ঢাকা বৃহস্পতিবার, সেপ্টেম্বর ২৩, ২০২১



দৃষ্টিভঙ্গি: প্রো-অ্যাকটিভ এবং রি-অ্যাকটিভ

মোঃ সাহাব উদ্দিন: আগেই বলে রাখছি আমি কোন মনোবিধ নই, সবারই জানা তাই আজ আবার জানিয়ে দেয়া মাত্র। হ্যাঁ, দৃষ্টিভঙ্গি সম্পর্কে কথা বলবো আজ। এটা আমাদের মানসিকতা প্রকাশক ধরতে পারেন। পোশাক খাতের একজন মানব সম্পদ পেশাজীবী হিসেবে বলতে পারি কাজের কথা, আমি আমার কাজের সম্পর্কে যা মনোভাব পোষণ করি সেটাই কাজের প্রতি আমার দৃষ্টিভঙ্গি। চাপ বেশি থাকলে আমার মনে হয় এই কাজটা আমার জুনিয়রদের সাথে ভাগাভাগি করে করলে সহজতর হতে পারে, মিলে কাজ করার ব্যাপারে তাদের সম্পর্কে এটা আমার দৃষ্টিভঙ্গি। সোজা কথায়, কারও বা কিছু সম্পর্কে একটা স্পষ্ট ও সংগঠিত অনুভূতি পোষণ করাটাই হলো দৃষ্টিভঙ্গি। ভালোও হতে পারে, হতে পারে খারাপ। মাঝে মধ্যে কাজের চাপে উত্তেজিত হয়ে মাথা গরম হয়ে যায়, এটাও দৃষ্টিভঙ্গি। কখনও আবার আমরাই শত চাপের মধ্যেও মাথায় নবরত্ন লাগিয়ে সব কাজ সাবাড় দেই, এটাও। এখন বিষয় হচ্ছে আমার চিন্তার স্থানে দৃষ্টিভঙ্গি সম্পর্কে যে ব্যাসিক কনসেপ্ট থাকার দরকার সেটা কোন পর্যায়ে আছে এবং কি ভাবে কাজ করছে সেটা দেখি-

আমাদের আধুনিক বিজ্ঞানীরা মনে করেন মানুষের দৃষ্টিভঙ্গি দু’ধরনের হয়ে থাকে। প্রো-অ্যাকটিভ এবং রি-অ্যাকটিভ। প্রো-অ্যাকটিভ হল পজিটিভ, যে কোন পরিস্থিতিতে উত্তেজিত বা আবেগ প্রবণ না হয়ে স্বীয়-জ্ঞান কাজে লাগিয়ে ঠান্ডা মাথায় চিন্তা-ভাবনা করে সঠিক সিদ্ধান্ত ও পদক্ষেপ গ্রহন করা। অন্যের কাজে প্রতিক্রিয়া হিসেবে কোন কাজ বা আচরণ না করা। সর্বাবস্থায় নিজের লক্ষ্য ও দৃষ্টিভঙ্গি অনুসারে আচরণ ও কর্মপন্থা অবলম্বন করা। কি নেই তা নিয়ে হা-হুতাশ না করে যা আছে তা নিয়েই সুপরিকল্পিতভাবে কাজ শুরু করা। প্রো-অ্যাকটিভ দৃষ্টিভঙ্গি সবসময় সাফল্য ও বিজয় ছিনিয়ে আনে।

বলা যেতে পারে, ২০১৮ সালের জানুয়ারী থেকে জুলাই মাস পর্যন্ত আমার কারখানায় ১৫ লাখ ডেনিম উৎপাদন করার লক্ষ্য নিয়েছিলাম, কিন্তু হয়েছে ১০ লাখ। এখন কি জাদু করা সম্ভব?- না। বিশ্বাস রাখতে হবে স্ব স্ব স্থান থেকে সবাই তাদের সর্বোচ্চ চেষ্টা করেছে এবং ভবিষ্যতেও করবে। প্রো-অ্যাকটিভ দৃষ্টিভঙ্গি।

অপরদিকে রি-অ্যাকটিভ হলো নেগেটিভ। নেগেটিভ চিন্তা করা আমাদের অনেকেরই অভ্যাস। অনেক ভালো কাজেও বিপরীত খুজে বেড়াই। এ দৃষ্টিভঙ্গি সবসময় ব্যর্থতা,হতাশা ও অশান্তি সৃষ্টি করে। রি-অ্যাকটিভ হলে নিয়ন্ত্রণ তখন নিজের হাতে থাকে না। নিয়ন্ত্রণ চলে যায় অন্যের হাতে । আমরা যখন অন্যের কথায় কষ্ট পাই,অন্যের কথায় রেগে যাই , অন্যের আচরণে ক্রোধে ফেটে পড়ি, অন্যের তোষামোদিতে উৎফুল্ল হয়ে উঠি,অন্যের চাটুকারিতায় গলে যাই,অন্যের কথায় কাজ কাজ করি,তখন নিয়ন্ত্রন আর আমার হাতে থাকে না, চলে যায় অন্যের হাতে। নিয়ন্ত্রণ অন্যের হাতে চলে গেলে পরিণতি কি হয় তা আমরা ভালো করেই বুঝি!

রি-অ্যাকটিভ হলে কেমন হতে পারে উদাহরণ স্বরুপ বলা যেতে পারে, ধরুন আপনি সকল নিয়ম-কানুন মেনে যোগ্যতার বিচারে কর্তৃপক্ষের সাথে আলোচনা সাপেক্ষে প্রতিষ্ঠানে সকল বিষয়াদী জেনে শুনে চাকুরীতে যোগদান করেছেন। যোগদানের কিছুদিন পর আপনার প্রতিষ্ঠানে কর্মরত বিভিন্ন সময়ে আপনার সহপাঠিগণ সবর্দা বলতে থাকলো- ‘এখানে চাকুরী করে কোন ভবিষ্যৎ নাই, বছর শেষে বেতন কম বাড়ে, উপরের বসেরা খারাপ ব্যবহার করে, দীর্ঘদিন চাকুরী করে শূন্য হাতে ফিরে যেতে হবে, আশে-পাশের প্রতিষ্ঠানগুলোতে সুযোগ-সুবিধা বেশী’! এমন প্রতিক্রিয়া শোনার পর আপনি কোন বাচ-বিচার ছাড়াই ভবিষ্যতের কথা চিন্তা করে চাকুরী থেকে অব্যাহতি দিয়ে চলে গেলেন এরই নাম রি-অ্যাকটিভ।

আমার দৃষ্টিভঙ্গির লেভেলটা জানালাম, আপনার?

Comments


আর্কাইভ