ঢাকা বুধবার, ডিসেম্বর ১২, ২০১৮



পোশাক খাতের চাকা ফের সচল, তিন মাসে রপ্তানি আয় ৮১৯.১৬ কোটি ডলার

ডেস্ক রিপোর্ট: দেশের তৈরি পোশাক খাতের চাকা ফের সচল হয়েছে। এক বছরের ব্যবধানে পোশাক খাত আবার ঘুরে দাঁড়িয়েছে। কারখানাগুলোতে ক্রয়াদেশ বৃদ্ধি পাওয়ায় রপ্তানি আয়ও সমানতালে বাড়ছে। চলতি ২০১৮-১৯ অর্থবছরের প্রথম তিন মাসে (জুলাই-সেপ্টেম্বর) তৈরি পোশাক রপ্তানিতে ৮১৯ কোটি ১৬ লাখ ডলার আয় হয়েছে। এই আয় গত অর্থবছরের একই সময়ের চেয়ে ১৪ দশমিক ৬৬ শতাংশ বেশি।

অবশ্য পোশাক রপ্তানিতে গত ২০১৬-১৭ অর্থবছরে প্রবৃদ্ধি ছিল মাত্র শূন্য দশমিক ২০ শতাংশ, যা তার আগের ১৫ বছরের মধ্য সর্বনিম্ন। পরের অর্থবছর পোশাক রপ্তানি প্রবৃদ্ধি বেড়ে ৮ দশমিক ৭৬ শতাংশে দাঁড়ায়। চলতি অর্থবছরের প্রথম মাসে সেটি বৃদ্ধি পেয়ে ২১ দশমিক ৭২ শতাংশ হয়। পরে মাসে সেটি কিছুটা কমে গেলেও সেপ্টেম্বরে আবার বৃদ্ধি পায়।

এদিকে পোশাক রপ্তানিতে ভালো প্রবৃদ্ধি হওয়ায় সামগ্রিক পণ্য রপ্তানিতে ইতিবাচক প্রভাব পড়েছে। চলতি অর্থবছরের প্রথম তিন মাসে ৯৯৪ কোটি ডলারের পণ্য রপ্তানি হয়েছে। এই আয় গত অর্থবছরের একই সময়ের চেয়ে ১৪ দশমিক ৭৫ শতাংশ এবং আলোচ্য সময়ের লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে ৬ দশমিক ৫৪ শতাংশ বেশি। রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরো (ইপিবি) গতকাল সোমবার রপ্তানি আয়ের এই হালনাগাদ পরিসংখ্যান প্রকাশ করেছে। তাতে দেখা গেছে, গত সেপ্টেম্বরে ৩১৪ কোটি ডলারের পণ্য রপ্তানি হয়েছে। এটি গত বছরের সেপ্টেম্বরের চেয়ে ৫৪ দশমিক ৬৪ শতাংশ বেশি।

মোট পণ্য রপ্তানির ৮২ দশমিক ৩৯ শতাংশ পোশাক খাত থেকে এসেছে। চলতি অর্থবছরের প্রথম তিন মাসে ৮১৯ কোটি ডলারের পোশাক রপ্তানির মধ্যে ৪২০ কোটি ৬৮ লাখ ডলার নিট পোশাক থেকে এসেছে। আর ওভেন পোশাকের রপ্তানি ৩৯৮ কোটি ৪৮ লাখ ডলার। ওভেনে ১৭ শতাংশ প্রবৃদ্ধি হলেও নিট পোশাকে তা ১২ শতাংশ।

জানতে চাইলে তৈরি পোশাকশিল্প মালিকদের সংগঠন বিজিএমইএর সহসভাপতি ফারুক হাসান প্রথম আলোর বরাত দিয়ে বলেন, ‘গত বছরের সেপ্টেম্বরে ঈদ থাকায় রপ্তানি কম হয়েছিল। তবে গত সেপ্টেম্বরে সারা মাস কাজ হয়েছে। রপ্তানিও বেশি হয়েছে। তবে তিন মাসের গড় প্রবৃদ্ধি ১৪ দশমিক ৬৬ শতাংশ হওয়ার কারণ হচ্ছে, কারখানাগুলোতে ক্রয়াদেশ বেড়েছে। কর্মপরিবেশ উন্নয়ন, যন্ত্রপাতির আধুনিকায়ন ও সক্ষমতা বৃদ্ধির ফলে ক্রেতাদের আস্থা ফিরে এসেছে। তা ছাড়া যুক্তরাষ্ট্র ও চীনের মধ্যে বাণিজ্যযুদ্ধ চলছে। ফলে অতিরিক্ত শুল্কের হাত থেকে বাঁচতে মার্কিন ক্রেতাপ্রতিষ্ঠানের ক্রয়াদেশ আগের চেয়ে বাড়তে শুরু করেছে। আশা করছি, শিগগিরই রপ্তানি আয় আরও বাড়বে।’

ফারুক হাসান আরও বলেন, ‘বিভিন্ন কারণে গত কয়েক বছরে ব্যবসার খরচ বেড়েছে। শ্রমিকের মজুরিও শিগগিরই বাড়বে। কিন্তু পোশাকের দাম বাড়াচ্ছেন না ক্রেতারা। আশার কথা, ক্রয়াদেশ ভালো থাকলে আমরা পোশাকের দাম নিয়ে ক্রেতাদের সঙ্গে দর-কষাকষি করতে পারব।’

Write a comment

Print Friendly, PDF & Email

এই বিভাগের আরও খবর


আর্কাইভ



error: Content is protected !!