ঢাকা, আজ বৃহস্পতিবার, ৬ই আশ্বিন, ১৪২৪ বঙ্গাব্দ, এখন রাত ১২:১৩

বয়লার বিস্ফোরণে নিহত প্রত্যেককে ৮ লাখ টাকা দেয়া হবে

নিজস্ব প্রতিনিধি : গাজীপুরের কাশিমপুরে বয়লার বিস্ফোরণে নিহত প্রত্যেক পরিবারকে পাঁচ লাখ টাকা এবং আহতদের চিকিৎসার ব্যয়সহ এক লাখ করে টাকা দেয়া হবে। এদিকে এ ঘটনায় নিহতের পরিবারকে তিন লাখ টাকা করে অনুদান ও পরিবারের একজনকে চাকরী দেয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন মালিকপক্ষ। 

শ্রম ও কর্মসংস্থান প্রতিমন্ত্রী মুজিবুল হক চুন্নু জানান, সরকারের পোশাক কারখানার শ্রমিকদের জন্য গঠিত কেন্দ্রীয় তহবিল থেকে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারকে এই আর্থিক সহায়তা প্রদান করা হবে।

শ্রম ও কর্মসংস্থান প্রতিমন্ত্রী আজ বিকেলে গাজীপুরের কাশিমপুররের নয়াপাড়ায় বয়লার বিস্ফোরণে ক্ষতিগ্রস্ত ‘মাল্টিফ্যাবস লিমিটেড’ কারখানা পরিদর্শনকালে আরো বলেন, বয়লার বিস্ফোরণে এ পর্যন্ত ১০ জন নিহত ও ৫২ জন আহত হয়েছেন।

তিনি জানান, বিস্ফোরিত পোশাক কারখানাটি ছিল বিদেশী ক্রেতা সংস্থা পরিচালিত নিরাপত্তা সনদ প্রদানকারী প্রতিষ্ঠান অ্যাকর্ড কর্তৃক সার্টিফাইড একটি পোশাক কারখানা। এই কারখানায় দুর্ঘটনার ঘটনাটি দু:খজনক। সোমবার সন্ধ্যা ৭টার দিকে কাশিমপুরের ‘মাল্টিফ্যাবস লিমিটেড’ পোশাক কারখানাটি বয়লারে বিস্ফোরিত হয়। এতে চারতলা ভবনের একপাশে এক থেকে দোতলা পর্যন্ত ধসে পড়ে। বয়লার বিস্ফোরণে ১০ জনের মৃত্যু ও অর্ধশতাধিক আহতের ঘটনায় গঠিত তদন্ত কমিটির প্রতিবেদন পাওয়ার পর দায়ীদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে বলে জানান প্রতিমন্ত্রী।

তিনি বলেন, ‘শ্রম মন্ত্রণালয়ের ইন্সপেকশন ডিপার্টমেন্ট থেকে একজন ডিআইজির নেতৃত্বে একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হবে। যারা ইন্ডাস্ট্রির মালিক তাদের একটা রেসপনসিবিলিটি আছে। তাদের কারখানার নিরাপত্তা তারা অবশ্যই বিধান করবেন। কারণ, তাদের কারখানায় হাজার হাজার শ্রমিক কাজ করবে। আর নিরাপত্তার বিষয়টিতে কোনো কারণে যদি তাদের অবহেলা থাকে? সেটা নিশ্চয়ই আইনের চোখে অপরাধ। এটা সরকারও সহ্য করবে না ।’

এদিকে কারখানার মালিক মো. মহিউদ্দিন ফারুকি জানান, এ দুর্ঘটনায় নিহত প্রত্যেকের পরিবারকে তাদের প্রতিষ্ঠান থেকে তিন লাখ করে টাকা দেওয়া হবে। আর আহত শ্রমিকদের প্রত্যেকের চিকিৎসা ব্যয় বহন করা হবে। এ ছাড়া নিহতদের পরিবারের একজনের চাকরির ব্যবস্থা করা হবে।

এর আগে সোমবার রাতে জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে নিহতদের পরিারকে ২০ হাজার করে টাকা দেওয়া হয়।

প্রতিমন্ত্রী মোঃ মুজিবুল হক আরো বলেন, সরকার শিল্প কারখানায় উৎপাদন বৃদ্ধি এবং শ্রমিকের নিরাপত্তা ও জীবন মানের উন্নয়নে বিভিন্ন পদক্ষেপসহ, চিকিৎসার জন্য হাসপাতাল নির্মাণ, প্রশিক্ষণ এবং প্রভিডেন্ট ফান্ড গঠনসহ বিভিন্ন তহবিল গঠন করেছে। এই তহবিল থেকেই সরকার ক্ষতিগ্রস্তদের আর্থিক সহায়তা প্রদান করে আসছে বলে প্রতিমন্ত্রী জানান। 

মন্তব্য লিখুন

এই বিভাগের আরও খবর

Find us on Facebook