ঢাকা সোমবার, মে ২৭, ২০১৯



৫৩৪টি পোশাক কারখানা থেকে পণ্য না কেনার সুপারিশ করতে যাচ্ছে অ্যাকর্ড

ডেস্ক রিপোর্ট: সংস্কার কার্যক্রমের অগ্রগতি সন্তোষজনক না হওয়ায় ৫৩৪টি পোশাক কারখানা থেকে  ক্রেতাদেরকে পণ্য না কেনার সুপারিশ করতে যাচ্ছে অ্যাকর্ড। এরই মধ্যে বিষয়টি ক্রেতাদের জানিয়ে দিয়েছে ইউরোপীয় ক্রেতা জোটটি। এ খাতের শীর্ষ ব্যবসায়ীদের কারখানাও রয়েছে অ্যাকর্ডের সুপারিশের তালিকায়।

দেশের পোশাক কারখানা সংস্কারের জন্য গঠিত ইউরোপীয় ক্রেতাজোট অ্যাকর্ডের পাঁচ বছরের মেয়াদ শেষ হয় গত মে মাসে। এরপর ‘ট্রানজিশনাল অ্যাকর্ড’ নামে জোটটির কার্যক্রম আরো ছয় মাস চালিয়ে যাওয়ার অনুমতি দেন হাইকোর্ট। বর্ধিত এ মেয়াদ শেষ হচ্ছে ৩১ নভেম্বর। এরপর আর কার্যক্রম চালাতে পারবে না অ্যাকর্ড। এ সময়ের মধ্যে সংস্কার কার্যক্রমে অগ্রগতি না হওয়া কারখানার সঙ্গে ব্যবসা না করতে ক্রেতাদের সুপারিশ করতে যাচ্ছে ক্রেতা জোটটি। বিষয়টি জানিয়ে ৮ নভেম্বর অ্যাকর্ডের পক্ষ থেকে ক্রেতাদের কাছে চিঠিও পাঠানো হয়েছে।

অ্যাকর্ডের চিফ সেফটি  ইন্সপেক্টর স্টিফেন কুইন স্বাক্ষরিত ওই চিঠিতে তালিকাভুক্ত কারখানাগুলোর বিষয়ে বলা হয়েছে, বাংলাদেশের উচ্চ আদালতের আদেশ তুলে নেয়া না হলে অ্যাকর্ডের বাংলাদেশ কার্যালয় বন্ধ করে দিতে হবে। বন্ধের এ সিদ্ধান্ত কার্যকর হবে চলতি বছরের ১ ডিসেম্বর থেকে। এর প্রভাব পড়বে অ্যাকর্ড কর্তৃক কারখানাগুলোর নজরদারি ও সংশোধন কার্যক্রমে।

ক্রেতাদের কাছে পাঠানো চিঠিতে অ্যাকর্ড বলেছে, যে কারখানাগুলো দ্বিতীয় ধাপে আছে, তাৎক্ষণিকভাবে তাদের তৃতীয় ধাপের কারখানা হিসেবে বিবেচনায় নেয়া হবে। এ প্রক্রিয়ায় ১৩৯টি কারখানা অ্যাকর্ডে স্বাক্ষরকারী ক্রেতার জন্য পণ্য প্রস্তুতের অযোগ্য হবে। ৩০ নভেম্বর পর্যন্ত ছয় মাসের বেশি সময় ধরে প্রথম ধাপে আছে, এমন ৩৯৩টি কারখানা দ্বিতীয় ও তৃতীয় ধাপের কারখানায় পরিণত হবে, যা কার্যকর হবে ১ জানুয়ারি ২০১৯ থেকে। এ হিসেবে অ্যাকর্ডের সিদ্ধান্তটি কার্যকর হবে মোট ৫৩৪টি কারখানার ক্ষেত্রে।

সময়মতো সংস্কার করতে না পারা কারখানাগুলোকে তিনটি ধাপে সতর্ক করে অ্যাকর্ড। প্রথম ধাপে নন-কমপ্লায়েন্স চিঠি পাঠানো হয়। এ ধাপে সংস্কার কার্যক্রমে অগ্রগতি না হলে দ্বিতীয় ধাপে কারখানার সঙ্গে ব্যবসা আছে, এমন ক্রেতাপ্রতিষ্ঠানগুলোকে সতর্কতামূলক বার্তা পাঠানো হয়। এ ধাপের পরও সংস্কার কার্যক্রমে অগ্রগতি না হলে তৃতীয় ধাপে ক্রেতাদের কাছে সংশ্লিষ্ট কারখানাগুলোর সঙ্গে ব্যবসা না করতে পদক্ষেপ নিতে বলা হয়। এ প্রক্রিয়া অনুসরণ করেই ৩০ নভেম্বরের পর সংস্কার কার্যক্রমে পিছিয়ে থাকা কারখানাগুলোর বিষয়ে ব্যবস্থা নিতে যাচ্ছে অ্যাকর্ড।

তৃতীয় ধাপে থাকা এমন একটি কারখানা বিজিএমইএ সহসভাপতি ফারুক হাসানের জায়ান্ট অ্যাপারেলস। সংস্কার কার্যক্রমের অগ্রগতি পর্যাপ্ত নয় কারখানাটির। এ কারণে ক্রেতার সঙ্গে ব্যবসার যোগ্যতা হারানোর পথে আছে।

কারখানাগুলোর বিষয়ে অ্যাকর্ডের এমন  সিদ্ধান্ত নেয়ার বিষয়ে  জানতে চাইলে বিজিএমইএ সভাপতি সিদ্দিকুর রহমান বণিক বার্তার বরাত দিয়ে বলেন, অ্যাকর্ডের অবর্তমানে পোশাক কারখানা সংস্কার তদারকি নিয়ে জাতীয় পর্যায়ে গঠিত ট্রানজিশন মনিটরিং কমিটির সভায় আলোচনা হবে। তাদের থাকা না-থাকার সিদ্ধান্তের এখতিয়ার এখন শুধু উচ্চ আদালতের।

উল্লেখ্য, অ্যাকর্ডের মূল্যায়নের আওতায় ছিল মোট ১ হাজার ৬৯০টি কারখানা। এর মধ্যে প্রায় ৯০০ কারখানার সংস্কার অগ্রগতি ৯১ থেকে ১০০ শতাংশ। প্রায় ২৭০টি কারখানার অগ্রগতি ৮১ থেকে ৯০ শতাংশ। দেড়শর মতো কারখানা আছে, যেগুলোর সংস্কার অগ্রগতি ৭১ থেকে ৮০ শতাংশ। বাকি কারখানাগুলোর সংস্কার অগ্রগতি শূন্য থেকে ৭০ শতাংশ পর্যন্ত। সব মিলিয়ে সেপ্টেম্বর শেষে অ্যাকর্ডের তালিকাভুক্ত কারখানাগুলোর ত্রুটি সংস্কার অগ্রগতি ৮৯ শতাংশ।


আর্কাইভ