ঢাকা শুক্রবার, সেপ্টেম্বর ২৫, ২০২০



বিপর্যয়ের শঙ্কা নিয়েই খুলছে চট্টগ্রামের গার্মেন্টস

ডেস্ক রিপোর্ট: করোনা ঝুঁকির মধ্যেই খোলা হচ্ছে গার্মেন্টস। তবে গতকাল পর্যন্ত দোটানায় ছিলেন চট্টগ্রামের গার্মেন্টস মালিকরা। তবে সরকারিভাবে রোববার (৫ এপ্রিল) খোলার দিন হওয়ায় অনেক গার্মেন্টস খোলা হবে। চাকরি হারানোর ভয়ে গ্রামে চলে যাওয়া শ্রমিকরা অসহনীয় কষ্ট সয়ে আবার ফিরেছে নগরে। করোনা পরিস্থিতিতে গণপরিবহন বন্ধ, তাই পায়ে হেঁটে বিভিন্ন উপজেলা থেকে চট্টগ্রামে পৌঁছেছে পোশাক শ্রমিকরা।

শনিবার (৪ এপ্রিল) জেলার বিভিন্ন উপজেলায় অবস্থানরত পোশাক শ্রমিকদের দলে দলে হেঁটেই যেতে দেখা গেছে। করোনাভাইরাসের ঝুঁকি কমাতে গত ২৬ মার্চ থেকে ১০ দিনের ছুটি ঘোষণা করে সরকার। ছুটির কারণে সকল প্রকার যানচলাচল বন্ধ রয়েছে। ফলে বিভিন্ন উপজেলা থেকে যতটুকু সম্ভব রিক্সায় কিংবা সিএনজিচালিত ট্যাক্সিতে, বাকি পথ পায়ে হেঁটে— এভাবে নগরে পৌঁছেছে গার্মেন্টস কর্মীরা। এতে পথে পথে চরম দুর্ভোগে পড়তে হয়েছে শ্রমিকদের।

শনিবার সন্ধ্যায় পোশাকশ্রমিক মোবাশ্বেরা বেগম জানান, গার্মেন্টস থেকে ফোনে আগামীকাল (৫ এপ্রিল) কাজে যোগদানের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। তাই নিরুপায় হয়ে অনেক দূর হেঁটেই চট্টগ্রামে পৌঁছেছি ।

আরেক পোশাক শ্রমিক সুপ্রিয়া চাকমা বলেন, রাঙ্গামাটি থেকে মালামালের বোটে করে খুব সকালে রওনা দিয়েছি। রাস্তায় পুলিশের বাধা থাকলেও মানবিক কারণে তারাও ছেড়ে দিয়েছে।

গার্মেন্টস কর্মী রফিকুল ইসলাম বলেন, নাজিরহাট থেকে শহরে এসেছি সিএনজিযোগে। কিন্তু বালুচড়া এসে বাকি পথ পায়ে হাঁটতে হয়েছে। যদি আগামীকাল কর্মস্থলে যোগদান না করি, তাহলে ছুটির দিনগুলোসহ অনুপস্থিতি দেখানো হবে। বেতনভাতা পাওয়া কঠিন হবে। সেখানে আমাদের বাসা ভাড়াও বাকি রয়েছে।

ঝুঁকি জেনেও রওনা হওয়া পোশাক শ্রমিক জিয়াউল হক বলেন, করোনাভাইরাস সংক্রামক ব্যাধি। ক্ষতি হতে পারে। কিন্তু কাল কাজে যোগ না দিলে না খেয়ে মরতে হবে। চাকরি না থাকলে বউ বাচ্চা না খেয়ে থাকবে।

এ ব্যাপারে বিজিএমইএ পরিচালক মোহাম্মদ আতিক বলেন, ‘গার্মেন্টস বন্ধ দেওয়ার সময় শ্রমিকদের বাসায় কোয়ারেন্টাইনে থাকতে বলা হয়েছিল। কিন্তু তারা নির্দেশনা না মেনে গ্রামের বাড়িতে চলে গেছে অনেকে। এখন সরকারি নির্দেশমতে গার্মেন্টস চালু করায় শ্রমিকদের পায়ে হেঁটেও আসতে হচ্ছে। এজন্য মালিকপক্ষ দায়ী নয়। তবু শ্রমিকদের কষ্ট দেখে আমরাও ব্যথিত।’

বিজিএমইএ সহ-সভাপতি এএম চৌধুরী সেলিম বলেন, ‘বিজিএমইএর বক্তব্য পরিষ্কার। যাদের লিডটাইম কিংবা জাহাজীকরণের চাপ আছে কারখানা খোলা রাখতে চান তারা অবশ্যই শ্রমিকদের সুরক্ষার বিষয়টি নিশ্চিত করবেন। আমরা এই মেসেজটি বারবার দিচ্ছি সবাইকে। যদি বর্তমান পরিস্থিতিতে শ্রমিকদের সুরক্ষা নিয়ে সন্তুষ্ট না হন তাহলে পরে কারখানা খুলুন। এই ব্যাপারে কারখানা মালিক নিজেরা সিদ্ধান্ত নেবেন।’

গত ২৬ ও ২৭ মার্চ গার্মেন্টস বন্ধ থাকার পর আবার ২৮ মার্চ খোলা হয়। ওইদিন থেকে আবার ৪ তারিখ পর্যন্ত গার্মেন্টস বন্ধের ঘোষণা দেওয়া হয়। আগামীকাল রবিবার (৫ এপ্রিল) গার্মেন্টস খোলা হবে। এজন্য শ্রমিকরা জীবনের ঝুঁকি নিয়ে ট্রাক ও পিকআপে করে চট্টগ্রাম ও ঢাকায় দিকে যাচ্ছেন। প্রাইভেটকার ভাড়া করেও অনেককে যেতে দেখা গেছে।

এদিকে করোনাভাইরাস সংক্রমণ রোধে ২৪ মার্চ থেকে সরকারী ছুটি ঘোষণা করা হয়েছে দেশে। সেই সাথে বাস, ট্রেন, নৌযান চলাচল ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বন্ধ রয়েছে। ওষুধ, নিত্যপণ্য, কাঁচাবাজার ছাড়া সব ধরনের দোকানপাটও বন্ধ রয়েছে। সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখতে শহরে জেলা প্রশাসনের তৎপরতা ছাড়াও সেনাবাহিনীর নিয়মিত টহল অব্যাহত রয়েছে।

Comments


আর্কাইভ