ঢাকা, আজ বৃহস্পতিবার, ৬ই আশ্বিন, ১৪২৪ বঙ্গাব্দ, এখন রাত ১২:০৫

গার্মেন্টস সেক্টরে ক্যারিয়ারের বিপুল সম্ভাবনা এবং প্রিজুডিসড আমরা

ওয়ালিদুর রহমান : অপর্চুনিটি কস্ট ও অপর্চুনিটি লস নামে একটা কনসেপ্ট আছে। একজন মানুষ বা প্রতিষ্ঠান তার বিদ্যমান কনটেক্সট এ যতটা গ্রো করতে পারত তার কতটা সে পারছে, কতটা নষ্ট করছে, তার ইমপ্যাক্ট কী- সেটাই অপর্চুনিটি কস্ট ও লস। বাংলাদেশের গার্মেন্টস কারখানাগুলোর অপর্চুনিটি কস্ট খুব বেশি যদিও সেটা এই ৪০ বছর বয়সি ইন্ডাস্ট্রির জন্য খুব বৈসদৃশ। এর পেছনে সবচেয়ে দায়ী-কমিটমেন্টের অভাব, ডেসপারেশনের অভাব, আর স্মার্ট কর্মীর অভাব। গার্মেন্টস খাত তার বিপুল সম্ভাবনার খুবই কম অংশই কাজে লাগাতে পারছে এই তিনটির অভাবে। ফলে ভাগ্যের রশিটা হাতের নাগালে আসলেও সেটাকে খাবলে ধরবার অভাবে হাতছাড়া হয়।

ব্লু করার জব ও হোয়াইট কলার জব নামক দুটি অধরা বস্তু আছে। দুটির জন্যই সদ্য পাশ করা টগবগে স্নাতক হতে শুরু করে রানিং কর্পোরেট দাস সবাই লালায়িত। আবার হোয়াইট কলার জব ও ব্লু কলার জব যেমন আছে তেমনি হোয়াইট কলার ক্রাইম ও ব্লু কলার ক্রাইম আছে। কর্পোরেট ওয়ার্ল্ডে আবার দুই কলারের মালিকরা ক্লাস মেইনটেইন করে তফাতে থাকেন। পৃথিবীতে লিগ্যাল ও এথিক্যাল এবং ইলিগ্যাল ও আনএথিক্যাল এই চারটি বিষয় আছে। অনেক বিষয় আছে যা লিগ্যাল কিন্তু আনএথিক্যাল। আবার অনেক কাজ ইলিগ্যাল কিন্তু এথিক্যাল। এই কথাগুলো কেন বললাম সেটা পুরোটা পড়লে বুঝবেন।

আমাকে আমার সমাজকর্মী এক বন্ধু শফিউল আযম অনুরোধ করেছিলেন গার্মেন্টস সেক্টরে ক্যারিয়ারের সুযোগ, সমস্যা ও সম্ভবনা নিয়ে কিছু লিখতে। তার কথায় অনুপ্রাণিত হয়েই লিখছি। ২৮ বিলিয়ন ডলার রপ্তানী কিংবা ৫০ লক্ষ কর্মীর এই সেক্টরের ক্যারিয়ার সম্পর্কে বলতে গেলে সেটা খুব লম্বা হওয়াটাই স্বাভাবিক। আমি ধরে নিচ্ছি আমার এই লেখাটি শুধু ক্যারিয়ারিষ্ট পাঠকরাই পড়বেন। তাই কলেবর নিয়ে ভাবনাটা দুরে সরিয়ে রাখছি। আমি প্রথমেই ক্ষমা চেয়ে নিচ্ছি যে, আমি কোনো একাডেমিশিয়ান বা প্রথাগত তাত্ত্বিক নই। আমার অন্যান্য লেখার মতোই আমি গতানুগতিক ধারা অনুসরন না করে আমার নিজস্ব অভিজ্ঞতা শুধু শেয়ার করব। বাংলাদেশে গার্মেন্টস খাতের ক্যারিয়ার নিয়ে বলতে গেলে কয়েকটি ফিগার সবার আগে বলে নিই।

এই খাতের টোটাল বার্ষিক রপ্তানী আয় ২৮ বিলিয়ন ডলার যা ২০২১ নাগাদ ৫০ হবার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারন করেছে বিজিএমইএ।

এখানে বর্তমানে মোট সরাসরি কর্মী (ম্যানেজমেন্ট ও নন-ম্যানেজমেন্ট) ৪৫-৫০ লক্ষ এবং পরোক্ষ কর্মসংস্থান আরো ১ কোটি।

মোট রপ্তানী আয়ের ৮২% আসে এই খাত হতে এবং, জিডিপিতে এর অবদান ১৩% (এই ফিগারটি ১০০ ভাগ নিশ্চিৎ নই)।
যে ক’টি ফিগার বললাম এইগুলোই নির্ধারন করে দেয়, এখানকার ক্যারিয়ারের স্কোপটি। তবে রহস্যজনকভাবে এই খাতের প্রতি বাংলাদেশের মানুষের বিরাগ, উদাসীনতা, উন্নাসিকতাটা দেখার মতো। এই কিছুদিন আগেও গার্মেন্টস সেক্টর সম্পর্কে আমাদের দেশের মানুষের ধারনার পর্যায়টা ছিল স্রেফ ‘জিন্স প্যান্ট বানায়’-এরকম। যদিও ‘জিন্স প্যান্ট’ কথাটিও ভুল। এই খাতে কর্মী ঘাটতি প্রতক্ষভাবে ১০ লক্ষ আর (আমার মতে) পরোক্ষভাবে আরো ২ লক্ষ। যদি ২০২১ নাগাদ রপ্তানী আয় ৫০ বিলিয়ন করতে হয় তবে এই ঘাটতির বা ম্যানপাওয়ারের চাহিদার পরিমান আরো ব্যাপক বাড়বে।

গার্মেন্টস ক্যারিয়ারের প্রধান এ্যাডভান্টেজ কী? প্রায়ই চাকরীপ্রার্থীরা আমাকে এই প্রশ্ন করেন। আমি তাদের কয়েকটি উত্তর দিই:-

এক. গার্মেন্টস এককভাবে দেশের বৃহত্তম নিয়োগদাতা। এতটাই বড় এর জব মার্কেট (৫ হাজারের মতো কারখানা ৫০ লক্ষ জব) যার ধারেকাছেও কেউ নেই (কৃষি ও প্রবাসী বাদে)। ফলে এখানে একজন চাকরীজীবির ক্যারিয়ার বাউন্ডারী ও চয়েস বিশাল।

দুই. এখানে হাইলি কোয়ালিফাইড মানুষের সংখ্যা হাতে গোনা। তাই প্রতিযোগীতাটা অনেক কম। বিধায় একজন যোগ্য গ্রাজুয়েট সহজেই তার ক্যারিয়ারের ওপরে উঠে যাবেন।

তিন. এখানে উপরে ওঠার রাস্তাটি খুব সীমিত না বা খুব কমক্ষেত্রেই কোটা মেনে চলে। বিধায় যে কারো (এখন পর্যন্ত) টপে যাবার সুযোগ থাকে।

চার. এখানে একজন মালিকের সরাসরি তত্বাবধানে (যদিও এটার অন্য নেতিবাচকতা আছে) কাজ করা হয় বিধায় মূল্যায়নের সিঁড়িটি হাতের কাছেই থাকে।

পাঁচ. গার্মেন্টসে কাজের চ্যালেঞ্জ প্রচুর এটা যেমন সমস্যা আবার একই সাথে এটি বিরাট সুযোগও। চ্যালেঞ্জ না থাকলে আপনি শিখবেন কী করে? আর এই চ্যালেঞ্জ মোকাবেলা করে যদি আপনি টিকে থাকতে পারেন, তবে বাংলাদেশের কোনো সেক্টরে কোনো প্রতিষ্ঠানে কাজ করতে আপনি আর আটকাবেন না।

এর বিপরীতে গার্মেন্টসে ক্যারিয়ার গড়তে মানসিক বাঁধাগুলো কোথায় সেগুলো একটু বলি, পাশাপাশি সেগুলোর জবাব খোঁজারও চেষ্টা করি:-
১. গার্মেন্টস সম্পর্কে অমূলক ভীতিটাই আমার কাছে মনে হয় প্রার্থীদের জন্য সবচেয়ে নেগেটিভ হয়ে কাজ করে বিধায় বেকার থাকা স্বত্বেও তারা এপথে সহসা আসতে চাননা। ভেবে দেখুন তো, এই সেক্টরের শ্রম ঘাটতি প্রায় ১০ লক্ষ আর বাংলাদেশের সরাসরি বেকার ২৬ লক্ষ। ওখান হতেই আমাদের শ্রমঘাটতি পূরন হতে পারত। অথচ হচ্ছে না। কারন ওটাই। সবাই শেষ আশা হিসেবে গার্মেন্টসকে বাঁছেন।

২. গার্মেন্টসে কী রকম জব আছে সেই নিয়ে কোনো প্রচার প্রচারনা নেই। ফলে নিয়োগকর্তা মানুষ পাচ্ছেন না আবার বেকাররা জব পাচ্ছেন না।

৩. খুব অবাক হবেন না এটা জেনে, বাংলাদেশের চাকরীপ্রার্থীদের চাকরীর সেক্টর পছন্দের প্রথম ৫টি সিরিয়ালে গার্মেন্টস নেই অথচ এটি দেশের বৃহত্তম নিয়োগক্ষেত্র।

৪. দেশের শিক্ষা ব্যবস্থার এবং শিখানোর কালচার দেশে কেরানী হবার জন্য মানুষের জন্ম দিচ্ছে। বিধায় চাকরীপ্রার্থীরা সবাই হোয়াইট কলার ডেস্ক জবকেই জব মনে করেন। আমি যদি বলি, একজন মাস্টার্স পাশ প্রার্থী গার্মেন্টসে এসে অপারেটরের চাকরী শুরু করুন-তাহলে খোদ গার্মেন্টসের প্রফেশনালরাই আমাকে মারতে আসবেন (অভিজ্ঞতা হতে বলছি।)

৫. দেশের বেশিরভাগ মানুষের ভুল ধারনা হল, গার্মেন্টস হল প্রোডাকশনের চুড়ান্ত কর্তৃত্বে একধরনের টিপিক্যাল কারখানাময় পরিবেশ যেখানে শিক্ষিত লোকের ভাত নেই। তাদের জ্ঞাতার্থে বলছি, বাংলাদেশের গার্মেন্টস সেক্টরে অতীতের যেকোনো সময়ের চেয়ে এই সময়ে বিশ্ববিদ্যালয় গ্রাজুয়েটের সংখ্যা ধারনাতীত। আর সবচেয়ে আশার বিষয় হল, আগামী ১০ বছরের মধ্যে এই সেক্টরের টপ নীতিনির্ধারনি পজিশন মানে জিএম, ডিরেক্টরদের সিংহভাগ দখল করবেন নব্বইয়ের দশকের পরে আসা ইউনিভার্সিটি গ্রাজুয়েটরা মানে আমরা ও আমাদের মেটরা।

৬. চাকরীপ্রার্থীদের ধারনা, এই সেক্টরে এইচআর, এডমিন, কমপ্লায়েন্স, ডিসিপ্লিন, কর্পোরেট স্ট্রাকচার, কালচার এসবের কোনো অস্তিত্ব নেই। ভুল, একদম ভুল। তার পারফেক্ট উদাহরন আমার প্রতিষ্ঠান অনন্ত।

৭. খুব মারাত্মক একটি ভুল ধারনা এদেশের মিডিয়া ও গসিপারদের হতে সবক্ষেত্রে ছড়িয়েছে যে, গার্মেন্টস মানেই হল একটা অন্ধকার কূপ যেখানে প্রতিবছর ডজন ডজন মানুষ মরে, আগুন লাগে, বয়লার বার্স্ট হয়, বেতন দেয় না, ছুটি নেই, মালিক লাঠি হাতে শ্রমিককে পিটায়, মেয়েদের ইজ্জত নেই ইত্যাদি ইত্যাদি। বিস্তারিত না করে শুধু এটুকু বলে আশ্বস্ত করি, বিশ্বের শ্রেষ্ঠ ১০ টি গার্মেন্টস কারখানার ৭ টি বাংলাদেশে (কিছুটা বিতর্কযোগ্য)। যারা লীড কিংবা গ্রীন সার্টিফাইড। এখন ওসব সার্টিফিকেটের কী মানে দাড়ায়, কী থাকলে ওগুলো দেয়-সেটা নিজেরা নেট ঘেঁটে জেনে নিন।

৮. কেউ কেউ আবার দ্বিধায় ভোগেন বা আইডেন্টিটি ক্রাইসিসে পড়ার ভয়ে এ সেক্টরে জব করতে চান না। আমরা নিজেরাই বলাবলি করতাম-গার্মেন্টসে কাজ করে শুনলে মেয়ে বিয়ে দিতে চায় না মেয়ের বাপ। আরে ভাই, আইডেন্টিটি ক্রাইসিস দিয়ে কী করবেন? পেটে যদি ভাত না থাকে তো কিসের আবার আইডেন্টিটি? এই আপনারাই না ইরানের প্রেসিডেন্ট নিজে রান্না করে-এমন ছবিতে হাজার হাজার লাইক দেন? কাজের আবার ছোট বড় কী?

৯. অনেকের ধারনা, এই সেক্টরে শুধু শ্রমিক হয়ে ছোট কাজ করতে হবে। গরমে ঘেমে নাকানি চুবানি হয়ে গভীর রাত অব্দি। আরে ভাই, তাহলে তো আপনি নিজেই ফাঁকিবাজ। শ্রম দিতে চান না। শুধু ক্রীমটা খেতে চান। আপনিই না মেট্রিকের খাতায় রচনা লিখেছেন তিন পাতা-শ্রমের মর্যাদা। আমাদের নবী নিজে ছাগল চড়াতেন। আপনি আমি কি তাঁর চেয়েও প্রেস্টিজিয়াস কেউ?

১০. উচ্চ ডিগ্রীধারী হলেই হোয়াইট কলার জব করতে হবে-এমন আত্মঘাতি ভুল ধারনার জন্য দেশের ২৬ লাখ বেকারের একটা বড় অংশ আজও বছরের পর বছর বেকার। আমার নিজের রুমমেট (ঢাকা বিশ্ব: এর) মাস্টার্স পাশ করে আজ ৩ বছর বেকার। ইচ্ছা করে। বিসিএস ছাড়া জব করবে না অথবা বিসিএস দেবার বয়স শেষ না হওয়া পর্যন্ত কোনো অন্য জব খুঁজবেও না। ২৬ লাখ বেকার-এই ফিগারটি নিয়ে যারা সরকারের গুষ্টি উদ্ধার করেন, তারা একটু অন্য এঙ্গেল হতেও ভাববেন। মানবসম্পদের কি ভয়ানক অপচয়? তবু বলছি, আপনি যদি উচ্চ ডিগ্রীধারী হোন, তবে এই সেক্টরে আপনার জন্য এইচআর, এডমিন, কমপ্লায়েন্স, ওয়েলফেয়ার, একাউন্টস, অডিট, ফাইন্যান্স, মার্চেন্ডাইজিং, কমার্শিয়াল, অপারেশন, ইন্ডাস্ট্রিয়াল ইঞ্জিনিয়ারিং, ফ্যাশন ডিজাইন, আইসিটি, পাবলিক রিলেশন, সিএসআর, স্টোর, সাপ্লাই চেইন, মেকানিক্যাল, ইলেকট্রিক্যাল, ইটিপি, এনভাইরনমেন্ট, আইন শাখা, ফরেন এফেয়ার্সসহ অসংখ্য বিভাগ মুখিয়ে আছে বিশ্ববিদ্যালয়ের তুখোড় ছাত্রদের বরণ করে নিতে। আপনি সাহস করুন, আসুন, দেখুন, যুদ্ধ করুন। আখেরে লাভ পাবেন।

১১. সময়মতো বেতন দেয়না-এমন নেগেটিভ প্রচারনার প্রভাব যদি আপনাকে আটকে রাখে তবে জেনে রাখুন, ৭ ওয়ার্কিং ডে’র ভিতরে বেতন না দিয়ে পার পাবার কোনো রিস্ক কোনো গার্মেন্টসই নেয় না।

১২. ’ভবিষ্যত নেই’-এই রকম মাথামুন্ডহীন একটা জুজুর ভয় চাকরীপ্রার্থীদের গার্মেন্টসমুখো এমনকি যেকোনো প্রাইভেট জবে আসা হতে বাঁধা দেয় জানি। আমি আপনাকে অংকের সহজ হিসাব করে দেখাই। মনে করুন, আপনি একটি সরকারী চাকরীতে ঢুকলেন ৩০ বছর বয়সে মানে শেষ সময়ে। মাসে বেতন ২০ হাজার। ২৭ বছর জব করে ৫৭ বছর বয়সে রিটায়ার করলেন। এই ২৭ বছরে বেতন বাড়বে কয়েকবার। ধরি ২৭ বছর চাকরী করে আপনার সারাজীবনের গড় মাসিক বেতন হবে ৪০ হাজার (যাস্ট আন্দাজ)। তো ২৭ বছরে বেতন বাবদ আয় ৪০,০০০X১২X২৭=১,২৯,৬০,০০০ টাকা (অন্যান্য আয় যেমন বোনাস, গ্রাচুইটি, প্রোভিডেন্ট, মহার্ঘ বাদে।) ৫৭ বছর বয়সে রিটায়ার করে বড়জোর ধরলাম আপনি আরো ২৩ বছর বাঁচবেন মানে টোটাল ৮০ বছর আয়ু। এই ২৩ বছরে প্রভিডেন্ট বাবদ কত পাবেন? ধরলাম প্রতিমাসে ১৫,০০০ করে ১৫,০০০X১২X২৩=৪১,৪০,০০০ টাকা। মোট তাহলে আপনি ৮০ বছরের জীবনে ৩০ বছর বেকার+২৭ বছর জব+২৩ বছর রিটায়ারসহ কত পেলেন বা পাবেন? ফিগারটা হল ১,৭১,০০,০০০ টাকা। এবার আসুন প্রাইভেট জবে। আপনি একই বয়সে না, চেষ্টা করলে আরো আগে জব পাবেন। তবু কথার কথা সমান ধরলে ৩০ বছরে জব পেয়ে পরবর্তিতে ৩৫ বছরের মতো (৬৫ বছর বয়স পর্যন্ত ধরলাম কর্ম করবেন) চাকরী করবেন। একটি ভাল বেসরকারী চাকরী আজকাল গড়ে ২০ হাজার দিয়ে শুরু হয়ে গড়ে ৬৫ বছর বয়সের শেষে আপনার গড় বেতন হবে ৬০ হাজার টাকা/মাস। তো ৬০ হাজার মাসের হিসেবে মোট ৩৫ বছরে আপনার মোট ইনকাম কতো? ৬০,০০০X১২X৩৫ = ২,৫২,০০,০০০ টাকা মানে ৮১ লাখ টাকা বেশি। তবে হ্যা, ব্যবধানটা অন্যান্য ইনকাম মিলিয়ে অতটা না তবে প্রাইভেটে টাকার অঙ্কে লস হবে না। । লাভ বেশি না কম?

১৩. গার্মেন্টসে আপনি যদি ন্যুনতম এইট পাশ হন তবে আপনার চাকরী আছে। আপনি যদি ৫০ বছর হন তাও আপনার জন্য এখনো চাকরী আছে। আপনি যদি বিকলাঙ্গও হন আপনার জন্য সবচেয়ে বেশি চাকরী গার্মেন্টসে আছে। ধরেন আপনি এইট পাশ। তো বাংলাদেশে যেকোনো সেক্টরে কাজ পাবেন আপনি? পেলে সেটা কত টাকা বেতনে? তাহলে গার্মেন্টসে আপনি যদি একই যোগ্যতায় মাসে কমপক্ষে ৯০০০ টাকা ইনকাম করেন তো ক্ষতি কী? কোনো রকম শিক্ষা নেই শুধু নাম সাক্ষর করতে পারে-এমন মানুষদের জন্য আমরা কর্মসংস্থান করেছি প্রায় ৪০ লক্ষ (শ্রমিকের জব), আর ন্যুনতম নাইন পাশ হতে মাস্টার্স এদের চাকরী আছে স্টাফ হিসেবে বাকি ১০ লক্ষ। আপনি এখানে ন্যুনতম ম্যাট্রিক পাশ করেও কোয়ালিটি ইন্সপেক্টর, ট্রেইনী সুপারভাইজার, ইনপুটম্যান, রিপোর্টার, মেসেঞ্জার, ডেলিভারীম্যান, সিকিউরিটি গার্ড, হাউসকিপিং, কম্পিউটার অপারেটরসহ অসংখ্য কর্মচারী পদে (ওই যাকে আপনারা ব্লু কলার জব মনে করেন) চাকরী যেমন পাবেন তেমনি উচ্চশিক্ষাধারী হলে তো আগেই বললাম, বিভিন্ন এক্সিকিউটভ জবে সহজেই চাকরী নিতে পারেন।

১৪. গার্মেন্টসে দিনরাত বলে কিছু নেই, ছুটি নেই, রেষ্ট নেই-এই তিনটি কমোন অভিযোগ। আমি একজন গার্মেন্টস প্রফেশনাল হিসেবে বছরে ১৪+১০ দিন ক্যাজুয়াল বা মেডিক্যাল লীভ, ১৫ দিন এনজয়মেন্ট লীভ, ৫২টি সাপ্তাহিক লিভ, অন্তত ১৫ দিন শর্ট লীভসহ প্রতিদিন ৯টা হতে ৭ টা অফিস করি (ব্যতিক্রম অবশ্যই আছে)। এতেও যদি আপনি পোষাতে না পারেন বা এরচেয়েও বেশি চান, তবে ভাই আপনি অত্যন্ত ফাঁকিবাজ। কাজ করতে চান না, পরিশ্রম করে দাড়াতে চান না। শর্টকাটে মগডালে যেতে চান।

১৫.গার্মেন্টসে চাকরীর বাবা মা নেই, যখন তখন বের করে দেয়-এই ভয়েও কেউ কেউ পিছিয়ে যান। হ্যা, এটি একটি তিক্ত সত্যি। তবে কিছুটা অন্যদিক বলি? গার্মেন্টসে একজন স্কিলড কর্মীকে হীরার মতো দামী হিসেবে ধরা হয়। আপনি যদি স্কিলড হন, তবে আপনার ভয় কী? আর তারপরও যদি ঘটে তাহলে জেনে রাখুন, অন্যায়ের প্রতিবিধান করার জন্য ভয়ানক রকম কর্মীবান্ধব শ্রমআদালত বসে আছে আপনার জন্য। আর দয়া করে নিজের ক্যারিয়ারের ব্যাপারে অন্ধ ও একপেশে প্রচারনায় কান দেবেন না। গার্মেন্টস আইনেই আইনগতভাবেই কিছু কিছু অন্যায় কাজের জন্য তাৎক্ষনিক চাকরিচ্যুত করার বিধান আইনেই আছে। তবে সেটাও যেরকম ভীতপ্রদভাবে আমাদের তথাকথিত শ্রমিকহিতৈষীরা প্রচার করেন ততটা না। বিষয়টা এমন না যে, আপনি চেয়ারে বসে কাজ করছেন আর তখনি দু’জন ষন্ডা মার্কা পালোয়ান এসে আপনাকে চ্যাংদোলা করে কারখানার বাইরে ফেলে দিয়ে এলো। সবকিছুরই একটা সৌন্দর্য আছে। সিস্টেম আছে। আর তারও পরে বলব, একটা হতে বিতাড়িত হলেন, বাকি আরো হাজার পাঁচেক কারখানা আপনার জন্য হাত বাড়িয়ে বসে আছে। হ্যা, যদি আপনি তেমন যোগ্য হন।

১৬. কেউ কেউ বলেন (খুব অবান্তর যদিও), গার্মেন্টসের মালিকরা খুব বাজে ব্যবহার করেন। হ্যা, মিথ্যে নয়। তবে সেটা ‘কেউ কেউ’। গণহারে সবাই না। আচ্ছা আপনি জানেন তো, বাংলাদেশের সবচেয়ে বেশি আইনী বাধ্যবাধকতা মেনে ব্যবসা করতে হয় কোন সেক্টরকে? ব্যাংক? মোবাইল কোম্পানী? ওষুধ শিল্প? ……..নাহ, ওটাও সেই ওঁচা গার্মেন্টস সেক্টর। ভুল শুনবেন না। আমি বলেছি ‘সবচেয়ে বেশি আইনী বাধ্যবাধকতা মেনে ব্যবসা করতে হয়’, সবচেয়ে ’বেশি আইন মানে’ কিনা তা বলিনি। আর সবচেয়ে ন্যাক্কারজনকভাবে আইন ভাঙে কারা জানেন? আপনার আমার চোখে পশ ও উচু স্থানের সেক্টরগুলো-যেমন ব্যাংক (হাজার কোটি টাকা চুরি), মোবাইল কোম্পানী (লাভের সব টাকা বিদেশে), ওষুধ কোম্পানী (এক নাম্বারের কথা বলে দুই নম্বর ওষুধ ছেড়ে মানুষের জান নিয়ে খেলতে একটুও বাঁধা নেই তাদের)। আমরা গার্মেন্টস ওয়ালারা গত ৪০ বছরে কতজন মানুষের মৃত্যুর কারন হয়েছি? তার বিপরীতে হিসেব নিয়েছেন কি, ভেজাল ওষুধ খেয়ে কতজন মরেছেন ও মরার লাইনে আছেন? হ্যা, জেনারেলাইজ করবেন না। সবাই এক না।

১৭. স্থায়ীত্বের বিচারে গার্মেন্টস সেক্টর সবচেয়ে এগিয়ে। ২০০০ সালের দিকে আমরা যখন মোবাইল কোম্পানীর চাকরীকে আমেরিকার গ্রীনকার্ডের মতো মনে করতাম তখন মনে হত, ওটা বাদে আর কোনো চাকরী করব না। গার্মেন্টসকে তো বেইল দেবার কথাই নেই। আজকে ১৭ বছর পরে? গার্মেন্টসের ভলূম বেড়েছে, চাকরী বেড়েছে। আর মোবাইল? ওই একসময়ের ক্রেজটি আজ ছোট হচ্ছে। তার সাথে ছোট হচ্ছে তাদের সহযোগী শিল্পের আকার। একসেঞ্চারকে দেখুন।

আমার একজন সহকর্মী তানভীর আমাকে আরো একটি কথা যোগ করার আইডিয়া দিলেন। সেটি হল, স্পেশালাইজ গার্মেন্টস রিলেটেড ডিগ্রীগুলোর উপযোগীতা বৃদ্ধি সংক্রান্ত। বাংলাদেশে বিগত প্রায় ১০ বছর ধরে গার্মেন্টস সেক্টরের প্রতি শিক্ষিত তরুণ সমাজের আগ্রহ বেশ বেড়েছে। দলে দলে তারা এই সেক্টরে আসছেন সবরকম নেগেটিভ প্রচারনা স্বত্বেও। তবে তারা একটা ক্রেজে এখনো মেতে আছেন। সেটা হল তারা সবাই মার্চেন্ডাইজার হতে চান। আবাল বৃদ্ধ বণিতা সবাই মার্চেন্ডাইজার হবার স্বপ্ন নিয়ে এখানে আসেন। যখনি দেখেন মার্চেন্ডাইজার হবার সুযোগ নেই তখনি অন্য সেক্টরে পা বাড়ান। যতগুলো বিশ্ববিদ্যালয় আছে যারা গার্মেন্টস রিলেটেড পড়াশোনা করান, তাদের সিংহভাগ ছাত্রের ক্যারিয়ার গোল মার্চেন্ডাইজিং। যেন একমাত্র মার্চেন্ডাইজিং ব্যাতিত আর কোনো ক্যারিয়ার এখানে নেই। এই ভুল ধারনার অনেক কারন আছে। সেটা ডিটেইল করলাম ন। এককথায় এই ভুলটির একটি প্রতিউত্তর দিই? একজন ৩ বছর অভিজ্ঞ মার্চেন্ডাইজার হতে একই ট্রাক রেকর্ডের একজন ওয়াশ প্রোডাকশন কর্মীর বেতন অন্তত দেড়গুন বেশি। এটা হতে যা বোঝার বুঝে নেন।

গার্মেন্টস সেক্টরের সাথে রিলেটেড যত পড়াশোনা বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে কোর্স করানো হয় সেগুলো মোটামুটি হল-এপারেল ম্যানুফ্যাকচারিং টেকনোলজি, টেক্সটাইল ইঞ্জিনিয়ারিং, নিটওয়ার ম্যানুফ্যাকচারিং টেকনোলজি, ফ্যাশন ডিজাইনিং, প্যাটার্ন মেকিং, ইন্ডাস্ট্রিয়াল ইঞ্জিনিয়ারিং, মেশিন অপারেটিং, এইচআরএম ও অন্যান্য সাবজেক্ট। এগুলোর উপযোগীতা ও আরো উৎকর্ষ সাধন নিয়ে কথা বলব তার আগে একটা বিষয় ক্লিয়ার করে নিই। আমাদের দেশে গার্মেন্টস সেক্টর নিয়ে ভুলের বেসাতির মহামারির মধ্যে এটাও একটা ভুল যে, অনেকে জানে না, RMG সেক্টর বলতে ঠিক কী বোঝানো হয়। রেডি মেড গার্মেন্টস সেক্টরে অনেক কোর প্রতিষ্ঠান আর ব্যকওয়ার্ড ও ফরোয়ার্ড লিংকেজ শিল্প আছে। সেগুলো হল: সরাসরিভাবে যেটাকে মানুষ গার্মেন্টস নামে চেনে সেটি অর্থাৎ টিপিক্যালি গার্মেন্টস মেকিং (সুইং+ফিনিশ+শিপমেন্ট) কারখানা যাকে আমাদের ভাষায় কাট এ্যান্ড সু কারখানা বলে। এগুলো মোটাদাগে তিনরকম আছে-ওভেন, নীটওয়্যার ও সোয়েটার। মূলত এগুলোই গার্মেন্টস কারখানা। এর বাইরেও আরএমজি শিল্পের অনেক সেগমেন্ট আছে যেমন-টেক্সটাইল কারখানা, স্পিনিং কারখানা, ওয়াশিং প্ল্যান্ট, সুতা+বাটন+কার্টন+প্যাকেজিং+লেবেলিং তথা এক্সেসরিজ কারখানা, ডাইং প্ল্যান্ট, প্রিন্টিং প্ল্যান্ট ইত্যাদি। অনেক সময় এগুলো একসাথেই একটি কোম্পানীতে থাকে বা কারো কারো এককভাবেও থাকে যদিও সবাই গার্মেন্টস এর অংশ। এতগুলো সেগমেন্ট থাকার পরও বেশিরভাগই শুধু প্রথমে উল্লেখ করা সুইং বা সোয়েটারকেই গার্মেন্টস বলে জানে। যাহোক, এতগুলো সেগমেন্টে জব করবার বিপুল সুযোগ আছে এই সেক্টরে। একদম স্পেশাইলাইজ করে বললে, গার্মেন্টসে ওয়ার্কার হিসেবে কাজ করার পাশাপাশি স্টাফ হিসেবে কাজ করতে পারেন কতগুলো ট্রেডে তার একটা তালিকা বলছি: ,এইচআর, এডমিন, কমপ্লায়েন্স, ওয়েলফেয়ার, একাউন্টস, অডিট, ফাইন্যান্স, মার্চেন্ডাইজিং, কমার্শিয়াল, অপারেশন, ইন্ডাস্ট্রিয়াল ইঞ্জিনিয়ারিং, ফ্যাশন ডিজাইন, আইসিটি, পাবলিক রিলেশন, সিএসআর, স্টোর, সাপ্লাই চেইন, মেকানিক্যাল, ইলেকট্রিক্যাল, ইটিপি, এনভাইরনমেন্ট, আইন শাখা, ফরেন এফেয়ার্সসহ সুইং, কাটিং, ফিনিশিং, ওয়াশিং, প্রিন্টিং, ডাইং, প্যাটার্ন মেকিং, CAD, স্টোরিং, মেডিক্যাল (ডাক্তার নার্স)সহ অসংখ্য স্কোপ।

এখন আমাদের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়, কলেজ, ট্রেনিং ইন্সটিটিউট ও স্কিল ডেভেলপমেন্ট অর্গানাইজেশন যেসব বিষয়ে ডিগ্রী করাচ্ছে বা ট্রেনিং দিচ্ছেন তাদের ও তাদের ছাত্রদের জ্ঞাতার্থে বলছি: আপনাদেরকে আরেকটু স্পেশালাইজ, ক্লাসিফাইড ও রিলিভ্যান্ট হতে হবে। কিভাবে? দেশে এখন টেক্সটাইল ইঞ্জিনিয়ারিং পড়াতে প্রচুর বিশ্ববিদ্যালয় আছে অথচ ওই ডিগ্রীর সরাসরি স্টেকহোল্ডার হল টেক্সটাইল বা স্পিনাররা যাদের মোট কারখানা ও মার্কেট বিশাল না। অথচ তারা হাজার হাজার টেক্সটাইল ইঞ্জিনিয়ার পড়াচ্ছে। মার্চেন্ডাইজিং পড়াচ্ছে অনেকে অথচ পুরো সেক্টরে মার্চেন্ডাইজারের চাকরী অত্যন্ত সীমিত আর তীব্র প্রতিযোগীতামূলক। হুজুগে মেতে রিকয়ারমেন্ট এনালিসিস, মার্কেট এনালিসিস, স্কিল এনালিসিস না করে কোর্স খুললে বা তাতে কাতারে কাতারে ভর্তি হলে তাতে ডিগ্রীধারিদের মহামারিই হবে। পরিণতিতে সেই বেকারই থাকবেন। অথচ আমাদের দক্ষ প্রোডাকশন ম্যানেজমেন্ট লাগে হাজারে হাজারে যারা গার্মেন্টসের মোট স্ট্যাফের ৮০%। কিন্তু কোনো বিশ্ববিদ্যালয় স্পেশালাইজ প্রোডাকশন ম্যানেজমেন্ট পড়ায় না। ম্যানুফ্যাকচারিং শিল্প এটা অথচ সবগুলো কোর্সেই ম্যানুফ্যাকচারিং থাকে সামান্য একটু। যারা ভর্তি হয়েছেন বা হবেন, তারা ও যারা বিশ্ববিদ্যালয়ের কোর্স কারিকুলাম বানান-তারা উভয়েই একটু কষ্ট করুন। গার্মেন্টস এইচআরের বিশেষজ্ঞদের সাথে বসুন, আলোচনা করুন। এখানে ঠিক কী ধরনের ট্যালেন্ট, স্কীল এখন দরকার সেটা যাচাই করে ডিগ্রী দিন বা নিন। হুজুগ ফলো করলে পয়সার শ্রাদ্ধ করবেন। যতটা জানি বেসরকারী বিশ্ববিদ্যালয় হতে একটা ডিগ্রী করতে কমপক্ষে ৮-১০ লক্ষ টাকা লাগে। সেটার খেসারত না দিতে হয় সেজন্য বুঝে শুনে পড়াশোনা করুন। আপনাদের কোর্সগুলোকে আরো টু দ্যা পয়েন্ট, স্পেসিফিক, আধুনিক, কনটেমপোরারী, ইন্ডাস্ট্রি বেজড করুন। ইউনিভার্সিটিগুলো স্বেচ্ছায় না করলে চাপ দিন। আমরা প্রচুর ছাত্র পাই প্রাইভেট ও পাবলিক ইউনিভার্সিটির যারা যেসব বিষয় নিয়ে পড়েছেন তার বড় অংশই আমাদের সবচেয়ে বড় ইন্ডাস্ট্রি সুইং এর (এমনকি অন্যান্য সেগমেন্টের) সাথে খুব গভীরভাবে সম্পৃক্ত না। ভাসা ভাসা। ফলে সেই আমাদেরই আবার নতুন করে তাদেরকে শিখাতে হয়। তারা কোনো বিষয়েই স্পেশাল কন্ট্রিবিউট করতে পারে না। আর সার্বিকভাবে পড়াশোনার মানতো সারাদেশেরই ভয়াবহ। আমার জানামতে কোনো বিশ্ববিদ্যালয় প্রাকটিক্যাল শিখায় না। ইন্ডাস্ট্রিয়াল এটাচমেন্ট থাকে ভুয়ামিতে ভরা। আর বাই ডিফল্ট কোনো বিশ্ববিদ্যালয় ইংরেজি প্রফিশিয়েন্সিতে কোনো কিছু করায় না। মনে রাখবেন, ইংরেজির চার শাখায় (রিডিং, রাইটিং, লিসেনিং, স্পিকিং) দারুন দক্ষতা না থাকলে গার্মেন্টসে আপনার কোনো ভবিষ্যত নেই। নেই। নেই।

পরিশেষে বলি, ক্যারিয়ার পুরোটা ব্যক্তির নিজের হাতে আর ইচ্ছার মর্জিতে নির্ভর করে। ক্যারিয়ার নিয়ে সবসময় দীর্ঘমেয়াদী চিন্তা করবেন। চোখের দেখাতেই সবকিছুর ইতি টেনে নেয়াটা ঠিক নয়। আপাত চকচকে সবকিছু স্বর্ণ হয় না। একটা পজিটিভ ভাবনা দিয়ে শেষ করি। মনে করুন আপনি এমন একটা পেশার কর্মী (ধরুন আপনি সাপের দাঁতের চিকিৎসক) যেই ডাক্তার সারাদেশে আর একজনও নেই। এখন এটাকে আপনি দুইভাবেই দেখতে পারেন। প্রথমত; ‘আমি খুব ভালনারেবল। সারাদেশে আমার কাজের ক্ষেত্র খুবই সীমিত। এরকম রোগীতো রেয়ার। এরকম সার্ভিস লাগবে-এমন প্রতিষ্ঠানও দুস্প্রাপ্য। তো, আমিতো চাকরী গেলে শেষ। আবার অন্যভাবেও ভাবতে পারেন। ‘আরে আমি যেমন ভালনারেবল তেমনি আমার বর্তমান প্রতিষ্ঠানও তো ধরা। আমি ছাড়া তাদের কোনো অপশন নেই। তারাও তো আমাকে ছাড়া ভাবতে পারবে না। ইয়ার্কি ভাববেন না। সারা পৃথিবীতে (রেশিও বিচারে) সবচেয়ে বেশি বেতন পান এমন ১০ জনের মধ্যে একজন হলেন এমন এক ব্যক্তি যার কাজ হল চা পাতার ঘ্রাণ নিয়ে তার টেষ্ট, ব্লেন্ড ও ফ্লেভার ও কোয়ালিটি সম্পর্কে রিপোর্ট করা। পেশাটির এক্সপার্ট যিনি বা যে কয়েকজন, তাদের বেতন অবিশ্বাস্য। প্রতাপের কথা নাই বা বললাম। যে যেভাবে দেখে আরকি। যোদ্ধাদের কাজ রেডি পরিবেশে এসে রাজ করা নয়। যোদ্ধারা সবখানেই যোদ্ধা। তাদের জন্য ক্ষেত্র প্রস্তুত থাকবে সেই আশায় তারা থাকে না। তারা নরকে গেলেও সেখানে নিজেদের মতো করে স্থান তৈরী করে নেয়

(আমি জানি এই লম্বা পোষ্টটির বক্তব্যের সাথে অনেকেই দ্বিমত পোষণ করবেন। আমি তাদের অনুরোধ করব, নিজস্ব সেই মতের জায়গাটিতে পৌছাবার আগে গার্মেন্টস সেক্টরের বিভিন্ন আঙ্গিক নিয়ে আমার আরো ৪টি বিশ্লেষণ এই লিংকে গিয়ে পড়তে। এরপর আপনি আপনার করণীয় ঠিক করুন।

১।https://www.facebook.com/walidur.rahman1/posts/1382037528520917

২।https://www.facebook.com/Timespell/posts/706827212834950

৩।https://www.facebook.com/walidur.rahman1/posts/1310669925657678

৪।https://www.facebook.com/walidur.rahman1/posts/1443388412385828)

লেখক : এইচ আর প্রফেশনাল 

মন্তব্য লিখুন

এই বিভাগের আরও খবর

Find us on Facebook