ঢাকা বুধবার, আগস্ট ৫, ২০২০



বাজেট প্রস্তাবে পোশাক খাতের উৎসে কর বাড়বে

ডেস্ক রিপোর্ট: আসছে ২০২০-২১ অর্থবছরে রপ্তানিমুখী পোশাক শিল্পের উৎসে কর বর্তমান অবস্থার চেয়ে দশমিক ২৫ বাড়ানোর প্রস্তাব করা হয়েছে।

অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল বৃহস্পতিবার একাদশ জাতীয় সংসদে অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল ২০২০-২১ অর্থবছরের বাজেট বক্তৃতায় পোশাকসহ রপ্তানি পণ্যের উৎসে কর ৫০ শতাংশ করার প্রস্তাব করেন।

তবে পোশাক কারখানা মালিকদের আবেদনের প্রেক্ষিতে গত ২১ অক্টোবর জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) এক বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে পোশাকে উৎস কর কমিয়ে দশমিক ২৫ শতাংশ করে। সে হিসাবে বাজেট প্রস্তাবনা কার্যকর হলে এ খাতের উৎসে কর বাড়বে।

পোশাক শিল্প মালিকরা বলছেন, এই খাতের বর্তমান অবস্থা বিবেচনা করে উৎস কর আরো পাঁচ বছরের জন্য দশমিক ২৫ শতাংশ রাখা প্রয়োজন। এ ছাড়া ভোগান্তি কমাতে উৎসে করকে ভিত্তি ধরে চূড়ান্ত কর দিতে চান তারা।

এক তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়ায় এ দাবি জানান পোশাক খাতের মালিকরা।

২০১৯-২০ অর্থবছরের বাজেটে তৈরি পোশাক খাতের উৎসে কর ১ শতাংশ নির্ধারণ করা হয়। অর্থাৎ কোনো গার্মেন্টস মালিক ১০০ টাকার তৈরি পোশাক রপ্তানি করলে তার বিপরীতে এক টাকা উৎসে কর দেওয়ার কথা। পোশাক কারখানা মালিকদের আবেদনের প্রেক্ষিতে এরপর এনবিআর এক বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে তা কমিয়ে দশমিক ২৫ শতাংশ করে।

যদিও সাম্প্রতিক বছরগুলোতে পোশাক মালিকদের কখনো ১ শতাংশ হারে উৎসে কর দিতে হয়নি। প্রতিবছর বাজেটে অথবা পরে প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে কর কমানো রেওয়াজে পরিণত হয়েছে।

এ বিষয়ে বিকেএমইএর পরিচালক ফজলে শামীম এহসান দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘শিল্পের বর্তমান অবস্থা সরকারসহ সবার জানা। তাই উৎসে কর আরও পাঁচ বছর বর্তমান শূণ্য দশমিক ২৫ শতাংশ হারে রাখা প্রয়োজন। এতে আমাদের ওপর নগদ অর্থের চাপ কিছুটা কমবে। এ ছাড়া আমরা চাই উৎসে করের হিসেবে বছর শেষে কর দিতে। যে পরিমাণ উৎসে কর দেব সেই হারে আমরা বছর শেষে কর দেব। এতে আমাদের ভোগান্তি ও হয়ারানি হওয়ার কোনো সম্ভাবনা থাকবে না। এ ছাড়া করোনা মোকাবেলায় সরকার যে ৫০ হাজার কোটি টাকার ঋণ তহবিল ঘোষণা করেছে তা যত দ্রুত সম্ভব ছাড় করার দাবি জানাচ্ছি।’

উৎসে কর দশমিক ২৫ শতাংশ হারে আরো ৫ বছর বহাল রাখার দাবি জানিয়ে বিজিএমইএ তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়ায় বলছে, রপ্তানীমুখী তৈরি পোশাক শিল্পের মূলধনী যন্ত্রপাতি আমদানির ক্ষেত্রে বিজিএমইএ থেকে জারি হওয়া প্রত্যয়নপত্রের মাধ্যমে পণ্য খালাস করা হতো। কিন্তু বর্তমান বাজেট প্রস্তাবে বিভাগীয় মূসক কর্মকর্তার দপ্তর থেকে প্রত্যয়নপত্র নিয়ে পণ্য খালাসের এস.আর.ও করা হয়েছে, যা আমদানী প্রক্রিয়াকে আরো জটিল করবে এবং রপ্তানী ও বিনিয়োগ বাধাগ্রস্ত হবে। আমরা আগের পদ্ধতিতে অর্থাৎ বিজিএমইএ থেকে জারীকৃত প্রত্যয়নপত্রের ভিত্তিতে পণ্য খালাস করার জন্য সংশ্লিষ্ট এস.আর.ও সংশোধনের অনুরোধ করছি।

তারা বলে, বর্তমানে নগদ সহায়তার বিপরীতে যে ৫ শতাংশ আয়কর কর্তনের বিধান রয়েছে তা সম্পূর্ণভাবে প্রত্যাহারের অনুরোধ জানাচ্ছি।

ঢাকা চেম্বার অব কামর্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রিজের (ডিসিসিআই) পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, উৎসে কর শূণ্য দশমিক ২৫ শতাংশের পরিবর্তে শূণ্য দশমিক ৫০ শতাংশ করার কারণে সব রপ্তানিমুখী শিল্প চ্যালেঞ্জের সম্মুখীন হবে। তাই রপ্তানি আয়ের উপর উৎসে কর বৃদ্ধির সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনার আহ্বান জানাচ্ছি। এ খাতে ১ শতাংশ ক্যাশ ইনসেনটিভ বহাল রাখার সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানাচ্ছি।

সৌজন্যে: দৈনিক দৈশ রুপান্তর

 

Comments


আর্কাইভ