ঢাকা সোমবার, এপ্রিল ২২, ২০১৯



তৈরি পোশাক খাতে দৃশ্যমান অগ্রগতি হয়েছে:আইএলও

ডেস্ক রিপোর্ট: অপ্রত্যাশিত রানা প্লাজা দুর্ঘটনার পর বাংলাদেশের শ্রমক্ষেত্রে দৃশ্যমান অগ্রগতি হয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন আন্তর্জাতিক শ্রম সংস্থা আইএলও এর কান্ট্রি ডিরেক্টর তোমো পতিয়াইনের। তিনি বলেন, আমরা আশা করছি আগামীতে এ অবস্থার আরো উন্নতি অব্যাহত থাকবে। আইএলও বিশ্বাস করে যে কোন সমস্যা সংশ্লিষ্ট সকলের সাথে আলোচনার মাধ্যমে সমাধান সম্ভব। শ্রমিকদের কাজের দক্ষতা অর্জন ও বৃদ্ধির জন্য বিজিএমইএ এবং বিকেএমইএ এর মত প্রতিষ্ঠানগুলো আরো অবদান রাখতে পারে।

রোববার সচিবালয়ে আইএলও’র কান্ট্রি ডিরেকটর তোমো পতিয়াইনেরের সাথে বাণিজ্যমন্ত্রী টিপু মুনশির এক মতবিনিময় সভায় তিনি এসব কথা বলেন। এসময় তিনি বলেন, আইএলও বাংলাদেশকে সহযোগিতা অব্যাহত রাখবে। বাংলাদেশের তৈরী পোশাক কারখানাগুলো আধুনিক ও নিরাপদ হয়েছে, গ্রীন ফ্যাক্টরি গড়ে উঠছে, শ্রমিকদের মজুরী বেড়েছে। তৈরী পোশাকের উৎপাদন ব্যয় বেড়েছে। তৈরি পোশাকের মূল্য বৃদ্ধির বিষয়টি যৌক্তিক। বিজিএমইএ এবং বিকেএমইএ ক্রেতাদের নিয়ে তৈরি পোশাকের মূল্য বৃদ্ধি বিষয়ে আলোচনার উদ্যোগ নিলে আইএলও কারিগরি সহায়তা ও সহযোগিতা দিতে প্রস্তুত।

এর প্রেক্ষিতে বাণিজ্যমন্ত্রী টিপু মুনশি বলেন, বাংলাদেশের শ্রমিকরা এখন নিরাপদ ও কর্মবান্ধব পরিবেশে কাজ করছে এবং উপযুক্ত মজুরি পাচ্ছে। তাই ক্রেতাদের কাছ থেকে উপযুক্ত মূল্য বৃদ্ধি এখন সময়ের দাবি। এ ব্যাপারে আন্তর্জাতিক শ্রম সংস্থা (আইএলও) সর্বাত্মক সহযোগীতা দাবি করেন তিনি। মন্ত্রী বলেন, সরকারের আন্তরিক ইচ্ছায় এবং তৈরী পোশাক খারখানার মালিকদের সহযোগিতায় শ্রমিকদের অধিকার প্রতিষ্ঠায় আমূল পরিবর্তন এসেছে। শ্রমিকদের বেতন বেড়েছে, কারখানাগুলো নিরাপদ হয়েছে। বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, আইএলও’র পরামর্শে শ্রম আইন সংশোধন করে সময়োপযোগী করা হয়েছে। কারখানাগুলো আধুনিক ও নিরাপদ করতে মালিকদের বিপুল পরিমান অর্থ ব্যয় করতে হয়েছে। শ্রমিকদের নতুন মজুরি কাঠামো বাস্তবায়নে ব্যয় আরো বেড়েছে। কিন্তু তৈরী পোশাকের ক্রেতারা সে অনুপাতে পোশাকের মূল্য বাড়াচ্ছে না। তাই আইএলও তৈরী পোশাকের যৌক্তিক মূল্য বৃদ্ধির ক্ষেত্রে ভূমিকা রাখলে বাংলাদেশ উপকৃত হবে।

টিপু মুনশি বলেন, কারখানাগুলোকে নিরাপদ ও কর্মবান্ধব করতে দেশের পাশাপাশি অ্যাকর্ড ও অ্যালায়েন্স দীর্ঘদিন কাজ করেছে। আমরা বিশ্বাস করি রেমিডিয়েশন কো-অর্ডিনেশন সেল (আরসিসি) যথাযথ ভাবে দায়িত্ব পালনে সক্ষম হবে। বাংলাদেশ আইএলও’র সহযোগিতা পেয়েছে। আগামী দিনগুলোতেও বাংলাদেশ আইএলওকে সাথে নিয়ে কাজ করে যাবে।

এ সময় আরো উপস্থিত ছিলেন, বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব (রপ্তানি) তপন কান্তি ঘোষ।


আর্কাইভ