ঢাকা বুধবার, ডিসেম্বর ২, ২০২০



সংকটকালীন সময়ের জন্য শ্রমিকদের সামাজিক সুরক্ষায় প্রয়োজন প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামো ও স্থায়ী মানদন্ড

ডেস্ক রিপোর্ট: সংকটকালীন সময়ে শ্রমিকদের সামাজিক সুরক্ষা নিশ্চিকরণে একটি প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামো ও স্থায়ী মানদন্ড প্রয়োজন বলে অভিমত ব্যক্ত করেছেন গবেষক, নাগরিক সমাজের প্রতিনিধি এবং ট্রেড ইউনিয়ন নেতৃবৃন্দ। বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব লেবার স্টাডিজ-বিল্স এর উদ্যোগে অনুষ্ঠিত “কোভিড-১৯ এবং শ্রমিকের সামাজিক সুরক্ষা: সংকট উত্তরণে সমন্বিত এবং টেকসই সমাধানের পথ অন্বেষণ” শীর্ষক ওয়েবিনারে গত ১৮ জুলাই ২০২০ বক্তারা এ অভিমত ব্যক্ত করেন।

কোভিড-১৯ এর কারনে শ্রমজীবী মানুষের সামাজিক সুরক্ষা বিষয়ক ঘাটতি এবং অসহায়ত্বের তুলনামূলক বিশ্লেষণ; সামাজিক সুরক্ষা বিষয়ক নীতি ও আইনী কাঠামোসমূহের পর্যালোচনা এবং বর্তমান পরিস্থিতি বিবেচনা করে শ্রমজীবী মানুষের সামাজিক সুরক্ষা নিশ্চিতকরণে করণীয় নির্ধারণের লক্ষ্যে এ আলোচনা সভার আয়োজন করা হয়।

বিল্স চেয়ারম্যান মোঃ হাবিবুর রহমান সিরাজের সভাপতিত্বে এবং মহাসচিব নজরুল ইসলাম খানের সঞ্চালনায় আয়োজিত এই ওয়েবিনারে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উন্নয়ন অধ্যয়ন বিভাগের অধ্যাপক ড. রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর। প্রধান আলোচক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের সাবেক সচিব মিকাইল শিপার। সম্মানিত আলোচক হিসেবে বক্তব্য রাখেন সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগ-সিপিডি’র সম্মানিত ফেলো অধ্যাপক মোস্তাফিজুর রহমান এবং গবেষণা পরিচালক খন্দকার গোলাম মোয়াজ্জেম, শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীর স্থায়ী কমিটির সদস্য শামসুন্নাহার ভূঁইয়া, এমপি, জাতীয় শ্রমিক জোটের সভাপতি ও বিল্স উপদেষ্টা পরিষদ সদস্য মেসবাহউদ্দীন আহমেদ, আইএলও সাউথ এশিয়ার ডিসেন্ট ওয়ার্ক টেকনিকেল টিমের ওয়ার্কার্স অ্যাক্টিভিটিস স্পেশালিস্ট সৈয়দ সুলতান উদ্দিন আহম্মদ, বাংলাদেশ ট্রেড ইউনিয়ন সংঘের সাধারণ সম্পাদক চৌধুরী আশিকুল আলম, শ্রমিক কর্মচারী ঐক্য পরিষদ-স্কপ এর যুগ্ম সমন্বয়কারী ও বিল্স উপদেষ্টা পরিষদ সদস্য নইমুল আহসান জুয়েল, আইএলও’র ইআইআই প্রজেক্ট এর ন্যাশনাল প্রজেক্ট কোঅর্ডিনেটর নওশীন শাহ্ এবং আইএলও’র এসডি এন্ড আরআই প্রজেক্ট এর প্রোগ্রাম অফিসার জামিল আনসার।

মূল প্রবন্ধে ড. রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর বলেন, কোভিড-১৯ সময়ে অর্থনীতি পূণর্গঠনে ও বাংলাদেশের প্রবৃদ্ধি অর্জনের যাত্রায় শ্রমজীবী মানুষের অবদান অপরিসীম। কিন্তু সে প্রবৃদ্ধির তুলনায় পর্যাপ্ত কর্মসংস্থান তৈরী হয় নি। প্রকৃত মজুরি হারও হ্রাস পেয়েছে। শ্রমিকের প্রাপ্তির তুলনায় পুঁজির প্রাপ্তি বেশি হচ্ছে। সমাজের উপরের শ্রেণীর মানুষদের সম্পদের পরিমান দিন দিন বাড়ছে, সে তুলনায় নিচের শ্রেণীর মানুষের সম্পদের পরিমান ক্ষেত্র বিশেষে কমে যাচ্ছে। তিনি বলেন, শ্রমবাজারের একটি বিশাল অংশ তরুণ ও যুবক। এদের জন্য শিক্ষা, প্রশিক্ষণ ও কর্মংস্থানে নিয়োজিত থাকার কথা, অথচ তারা বেকার বসে আছে এবং তাদের সংখ্যা দিন দিন বেড়েই চলেছে। তবে সরকারী হিসেব অনুযায়ী দেশে দারিদ্র্য কমছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।

তিনি বলেন, কর্মস্থান বাড়লে দারিদ্র্য কমে। তাই কর্মসংস্থানকেই এখানে কেন্দ্রবিন্দু হিসেবে ধরতে হবে। তবে সামাজিক বৈষম্য বৃদ্ধি পাচ্ছে উল্লেখ করে তিনি যোগ করেন যে, এর পাশাপাশি বাড়ছে আঞ্চলিক বৈষম্যও। অর্থনৈতিক ক্ষতির বিষয়ে জাতীয় ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ের গবেষণা ও উন্নয়ন প্রতিষ্ঠানগুলো যে তথ্য দিচ্ছে তার সাথে সরকারের দেয়া তথ্য মিলছে না উল্লেখ করে তিনি বলেন, এটি লক্ষণীয় যে মানুষের আয় কমেছে। এতে করে ক্ষতিগ্রস্থ হচ্ছে নি¤œ ও মধ্য আয়ের মানুষ। সরকারের সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচি জিডিপির ৩ শতাংশ, বাজেটের ১৫ শতাংশ হলেও সরকারী সঞ্চয় পত্রের হিসাব বাদ দিলে বর্তমান বাজেটে তা কমেছে বলে তিনি মন্তব্য করেন। তিনি উল্লেখ করেন, এই নিরাপত্তা কর্মসূচি বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ে ছড়িয়ে ছিটিয়ে আছে, একে সমন্বিত করা প্রয়োজন।

ড. তিতুমীর বলেন, সরকার এক লাখ কোটি টাকারও বেশী প্রণোদনা প্যাকেজ ঘোষণা করেছে। তবে এগুলো ঋণনির্ভর ও ব্যাংক নির্ভর। অর্থপ্রবাহ সুগম রাখার জন্য সরকার এগুলোকে সহজীকরণ করেছে। তবে ব্যাংক নির্ভরতায় এর সাফল্য কতটুকু হবে সে বিষয়ে প্রশ্ন থেকে যায়। সে ক্ষেত্রে কর্মসংস্থানের বিষয়ে তথ্যব্যাংক চালু করার বিষয়ে গুরুত্ব আরোপ করেন তিনি। এ ক্ষেত্রে পরবর্তী আদমশুমারী অত্যন্ত গুরুত্বপুর্ণ বলে তিনি মন্তব্য করেন। তিনি বলেন, প্রবৃদ্ধির জন্য করণীয় নির্ধারণে ট্রেড ইউনিয়নকে তার অবস্থান পরিষ্কার করতে হবে এবং কর্মসংস্থানের সুরক্ষায় এগিয়ে আসতে হবে।

প্রধান আলোচকের বক্তব্যে শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের সাবেক সচিব মিকাইল শিপার বলেন, এটি লক্ষণীয় যে মানুষের মাঝে সামাজিক সচেতনতা বৃদ্ধি পেয়েছে। সুতরাং সামাজিক নিরাপত্তা বাস্তবায়ন নিয়ে স্থানীয় জনগণ যথেষ্ট সচেতন। তবে প্রণোদনা প্যাকেজ বাস্তবায়ন ব্যাংক নির্ভর হলেও ব্যাংক এখনও গণমুখী হয় নি। এ বিষয়টি গুরুত্বের সাথে বিবেচনা করতে হবে বলে তিনি মন্তব্য করেন।

কর্মসংস্থান সুরক্ষায় মালিকপক্ষ যথেষ্ট সচেতন নয় উল্লেখ করে তিনি বলেন, নতুন কর্মসংস্থান বিনির্মাণে মালিকদের তেমন তৎপরতা লক্ষ্য করা যায় না। এ ছাড়া নতুন পরিস্থিতি বিবেচনায় এই বিষয়ে সুনির্দিষ্ট নীতিমালা প্রয়োজন বলে তিনি উল্লেখ করেন। শ্রম অধিকার প্রাতিষ্ঠানিক ও অপ্রাতিষ্ঠানিক সব পর্যায়ে নিশ্চিত করার ওপর তিনি গুরুত্ব আরোপ করেন। অপ্রাতিষ্ঠানিক খাতের শ্রমিকরা কোভিড-১৯ সময়ে চুড়ান্ত নিম্ন পর্যায়ে চলে গেছে উল্লেখ করে তিনি বলেন এ জন্য বাংলাদেশকে বিকল্প শ্রম বাজার খুঁজতে হবে।

কোভিড-১৯ এর কারনে প্রাতিষ্ঠানিক এবং অপ্রাতিষ্ঠানিক সকল সেক্টরের শ্রমিকরাই ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে উল্লেখ করে শামসুন্নাহার ভূঁইয়া, এমপি বলেন, চীনের অর্থনৈতিক পরিবর্তন আমাদের শিল্প বাণিজ্য ক্ষেত্রে যে প্রভাব ফেলবে তা নিয়ে আমাদের কাজ করতে হবে। বেকার যুবক এবং কোভিড-১৯ এর কারণে চাকরি হারানো শ্রমিকদের স্বল্পমেয়াদী প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করে কর্মসংস্থান সৃষ্টি করার বিষয়ে তিনি গুরুত্ব আরোপ করেন । যারা চাকুরি হারিয়েছেন তাদের সামাজিক সুরক্ষার আওতায় আনার আহ্বান জানান তিনি।

সিপিডি’র সম্মানিত ফেলো অধ্যাপক মুস্তাফিজুর রহমান বলেন, কোভিড-১৯ আমাদের জন্য ত্রিমাত্রিক বিপর্যয় ডেকে এনেছে, যার মধ্যে রয়েছে স্বাস্থ্য বিপর্যয়, কর্মসংস্থান বিপর্যয় ও অর্থনৈতিক বিপর্যয়। তবে প্রবৃদ্ধির মাত্রা উতিবাচক হলেও শ্রমিকরে শেয়ার কত ছিল এ নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে এর পূণঃবিশ্লেষণের প্রয়োজন রয়েছে বলে তিনি উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, কোভিড-১৯ এর সময়ে প্রবৃদ্ধি ঝুঁকি মোকাবেলায় আমাদের সক্ষমতা কতটুকু উপলব্দি করতে পারছি। তিনি আরও বলেন, প্রতিষ্ঠানকে বাঁচিয়ে রাখতে না পারলে শ্রমিকের কর্মসংস্থানকে ধরে রাখা যাবে না। সামষ্টিক অর্থনৈতিক ব্যবস্থাপনার ওপর গুরুত্ব আরোপ করতে হবে। ট্রেড ইউনিয়ন অধিকারকে উজ্জীবিত রাখতে হবে। প্রণোদনার মাধ্যমে শ্রমিকের কর্মসংস্থানকে বাঁচিয়ে রাখতে হবে। শ্রমজীবী মানুষের জন্য সামাজিক নিরাপত্তা, স্বাস্থ্যসেবা, রেশনিং ব্যবস্থাকেও ধরে রাখতে হবে। ব্র্যান্ড বায়ারদের বৈশি^ক উদ্যোগের বিষয়ে মনোযোগী হয়ে এর সুযোগ আমাদের নিতে হবে। এছাড়া আন্তর্জাতিক ঋণ মওকুফের বিষয়েও মনোযোগী হয়ে সরকারকে যথার্থ উদ্যোগ গ্রহণ করতে হবে। সরকার-মালিক-শ্রমিক ত্রিপক্ষীয় বৈঠক এখন খুবই দরকার উল্লেখ করে তিনি বলেন, এই সংকটকালীন সময়ে ত্রিপক্ষীয় পরামর্শ পরিষদ আলোচনায় বসে সিদ্ধান্ত গ্রহণ করতে পারে।

কোভিড -১৯ বাংলাদেশের শ্রমজীবী মানুষের জীবন দূর্বিসহ করে তুলেছে উল্লেখ করে শ্রমিক কর্মচারী ঐক্য পরিষদ-স্কপের যুগ্ম সমন্বয়কারী নইমুল আহসান জুয়েল বলেন, কোভিড-১৯ সময়ে কিভাবে শ্রমিকদের কর্মসংস্থান, মজুরি এবং সামাজিক সুরক্ষা নিশ্চিত করা যায় সে বিষয়ে সিদ্ধান্ত নিতে সরকারী ও বেসরকারী পর্যায়ে সবাইকে সমন্বিতভাবে এগিয়ে আসতে হবে। তিনি বলেন, শ্রমঘন এলাকায় শ্রমিকদের জন্য করোনা টেস্টিং সেন্টার গড়ে তোলা অতি প্রয়োজন। সরকারের গঠিত ক্রাইসিস ম্যানেজমেন্ট কমিটি প্রণোদনার ব্যাপারে পরামর্শ দিয়েছিল কিন্তু সে ব্যাপারে কিছু আলোচনা ছাড়া আর বেশী কিছু অগ্রগতি দৃশ্যমান হয় নি। এ ব্যাপারে শ্রম মন্ত্রণালয়ের করণীয় থাকলেও সেটি পর্যাপ্তভাবে লক্ষণীয় হয় নি। সরকারের পক্ষ থেকে প্রণোদনা পাওয়ার সুষ্পষ্টভাবে নির্দেশনা থাকলেও তৃণমূল পর্যায়ে তা বাস্তবায়নে অগ্রগতি ছিল না। তৈরী পোশাক খাতে শ্রমিক কর্মসংস্থানের ঝুঁকিতে পড়লেও সে ব্যাপারে টিসিসি’র অগ্রগতি পরিলক্ষিত হয় নি। প্রায় দুই কোটি মানুষ গ্রাম অভিমুখে চলে গেছে। এদের অর্ধেককেও যদি কর্মসংস্থানের বিকেন্দ্রীকরণের আওতায় আনা যায় তবে তা অর্থনৈতিক ব্যবস্থাকে চাঙ্গা করবে বলে আশা করা যায়। সেক্টর ভিত্তিক ট্রেড ইউনিয়নের তালিকা করে তাদের মাধ্যমে শ্রমিকদের সহায়তা প্রদানেরও দাবি জানান তিনি। এ ছাড়া তিনি আরো বলেন কিভাবে কোভিড-১৯ সময়ে শ্রমিকদের রক্ষা করা যায় সেজন্য স্কপ নয় দফা দাবি প্রণয়ন করছে । এ নয় দফা বাস্তবায়ন করতে পারলে বিদ্যমান সমস্যা অনেকাংশে সমাধান সম্ভব বলে তিনি উল্লেখ করেন।

বিল্স উপদেষ্টা পরিষদ সদস্য মেসবাহউদ্দীন আহমেদ বলেন, কভিড-১৯ সময়কালে দরিদ্র ও নি¤œ আয়ের শ্রমজীবী মানুষ সবচেয়ে ঝুঁকিপুর্ণ অবস্থায় রয়েছে। জিডিপির প্রবৃদ্ধির দিকে লক্ষ্য রাখার পাশাপাশি এখন মূলতঃ মানবিক দিকেই বেশী জোর দিতে হবে। স্বদেশ প্রত্যাবর্তিত প্রবাসী শ্রমিকদের সাময়িক কর্মসংস্থানের বিষয়ে নজর দিতে হবে। এ ক্ষেত্রে তাদের জন্য প্রয়োজনীয় ব্যাংক ঋণের সহায়তা দেয়ার প্রয়োজনীয়তা রয়েছে। যেসব শ্রমিকরা এখনও ঝুঁকির মধ্যে পড়েন নি তারা কোভিড-১৯ এর দীর্ঘমেয়াদী ক্ষতির কারণে ঝুঁকিতে পড়তে পারেন বলে তিনি উল্লেখ করেন। দুর্ঘটনা বীমা ব্যবস্থা শ্রমিকের জন্য চালু থাকলে বর্তমান ব্যবস্থায় শ্রমিকরা কিছুটা হলেও সহযোগিতা পেতেন বলে তিনি উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, বেসরকারীকরণ যে কল্যাণমুলক নয় তা বর্তমান অবস্থায় ভালোভাবে টের পাওয়া যাচ্ছে। ট্রেড ইউনিয়নের ক্ষমতা যেহেতু এখন কম তাই সে ক্ষেত্রে শ্রম অধিদপ্তরকে এখন গুরুত্বপুর্ণ ভূমিকা পালন করা উচিত বলে তিনি মন্তব্য করেন। তিনি শ্রমিকদের জন্য স্বাস্থ্য বীমা চালুর দাবি জানান।

ট্রেড ইউনিয়ন সংঘের সাধারণ সম্পাদক চৌধুরী আশিকুল আলম বলেন, শ্রমিকরা সবসময়ই শিল্প সম্পর্ককে এগিয়ে নিতে চায়। উদ্যোক্তারা এটির সুযোগটি গ্রহণ করে কিন্তু এগিয়ে নিতে চায় না। এ ক্ষেত্রে পারস্পরিক মর্যাদা না থাকলে এটিকে এগিয়ে নেয়া কঠিন। আর সে কারনে দীর্ঘমেয়াদী উন্নয়ন ব্যাহত হয়। সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনা ও কাঠামো তৈরী করতে না পারলে কোভিড-১৯ পরিস্থিতিতে আমাদের উন্নয়ন এগিয়ে নেয়ার বিষয়টি ব্যাহত হতে পারে বলে তিনি মন্তব্য করেন।

আইএলও সাউথ এশিয়ার ডিসেন্ট ওয়ার্ক টেকনিকেল টিমের ওয়ার্কার্স অ্যাক্টিভিটিস স্পেশালিস্ট সৈয়দ সুলতান উদ্দিন আহম্মদ বলেন, বাংলাদেশের শ্রম আইনে শ্রমিকদের জন্য সামাজিক নিরাপত্তার বিষয়টি সুষ্পষ্টভাবে উল্লেখ নেই। এটি অবস্থার ওপর বিবেচনা করে নেয়া হয়। দয়াভিত্তিক সামাজিক নিরাপত্তা গ্রহণ না করে এটিকে অধিকার ভিত্তিক করা প্রয়োজন বলে তিনি উল্লেখ করেন। ইতোপুর্বে জাতীয় প্রভিডেন্ট ফান্ডের উদ্যোগ নেয়া হলেও কিন্তু সেটির দৃশ্যমান অগ্রগতি হয় নি বলে মন্তব্য করেন তিনি। বর্তমানে প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামো তৈরীর পাশাপাশি দায়বদ্ধতা এবং জবাবদিহিতা নিশ্চিত করে এ ক্ষেত্রে সরকার, মালিক, শ্রমিকের সমন্বয়ে সংলাপ ও সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে তা সঠিকভাবে তুলে ধরা প্রয়োজন বলে উল্লেখ করেন তিনি।

সঞ্চালকের বক্তব্যে নজরুল ইসলাম খান বলে কোভিড-১৯ সবার সামনে স্পষ্ট করে দিয়েছে যে আমাদের সামাজিক সুরক্ষা ব্যবস্থা সংকটকালীন সময়ে সুরক্ষা দিতে সক্ষম নয়। তিনি বলেন, আমরা বর্তমানে ক্রান্তিকাল অতিক্রম করছি। দেশের কৃষি, শিল্প, অর্থনীতিকে বাঁচিয়ে রাখতে ট্রেড ইউনিয়ন আন্দোলনকে সচল রাখতে হবে বলে তিনি গুরুত্ব আরোপ করেন। তিনি বলেন, আইএলও মহাপরিচালক গাই রাইডারের আহবানে আন্তর্জাতিক ব্র্যান্ড বায়াররা যে ইতিবাচক উদ্যোগ নিয়েছিলো সে বিষয়টি এগিয়ে নিতে আমাদের সকলকে একযোগে কাজ করতে হবে।

তিনি আরো বলেন, শ্রমজীবী মানুষ, যারা উৎপাদন করে শিল্প এবং সমাজকে বাঁচিয়ে রাখে তাদের সুরক্ষা নিশ্চিত করা না গেলে অপূরণীয় ক্ষতি হয়ে যাবে। বর্তমান পরিস্থিতিতে অনেক শ্রমিক ছাঁটাই হয়েছে। সে জন্য আমাদের ব্যবস্থার ত্রুটিগুলো চিহ্নিত করতে হবে। সমন্বয়হীনতাকে কমিয়ে আনতে হবে। গ্রাম থেকে শহরে এবং শহর থেকে বিদেশ যাবার যে প্রবণতা সেটির উল্টো পর্যায়টি এখন প্রতীয়মান হচ্ছে। বিপদাপন্ন হলে ন্যূনতম সামাজিক সুরক্ষা থাকা দরকার, যার মাধ্যমে সে বেঁচে থাকতে পারবে। এরকম একটি অবকাঠামো কিভাবে গঠন করা যায় সেটা নির্ধারণ করতে হবে। তাহলেই সংকটে শ্রমিকদের সুরক্ষা নিশ্চিত করা সম্ভব।

সভাপতির বক্তব্যে বিল্স চেয়ারম্যান মোঃ হাবিবুর রহমান সিরাজ বলেন, দেশ ও জাতি মহাসংকট অতিক্রম করছে। প্রণোদনা ঘোষণার সময় মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শ্রমিক ছাঁটাই না করতে মালিকপক্ষকে আহ্বান জানিয়েছিলেন। মালিকপক্ষ তারপরও শ্রমিক ছাঁটাই করেছে। এ ব্যাপারে ট্রেড ইউনিয়ন ও শ্রমিক কর্মচারী ঐক্য পরিষদের পক্ষ থেকে জোরালো পদক্ষেপ গ্রহণ করা প্রয়োজন উল্লেখ করে তিনি বলেন, সঠিকভাবে আলোচনার ক্ষেত্র তৈরী করতে না পারার কারনে ট্রেড ইউনিয়নের ব্যর্থতাও পরিলক্ষিত হচ্ছে। স্কপের নয় দফা দাবির বিষয়টি উল্লেখ করে তিনি বলেন স্কপের দাবি সংক্রান্ত আলোচনাটি সরকারের সঠিক জায়গায় করতে হবে।

Comments


আর্কাইভ