ঢাকা বুধবার, ডিসেম্বর ১২, ২০১৮



আইএএফের সাথে বিকেএমইএর বৈঠক অনুষ্ঠিত

নিজস্ব প্রতিনিধি: ইন্টারন্যাশনাল অ্যাপারেল ফেডারেশনের (আইএএফ) সাথে গতকাল বিকেএমইএর দ্বিপক্ষীয় বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বিকেএমইএ ঢাকা কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত এ বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন বিকেএমইএর সাবেক সভাপতি ফজলুল হক, বর্তমান প্রথম সহসভাপতি মনসুর আহমেদ, সাবেক প্রথম সহসভাপতি এম এ হাতেম। আইএএফের পক্ষ থেকে উপস্থিত ছিলেন সভাপতি হ্যান বেকে, সেক্রেটারি জেনারেল ম্যাথিস ক্রিয়েত। এ ছাড়াও বৈঠকে আরো উপস্থিত ছিলেন, বিকেএমইএর পরিচালক মোস্তফা জামাল পাশা, শহীদ উদ্দিন আহমেদ আজাদ মোস্তফা মনোয়ার ভূঁইয়াসহ বিকেএমইএর বিভিন্ন সেলের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা।

হ্যান বেকে বলেন, অ্যাপারেল ব্যবসায়ীদের জন্য আইএএফ একটি বৈশ্বিক প্ল্যাটফর্ম। তাই বৈশ্বিকভাবেই সব টেক্সটাইল ও অ্যাপারেল উৎপাদক ও রফতানিকারক সংস্থাগুলোকে নিয়ে সাপ্লাই চেইনে একীভূত করতে চায়। তিনি জানান, এ দেশের পোশাক খাতের উন্নতি সন্তোষজনক। এই খাতকে টেকসই করতে হলে ক্রেতা ও উদ্যোক্তার মধ্যে স্বতঃস্ফূর্ত যোগাযোগ হওয়া বাঞ্ছনীয় বলে তিনি মনে করেন। এ ছাড়া ক্রেতা এবং উৎপাদক ও রফতানিকারকদের মধ্যে পারস্পরিক সম্পর্ক উন্নয়নেও কাজ করে আইএএফ।

বাংলাদেশের পোশাক কারখানার সংস্কার তদারকিতে থাকা অ্যাকর্ড ও অ্যালায়েন্স অহেতুক হয়রানি করছে উল্লেখ করে এ ব্যাপারে আইএফের প্রতি দৃষ্টি আকর্ষণ করেন বিকেএমইএর প্রথম সহসভাপতি মনসুর আহমেদ। একাধিক সংস্থার সার্টিফিকেশনের বদলে একটি আন্তর্জাতিক মানের একীভূত সার্টিফিকেশন প্রণয়নের জন্য আইএফের সভাপতির প্রতি আহ্বান জানান।

ক্রেতাদের কাছ থেকে ন্যায্যমূল্য না পাওয়া এবং প্রতি সিজনেই মূল্য কমিয়ে দেয়ার বিষয়টি উল্লেখ করে বিকেএমইএর সাবেক প্রথম সহসভাপতি এম এ হাতেম বলেন, সাসটেইন্যাবলিটি কমপ্যাক্টের তৃতীয় পিলার, যা ন্যায্যমূল্যের কথা উল্লেখ করে। কিন্তু এর বাস্তবায়নে দৃশ্যমান কোনো অগ্রগতি দেখা যায় না। আমাদের শ্রমিকদের মজুরি বৃদ্ধি করা হয়েছে জেনেও ব্র্যান্ড ও ক্রেতা প্রতিষ্ঠানগুলো কম দামে পণ্য কিনতে প্রতিযোগিতা করে এ দেশে। এমনকি অনেক ক্ষেত্রে পণ্য হাতে পাওয়ার পর তুচ্ছ কারণে পণ্যের মূল্য ছাড়ের কথা বলে ক্রেতা প্রতিষ্ঠানগুলো, যা আন্তর্জাতিক পর্যায়ে ব্যবসার পরিবেশ নষ্ট করছে। এ নিয়ে ক্রেতা জোটগুলোর সাথে আলোচনার জন্য আইএএফের প্রতি দৃষ্টি আকর্ষণ করেন তিনি। আইএএফের সেক্রেটারি জেনারেল এ ব্যাপারে একমত পোষণ করে এটিকে ক্রিমিনাল সোর্সিং প্র্যাকটিস বলে উল্লেখ করেন। এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেয়ার আশ্বাস দেন তিনি। সেই সাথে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে বিভিন্ন ট্রেড ফেয়ারে অংশগ্রহণের বিষয়টিকে তুলে ধরেন।

এর পরিপ্রেক্ষিতে বিকেএমইএর সাবেক সভাপতি ফজলুল হক বলেন, প্রচলিত ট্রেড ফেয়ারগুলো এখন আগের মতো কার্যকর নয়। তাই এর বিকল্প হিসেবে আইএএফ কর্তৃক নির্ধারিত পোশাক পণ্যের বৈশিষ্ট্যের ভিত্তিতে বিশেষায়িত মেলায় অংশগ্রহণের ব্যাপারে অ্যাসোসিয়েশনগুলোকে সুপারিশ করা যেতে পারে। এ ছাড়াও নেতিবাচক ধারণার বাইরে এসে ২০১৯ সালে বাংলাদেশের পোশাক খাতের ইতিবাচক অগ্রগতির কথা তুলে ধরতে ক্রেতা প্রতিষ্ঠানগুলোর প্রতিনিধিদের অংশগ্রহণের মাধ্যমে ঢাকায় একটি আন্তর্জতিক কনফারেন্স আয়োজনে আইএফএর প্রতি আহ্বান জানান তিনি। তিনি আরো বলেন, ২০২১ সালের মধ্যে বাংলাদেশ মধ্যম আয়ের দেশে পরিণত হবে এবং ২০২৭ সালের মধ্যে ইউরোপের বাজারে জিএসপি হারাবে। এ কারণে জিএসপি প্লাস পেতে নতুন করে আরোপিত শর্তগুলো যেন না থাকে সে ব্যাপারে যথাযথ উদ্যোগ নিতে আইএএফের প্রতি অনুরোধ জানান তিনি।

Write a comment

Print Friendly, PDF & Email

এই বিভাগের আরও খবর


আর্কাইভ



error: Content is protected !!