ঢাকা সোমবার, নভেম্বর ১৯, ২০১৮



সময়মতো সংস্কার হয়নি চট্টগ্রামের ৮৩ কারখানায়

ডেস্ক রিপোর্ট: পোশাক খাতের কারখানাগুলোর কর্মপরিবেশ ও শ্রমনিরাপত্তা মূল্যায়ন কার্যক্রমের অংশ হিসেবে ১৪২টি প্রতিষ্ঠানকে চলতি বছরের ডিসেম্বরের মধ্যে কারখানা সংস্কারের জন্য সময় বেঁধে দিয়েছিল সরকার, যার মধ্যে চট্টগ্রামভিত্তিক প্রতিষ্ঠানের সংখ্যা প্রায় ৮৩ টি। এজন্য মাত্র দুই মাস বাকি থাকলেও এখনো সংস্কারকাজ শুরুই করেনি অধিকাংশ প্রতিষ্ঠান। এ অবস্থায় ডিসেম্বরের মধ্যে কারখানাগুলো সংস্কারকাজ সম্পন্ন করতে না পারলে আইনানুযায়ী ব্যবস্থা নেবে বলে জানিয়েছে কল-কারখানা ও প্রতিষ্ঠান পরিদর্শন অধিদপ্তর (ডিআইএফই)। বিষয়টি নিয়ে পোশাক খাতের মালিকদের সংগঠন বিজিএমইএকে চিঠি দিয়েছে ডিআইএফই।

তবে ডিআইএফই যে সময় বেঁধে দিয়েছে, তার মধ্যে সংস্কারকাজ শেষ করা সম্ভব নয় বলে মনে করছেন পোশাক শিল্পের সঙ্গে সংশ্লিষ্টরা। এমনটি যদি হয়, তাহলে বন্ধ হয়ে যেতে পারে এসব কারখানা।

ডিআইএফইর তথ্যমতে, তারা দেশের পোশাক শিল্পের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট কারখানাগুলোর সংস্কারের যে তালিকা দিয়েছে, তার মধ্যে চট্টগ্রামের প্রতিষ্ঠানের সংখ্যা ৮৩, যা মোট তালিকার প্রায় ৫৯ শতাংশ। এখন পর্যন্ত সামান্য কিছু কারখানা সংস্কারের উদ্যোগ নিলেও অনেক কারখানা এখনো সংস্কারের উদ্যোগ নেয়নি। এর মধ্যে বেশকিছু প্রতিষ্ঠান বন্ধ আছে। নির্দেশনা অনুযায়ী চলতি বছরের ডিসেম্বরের মধ্যে তালিকায় থাকা সব প্রতিষ্ঠানের কারখানা সংস্কারকাজ সম্পন্ন করার কথা।

চট্টগ্রাম ডিআইএফইর উপমহাপরিদর্শক মো. আব্দুল হাই খান বণিক বার্তার বরাত দিয়ে জানান, ‘চট্টগ্রামের অনেক পোশাক কারখানা নিয়ম মেনে স্থাপন করা হয়নি। আমাদের কাছে এসব প্রতিষ্ঠানের তালিকা এসেছে। প্রতিষ্ঠানগুলোর চলতি বছরের ডিসেম্বরের মধ্যে কারখানা সংস্কার করার কথা। আমরা তালিকায় থাকা প্রতিষ্ঠানগুলোকে চিঠি দিয়েছি। কিছু প্রতিষ্ঠান আমাদের কাছে সংস্কারের অগ্রগতি নিয়ে বিস্তারিত জানিয়েছে। আমরা পরিদর্শন করে সেগুলোর বিষয়ে প্রতিবেদন জমা দেব। অনেক প্রতিষ্ঠান এখনো তাদের সংস্কার পরিকল্পনা সম্পর্কে আমাদের অবহিত করেনি। সময়ের মধ্যে তারা যদি তাদের সংস্কারকাজ শেষ করতে না পারে, তাহলে আইন অনুযায়ী পদক্ষেপ নেয়া হবে।

ডিআইএফইর তালিকায় এক প্রতিষ্ঠানের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা বলেন, আমাদের কাছে ডিআইএফই চিঠি দিয়ে ইউটিলাইজেশন পারমিশন (ইউডি) বন্ধ করার কথা জানিয়েছে। এছাড়া আমাদের প্রতিষ্ঠানের ভবনের মান নিয়ে প্রশ্ন তোলা হয়েছে। আমরা এরই মধ্যে শহরের বাইরে কারখানা স্থানান্তরের কথা জানিয়েছি। তার পরও এ ধরনের চিঠি দিয়ে প্রতিষ্ঠানের কার্যক্রম বন্ধ রাখা দেশের স্বার্থে খুব একটা ভালো বলে আমি মনে করি না। এটার জন্য বিজিএমইএকে পদক্ষেপ নিতে হবে।

তালিকায় থাকা একাধিক প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তারা জানান, তালিকায় চট্টগ্রামের যেসব প্রতিষ্ঠানের নাম উল্লেখ করেছে ডিআইএফই, তার মধ্যে বেশকিছু প্রতিষ্ঠান অনেক আগেই বন্ধ হয়ে গেছে। তাছাড়া যে প্রতিষ্ঠানগুলো কার্যক্রমে আছে, তার মধ্যে ৩০-৩৫টি প্রতিষ্ঠানের ইউডি চালু আছে, বাকিগুলো বন্ধ আছে। তাছাড়া রানা প্লাজা ও তাজরীন ফ্যাশনস বিপর্যয়ের পর অ্যাকর্ড ও অ্যালায়েন্সের কমপ্লায়েন্স ইস্যুতে চট্টগ্রামে অনেক কারখানা বন্ধ হয়ে গেছে। নতুন শিল্পপল্লী এ অঞ্চলে গড়ে না ওঠায় অনেকে শহরের বাইরে জমি কিনে প্রতিষ্ঠানগুলো নতুন করে দাঁড়ানোর চেষ্টা করছে। এখন এ ধরনের চিঠি পোশাক খাতের ব্যবসায়ীদের মধ্যে বিরূপ প্রভাব ফেলতে পারে।

এদিকে বিজিএমইএর কর্মকর্তারা জানান, চট্টগ্রামে শিল্প এলাকা না থাকায় নতুন করে কোনো পোশাক শিল্পের কারখানা গড়ে ওঠেনি। ঢাকা, নারায়ণগঞ্জ ও গাজীপুরে স্বল্পমূল্যে জমি পাওয়া গেলেও চট্টগ্রাম অঞ্চলে জমির দাম অনেক বেশি। এজন্য চাইলেও সহজে কারখানা স্থানান্তর করা সম্ভব হচ্ছে না।

এ প্রসঙ্গে বিজিএমইএ পরিচালক আ ন ম সাইফুদ্দিন বলেন, চট্টগ্রামে যেসব পোশাক কারখানা আছে, সেগুলোর বেশির ভাগ শেয়ার্ড ভবনে। ভবন মালিকদের সহযোগিতা না পাওয়ায় ফায়ার সেফটিসহ অন্যান্য কাজ করা সম্ভব হচ্ছে না। এ কারণে প্রতিষ্ঠানগুলো ভুক্তভোগী হচ্ছে। ফলে নিয়মানুযায়ী প্রতিষ্ঠানগুলো একসময় বন্ধ হয়ে যাবে।

Write a comment

Print Friendly, PDF & Email

এই বিভাগের আরও খবর


আর্কাইভ



error: Content is protected !!