ঢাকা বৃহস্পতিবার, মে ২৩, ২০১৯



পোশাক খাতের উন্নয়নে সব ধরণের সহযোগীতা করা হবে: বাণিজ্যমন্ত্রী

ডেস্ক রিপোর্ট: বাণিজ্য মন্ত্রী টিপু মুন্সী বলেছেন, বৈশ্বিক প্রতিযোগিতার বাজারে টিকে থাকার জন্য বাংলাদেশের তৈরি পোশাক খাতের জন্য সুনিদিষ্ট সময়ের জন্য প্রস্তাবিত প্রণোদনা একান্ত আবশ্যক। অন্যদিকে পণ্যের ভালো দাম পাওয়ার জন্য ব্র্যান্ড প্রতিষ্ঠানগুলোর কাছে সরাসরি পণ্য বিক্রির উদ্যোগ নিতে হবে।

গত বৃহস্পতিবার ঢাকা চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি (ডিসিসিআই) আয়োজিত “বাংলাদেশের তৈরি পোশাক খাতের টেকসই উন্নয়ন” প্রেক্ষিত কনক্লেভ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ পোশাক প্রস্তুতকারক ও রপ্তানিকারক সমিতি (বিজিএমইএ)’র সভাপতি ড. রুবানা হক।

টিপু মুন্সী বলেন, বিভিন্ন বাইয়ং হাউজ এবং এজেন্সীর মাধ্যমে পণ্য কেনার কারণে আমাদের তৈরি পোশাক খাতের উদ্যোক্তাবৃন্দ বিভিন্ন ব্র্যান্ড প্রতিষ্ঠানের নিকট হতে যথোপযুক্ত দাম পাচ্ছে না। ব্র্যান্ড প্রতিষ্ঠানসমূহ যেন পোশাক খাতের উদ্যোক্তাদের নিকট হতে সরাসরি পণ্য ক্রয় করেন, সে ব্যাপারে উদ্যোগ গ্রহণের জন্য বিজিএমইএ’র প্রতি আহ্বান জানান। তিনি ক্রেতা প্রতিষ্ঠানের নিকট হতে পণ্যের যথাযথ মূল্য পাওয়ার জন্য আমাদের উদ্যোক্তাদের দক্ষতা বাড়ানোর প্রস্তাব করেন।

মন্ত্রী আরো বলেন, আমাদের কারখানাসমূহ এখন অনেক বেশি কমপ্লায়েন্স এবং ভালো মানসম্মত পণ্য উৎপাদন করছে। তিনি আমাদের অর্থনীতিতে তৈরি পোশাক খাত যেন আরো গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে পারে, সে লক্ষ্যে সরকারের পক্ষ হতে সর্বাত্মক সহযোগিতার আশ্বাস প্রদান করেন।

মন্ত্রী জানান, শ্রীলংকা, বেলারুস ও চেকোস্লাভাকিয়ার সাথে বাংলাদেশের দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য চুক্তি স্বাক্ষরের বিষয়টি বর্তমানে চুড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে, তিনি আশা প্রকাশ করেন, খুব শীঘ্রই এদেশ সমূহের সাথে চুক্তি স্বাক্ষর হবে এবং ব্রাজিলের সাথে বাংলাদেশের দ্বিপাক্ষিক চুক্তি স্বাক্ষরের বিষয়ে উদ্যোগ গ্রহণ করা হবে। তিনি আরো বলেন, গ্যাস ও অন্যান্য জ্বালানির মূল্য বৃদ্ধি করা হলে তৈরি পোশাক খাতের পরিচালনার ব্যয় বাড়বে।

মূল প্রবন্ধে ডিসিসিআই সভাপতি বলেন, বাংলাদেশে বৈদেশিক বিনিয়োগের প্রায় ১৮% হয়ে থাকে তৈরি পোশাক খাতে, যার আর্থিক মূল্য ৪৬০ মিলিয়ন মার্কিন ডলার। তৈরি পোশাক রপ্তানিতে আমরা চীনের পরই দ্বিতীয় অবস্থানে রয়েছি, তৈরি পোশাক খাতের বৈশ্বিক বাজার ৪৪৬ বিলিয়ন মার্কিন ডলার এবং এখাতের বৈশ্বিক মোট রপ্তানির ৬.৫% বাংলাদেশ হতে রপ্তানি হয়ে থাকে।

তিনি বলেন, এখাতের শ্রমিকদের বেতন বৃদ্ধি, জ্বালানির মূল্য বৃদ্ধি, কমপ্লায়েন্স সম্পর্কিত ব্যয় বৃদ্ধি, আন্তর্জাতিক বজারে পোশাক খাতের পণ্যের মূল্য কমে যাওয়া এবং পোশাক খাতের টেকসই উন্নয়ন নিশ্চিতকরার জন্য ক্রেতার ক্রমাগত চাপের ফলে, বৈশ্বিকবাজারে আমাদের তৈরি পোশাক খাতের বাজার হারানোর সম্ভাবনা রয়েছে। তিনি আগামী ৫ বছরের জন্য তৈরি পোশাক খাতের সকল পণ্যের (প্রচলিত ও অপ্রচলিত) জন্য ৫% হারে নগদ প্রণোদনা প্রদানের প্রস্তাব করেন। পাশাপাশি এখাতের সামগ্রিক উন্নয়নে মানবসম্পদের দক্ষতা উন্নয়নের ওপর জোরারোপের পাশাপাশি আগামী ৫ বছরের জন্য জ্বালানির মূল্য নির্ধারনে দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনা প্রণয়নের আহ্বান জানান।

তিনি বলেন, জ্বালানির উৎস হিসেবে গ্যাসের ওপর অতিমাত্রায় নির্ভরশীলতা কমানো, স্থানীয় উৎস হতে কয়লা উত্তলোন ও ব্যবহার নিশ্চিতকরণ এবং পোশাক খাতের টেকসই উন্নয়নের সর্বোপরি জ্বালানির টেকসই ব্যবহার নিশ্চিতকরনের প্রস্তাব করেন। ঢাকা চেম্বারের সভাপতি জানান, কমপ্লায়েন্সের মান নিশ্চিত করতে না পারার কারণে গত ৪ বছরে প্রায় ১২০০ কারখানা বন্ধ হয়ে গিয়েছে।

তিনি বলেন, টেকসই উন্নয়নের নিশ্চিতকরণের জন্য প্রধানত ৩টি “পি (মানুষ, বিশ্ব বৈমান্ড ও মুনাফা)“ কে বোঝানো হয়ে থাকে কিন্তু ক্রেতারা প্রথম দুটিতে বেশি মাত্রায় গুরুত্বারোপ করলেও মুনাফা অর্জনের জন্য পণ্যের প্রয়োজনীয় দাম বাড়াতে আগ্রহী নন। ডিসিসিআই সভাপতি বলেন, বাংলাদেশে উৎপাদিত তৈরি পোষাকের দাম অন্যান্য দেশের তুলনায় বেশ কম এবং পণ্যের কম মূল্যের কারণে এখাতের উদ্যোক্তাদের টেকসই উন্নয়ন নিশ্চিত করা বেশ কঠিন হয়ে দাঁড়িয়েছে। তিনি জানান, ২০১৩ সাল হতে বাংলাদেশের পোশাক পণ্যের দাম প্রতিবছর গড়ে ০.৭৪% হারে কমছে, উপরন্তু প্রস্তাবিত গ্যাসের মূল্য বৃদ্ধি করা হলে, বিদ্যুতের মূল্য বৃদ্ধি পাবে ৬০%, যা পোশাক খাতের উৎপাদান ব্যয় কে প্রায় ৯% বৃদ্ধি করবে।

বাংলাদেশ পোশাক প্রস্তুতকারক ও রপ্তানিকারক সমিতি (বিজিএমইএ)’র সভাপতি ড. রুবানা হক বলেন, তৈরি পোশাক খাতের টেকসই উন্নয়নের জন্য সরকারের সহযোগিতা একান্ত আবশ্যক। তিনি বলেন, আমরা এ খাতের ইতিবাচক সংকটে ভুগছি এবং আন্তর্জাতিক বাজারে আমাদের ইতিবাচক ইমেজ গড়ে তোলার জন্য গণমাধ্যমের সহযোগিতা খুবই জরুরী। তিনি আরো বলেন, তৈরি পোশাক খাতকে টেকসই করার পাশাপাশি ব্যবসা পরিচালনার ব্যয় হ্রাসের জন্য আমাদের সঠিক নীতিমালা গ্রহণ ও এর বাস্তবায়ন, যথাযথ তথ্য-উপাত্ত ব্যবহার খুবই জরুরী। তিনি এ খাতের সার্বিক উন্নয়নে উদ্যোক্তা-ক্রেতা প্রতিষ্ঠান, শ্রমিক-গণমাধ্যম, গবেষক সহ সংশ্লিষ্ট সকল স্টেকহোল্ডারদের সমন্বয়ের উপর জোরারোপ করেন।

মুক্ত আলোচনায় ঢাকা চেম্বারের সাবেক সভাপতি আসিফ ইব্রাহীম, বেনজীর আহমেদ, বিজেএমইএ’র সিনিয়র ভাইস প্রেসিডেন্ট ফয়সাল সামাদ, পরিচালক মীরান আলী, ইনামুল হক খান, মোহাম্মদ আব্দুল মোমেন, বিকেএমইএ’র সাবেক সভাপতি ফজলুল হক, এইচএনএম’র প্রতিনিধি রজার, বেস্ট সেলার’র সাসটেইএ্যাবল ম্যানেজার জাহাঙ্গীর আলম, ইনডিটেক্স’র মো: রেজাউল করিম ভূইয়্যা ও কামরুল হাসান, ঢাকা চেম্বারের সাবেক ঊর্ধ্বতন সহ-সভাপতি হায়দার আহমদ খান, এফসিএ, বাংলাপোশাক-এর ব্যবস্থাপনা পরিচালক মোহাম্মদ সোহেল প্রমুখ বক্তব্য রাখেন। অনুষ্ঠানে ধন্যবাদ জ্ঞাপন করেন ডিসিসিআই ঊর্ধ্বতন সহ-সভাপতি ওয়াকার আহমেদ চৌধুরী।


আর্কাইভ