ঢাকা বুধবার, ডিসেম্বর ১২, ২০১৮



ঘোষণার চারদিন পরই নতুন মজুরি কাঠামোয় সংশোধনী

ডেস্ক রিপোর্ট: গত ২৫ নভেম্বর পোশাক খাতের নতুন মজুরি কাঠামো সরকারের পক্ষে প্রজ্ঞাপন আকারে জারি করেছে শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়। ডিসেম্বর থেকে এ কাঠামো বাস্তবায়নের এই ঘোষণার চারদিন পরই কাঠামোয় সংশোধনী আনা হয়েছে। গত ২৯ নভেম্বর এ সংশোধনীর প্রজ্ঞাপন জারি করেছে মন্ত্রণালয়।

নিম্নতম মজুরি বোর্ডে শ্রমিক প্রতিনিধিরা বলছেন, কাঠামো সংশোধনীর বিষয়ে তারা অবগত নন। পোশাক খাতের শ্রমিক প্রতিনিধি সংগঠনগুলো বলছে, কাঠামো সংশোধনীর মাধ্যমে কৌশলে শ্রমিককে বঞ্চিত করার পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়েছে।

সংশোধিত কাঠামোর প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, নতুন কাঠামোর একাধিক শর্তে পরিবর্তন আনা হয়েছে। শিক্ষানবিশ শ্রমিকের মাসিক মজুরি আরো স্পষ্ট করা হয়েছে। এছাড়া সোয়েটার কারখানার শ্রমিকদের মজুরির বিষয়টিও আরো স্বচ্ছ করা হয়েছে। গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন আনা হয়েছে কাঠামো অনুযায়ী মজুরি ও ভাতার বাইরে কোনো সুবিধা পেলে সেই বিষয়ে। আর এক্ষেত্রে কৌশলে শ্রমিকদের বঞ্চিত করার শর্ত জুড়ে দেয়া হয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন শ্রমিক প্রতিনিধিরা।

ছবি-সিপিডি

২৫ নভেম্বর প্রকাশিত প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, কাঠামোর তফসিল ‘ক’তে শিক্ষানবিশ শ্রমিকের ক্ষেত্রে উল্লেখ ছিল শিক্ষানবিশকালে শ্রমিক মাসিক সর্বসাকল্যে ৫ হাজার ৯৭৫ টাকা প্রাপ্ত হবেন।

সংশোধনীর প্রজ্ঞাপনীতে প্রতিস্থাপিত এ শর্তটির ক্ষেত্রে বলা হয়েছে, শিক্ষানবিশকালে শ্রমিকের মূল মজুরি ২ হাজার ৭৫০ টাকা, বাড়ি ভাড়া মূল মজুরির ৫০ শতাংশ হারে ১ হাজার ৩৭৫ টাকা, চিকিৎসা ভাতা ৬০০, যাতায়াত ভাতা ৩৫০ এবং খাদ্য ভাতা ৯০০ টাকা বাবদ মাসিক সর্বসাকল্যে ৫ হাজার ৫৭৫ টাকা মজুরি প্রাপ্ত হবেন।

২৫ নভেম্বরের প্রজ্ঞাপনে শর্ত নং ১২-তে উল্লেখ ছিল নির্ধারিত নিম্নতম মজুরি ও ভাতাদি ছাড়াও যদি ওই সেক্টরের কোনো শ্রমিক অব্যাহতভাবে কোনো অধিকার, সুযোগ-সুবিধা ও ভাতা পেয়ে থাকেন, তাহলে বাংলাদেশ শ্রম আইন, ২০০৬-এর ধারা ২(১০), ধারা ১০৮ এবং ধারা ৩৩৬-এর বিধান মোতাবেক ধারাবাহিকভাবে বলবৎ ও অব্যাহত থাকবে।

সংশোধিত প্রজ্ঞাপনে একই শর্তের প্রতিস্থাপিত ধারায় বলা হয়েছে, তফসিলে উল্লিখিত নিম্নতম মজুরি ও বিভিন্ন ভাতাদি ছাড়াও যদি ওই শিল্প সেক্টরে নিযুক্ত কোনো শ্রমিক বাংলাদেশ শ্রম আইন, ২০০৬ এবং বাংলাদেশ শ্রম বিধিমালা, ২০১৫ অনুযায়ী কোনো অধিকার, সুযোগ-সুবিধা ও ভাতাদি পেয়ে থাকেন, তাহলে তা ওই অধিকার, সুযোগ-সুবিধা ও ভাতাদি ধারাবাহিকভাবে বলবৎ ও অব্যাহত থাকবে।

বাংলাদেশ অ্যাপারেল ওয়ার্কার্স ফেডারেশনের সভাপতি মো. তৌহিদুর রহমান বলেন, ২০১৩-তে বলা ছিল প্রজ্ঞাপনে নির্দেশিত বিধিবহির্ভূত যেসব সুযোগ-সুবিধা শ্রমিক প্রাপ্ত হতেন, সেটা বাংলাদেশ শ্রম আইনের ধারা অনুযায়ী অব্যাহত রাখতে হবে, কমানো যাবে না। কিন্তু এবারের মূল প্রজ্ঞাপনের সংশোধনীতে সুকৌশলে বলা হচ্ছে, বাংলাদেশ শ্রম আইন ও বিধিমালার মধ্যে বর্ণিত সুযোগ-সুবিধা। এখানে নির্দিষ্ট ক্যাটাগরি করে ফেলা হয়েছে। অর্থাৎ ক্যাটাগরিবহির্ভূত কোনো সুযোগ-সুবিধা যদি শ্রমিকরা পায় সেটা যদি মালিকপক্ষ না দেন, তাহলে আর আইনের দ্বারস্থ হওয়া যাবে না। কারণ সংশোধনীর মাধ্যমে তা বন্ধ করে দেয়া হয়েছে। এখন বলা হচ্ছে, কাঠামোর মধ্যে যেগুলো আছে সেগুলোর বিষয়ে। এর প্রতিক্রিয়ায় একটা কথাই বলা যায় যে, এটা প্রকারান্তরে শ্রমিকরা এতদিন বর্ণিত সুযোগ-সুবিধার বাইরে যে সুযোগ-সুবিধা পেত, সেগুলো থেকে শ্রমিকদের বঞ্চিত করার অপকৌশল মাত্র।

Write a comment

Print Friendly, PDF & Email

এই বিভাগের আরও খবর


আর্কাইভ



error: Content is protected !!