ঢাকা মঙ্গলবার, আগস্ট ৪, ২০২০



৭ বন্ধুর টিফিনের টাকায় দুই শতাধিক পরিবারে ত্রাণ

ওয়াশিম মিয়া, নিজস্ব প্রতিবেদক: দেশব্যাপি করোনা পরিস্থিতির অবনতি হওয়ায় খারাপ অবস্থায় আছে দুস্থ ও নিম্ন আয়ের সাধারণ মানুষেরা।  লকডাউনে বন্ধ হয়ে গেছে আয়। এসব দুস্থ্য আর অসহায় মানুষের পাশে মানবিক সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দিয়েছে ডিপিএস-এসটিএস স্কুলের ১০ শ্রেণী পড়ুয়া ৭ বন্ধুদের টিফিনের টাকায় গড়ে তোলা সামাজিক সংগঠন ‘বিশ্বাস অর্গানাইজেশন”। গতকাল শুক্রবার (০৩ জুলাই ২০২০) রাজধানীর বাসাবো এলাকায়  প্রায় দুই শতাধিক দরিদ্র ও কর্মহীন পরিবারের তিন কেজি চাল, এক কেজি ডাল, এক কেজি আলু, এক লিটার সয়াবিন তেল, এক কেজি লবন, একটি সাবান ও একটি টি-শার্টসহ ত্রাণসামগ্রী বিতরণ করেন।

বিশ্বাস অর্গানাইজেশনের মুখপত্র মি. দাইয়ান আহমেদ পাটোয়ারী বলেন, করোনাভাইরাসের কারণে চারদিকে লকডাউন অবস্থা। ফলে খেটে খাওয়া নিম্ন আয়ের মানুষগুলো অসহায় হয়ে পড়েছে। তাদের কথা চিন্তা করে আমরা সাত বন্ধু আলোচনা করি। পরে নিজেদের জমানো টিফিনের টাকা দিয়ে অসহায় মানুষদের সহযোগিতার সিদ্ধান্ত নিই। সেই ভাবনা থেকেই আমরা প্রতিদিনের টিফিন বা হাত খরচের টাকা জমানো শুরু করি। অবশেষে আমরা আজ প্রথমবারের মতো প্রায় দুই শতাধিক মানুষের মাঝে  ত্রাণসামগ্রী বিতরণ করেছি।

তিনি বলেন, মানবতার সেবা আর সামাজিক কাজে সবসময়ের জন্য নিয়োজিত রাখতে আমরা আমাদের বন্ধুদের প্রচেষ্টাকে একট ফরমাল সেবা প্রতিষ্ঠানে রুপান্তুরিত করার লক্ষ্যে একটি নামকরণ করেছি। যার নাম ‘বিশ্বাস অর্গানাইজেশন’। শুধু করোনা সংকটেই নয়, বিশ্বাস ফাউন্ডেশন যেকোনো মানবিক বিপর্যয়ে মানবতার সেবায় কাজ করবে।

তারা বলেন, বাংলাদেশে বিত্তশালী বা ধনীর সংখ্যা একেবারে কম নয়। বিত্তবানরা এগিয়ে এলে শ্রমজীবী মানুষের এরকম করুণ অবস্থা হবার কথা নয়। আমাদের আহ্বান থাকবে, শুধুই সরকারের দিকে তাকিয়ে না থেকে নিজেরাই এগিয়ে আসুন। অসহায়দের পাশে দাঁড়ান।

বিশ্বাস অর্গানাইজেশনের মুখপত্র মি. দাইয়ান আহমেদ পাটোয়ারীর অভিভাবক তৈরী পোশাক শিল্পের বিশিষ্ট ব্যবসায়ী ‘নীট প্লাস লিমিটেড’ এর নির্বাহী পরিচালক মি. আজাদ আহমেদ পাটোয়ারী আরএমজি টাইমসকে বলেন, দাইয়ান ও তার বন্ধুদের এমন মহৎ উদ্যোগ দেখে আমরা অভিভাবক হিসেবে গর্বিত। এটাই প্রজন্মের শিক্ষা। আমরা পারিবারিক ভাবেই এই শিক্ষায় ব্রতি। বিভিন্ন প্রাকৃতিক ও মানবিক বিপর্যয়ে আমাদের পরিবার সবসময়ই মানুষের পাশে থাকার চেষ্টা করে। আমাদের সন্তানরাও বিপদে মানুষের পাশে থাকবে, মানুষের প্রতি সহমর্মী হবে, মানুষ মানুষের ভেদাভেদ করবে না এমনটাই আমাদের প্রত্যাশা।

 

Comments


আর্কাইভ