোন অভিবাসী শ্রমিক বিপদগ্রস্ত হইয়া থাকলে উক্ত শ্রমিককে দেশে ফিরিয়ে আনার খরচ বহন করার নির্দেশ দিতে পারবে সরকার।

তবে এখন পর্যন্ত সরকার প্রতারণার জন্য দায়ী রিক্রুটিং এজেন্ট বা দালালকে বিচারের আওতায় এনেছে বলে জানা নেই বলে জানায় এসএনএফ।

অন্যদিকে, ভিয়েতনামের প্রতারিত অভিবাসী শ্রমিকরা প্রচলিত সব নিয়ম-কানুনই মেনে এবং সরকারের জনশক্তি, প্রশিক্ষণ ও কর্মসংস্থান ব্যুরো (বিএমইটি)-এর ছাড়পত্র নিয়ে প্রবাসে গিয়ে নানা হয়রানির শিকার হন। প্রতিকারের আশায় দূতাবাসে গিয়েও কোন প্রকার সহযোগিতা না পেয়ে খালি হাতে দেশে ফিরে আসার পর গ্রেফতারের মাধ্যমে রাষ্ট্রীয় নিপীড়নের শিকার হয়েছেন, যা পুরোপুরি মানবাধিকারের লঙ্ঘন।

এছাড়া, কোভিড-১৯ মহামারীকালীন সময়ে, যেখানে কারাগার থেকে বিশেষ বিবেচনায় কয়েদীদের মুক্তি দেয়া হচ্ছে, সেখানে সুনির্দিষ্ট অভিযোগ ছাড়া এইসব শ্রমজীবী মানুষকে কারাগারে বন্দী রাখা যুক্তিযুক্ত নয়।

শ্রমিক নিরাপত্তা ফোরামের পক্ষ থেকে নিম্নোক্ত দাবী জানানো হয়:

১. অবিলম্বে অন্যায়ভাবে আটক ভিয়েতনাম ফেরত ৮১ জন শ্রমিককে মুক্তি দিতে হবে;

২. প্রতারনা সাথে জড়িত দায়ীদের গ্রেপ্তার এবং প্রতারনায় যুক্ত রিক্রুটিং এজেন্ট এর বিরুদ্ধে আইনী ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে;

৩. প্রতারিত ও নিঃস্ব হওয়া শ্রমিককে উপযুক্ত ক্ষতিপূরণ দিয়ে পুনর্বাসন করতে হবে;

৪. অভিবাসী আইনের ২৭ ধারা অনুসারে সকল প্রবাসী শ্রমিকের বিনামূল্যে সরকারীভাবে আইনী সহায়তা প্রদান করতে হবে;

৫. বাংলাদেশী দূতাবাসগুলো কে প্রবাসী শ্রমিকদের কল্যাণে কাজ করার জন্য প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দিতে হবে এবং প্রবাসী শ্রমিকদের হয়রানি রোধে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করতে হবে;

শ্রমিক নিরাপত্তা ফোরাম উপরোক্ত বিষয়ের আশু সুরাহা এবং গ্রেপ্তারকৃত শ্রমিকদের যাতে অবিলম্বে মুক্তি, প্রতারিত ও নিঃস্ব হওয়া শ্রমিককে উপযুক্ত ক্ষতিপূরণ দিয়ে পুনর্বাসন করার প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য সরকারের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ বিশেষ করে প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ও আইন মন্ত্রণালয়ের বিশেষ হস্তক্ষেপ প্রত্যাশা করছে। একইসাথে এরূপ ঘটনার পুনরাবৃত্তি যাতে না হয় সে বিষয়ে প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়, বিএমইটি, বোয়েসেল এবং বিদেশে অবস্থিত বাংলাদেশ দূতাবাসসমূহের শ্রম উইং-সহ সকল সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ আন্তরিক থাকবেন বলে আশা করছে।

Comments


আর্কাইভ