ঢাকা, আজ বৃহস্পতিবার, ৬ই আশ্বিন, ১৪২৪ বঙ্গাব্দ, এখন রাত ১০:০৩

কমপ্লায়েন্স প্রশিক্ষণে দক্ষিণ এশিয়ার কেন্দ্রে পরিণত হচ্ছে বাংলাদেশ

ফজলুল হক, নিজস্ব প্রতিবেদক : এইতো কিছুদিন আগেও কমপ্লায়েন্স সম্পর্কিত বিভিন্ন প্রশিক্ষণ করতে বাংলাদেশের পেশাজীবিরা উড়াল দিতেন ভারত, চীন, হংকং কিংবা অন্য কোন দেশে। এ দেশে প্রশিক্ষণ হলেও প্রশিক্ষক হিসেবে থাকতেন ভিনদেশী। তবে এসবের পরিবর্তন হয়েছে অনেক। বাংলাদেশের মানুষের যেমন পেশাগত উন্নয়নে প্রশিক্ষণের মত খাতে বিনিয়োগ করার মানসিকতা সৃষ্টি হয়েছে তেমনি প্রসারিত হয়েছে চাকরির বাজার। সাথে সাথে ভিনদেশী প্রশিক্ষকের জায়গায় এখন স্থান করে নিয়েছে বাংলাদেশের স্থানীয় প্রশিক্ষক। এদেশেই নিয়মিত অংশ নিচ্ছেন বিভিন্ন দেশের প্রশিক্ষণার্থী। ফলে কমপ্লায়েন্স প্রশিক্ষণের দক্ষিণ এশিয়ার কেন্দ্রে পরিণত হচ্ছে বাংলাদেশ। এছাড়া দেশের অনেক প্রশিক্ষককেও দেশের বাইরে প্রশিক্ষণ দিতে দেখা যাচ্ছে। যেমন বাংলাদেশের অডিটররা অনেক আগেই বিদেশী অডিটরদের প্রয়োজনীয়তা ভুল প্রমাণ করে পার্শ্ববর্তী বিভিন্ন দেশের অডিট নিয়ন্ত্রণ করে যাচ্ছে।

dsc_0466

প্রধান প্রশিক্ষক হিসেবে প্রশিক্ষণ পরিচালনা করছেন আব্দুল আলিম

সম্প্রতি  নিউইয়র্ক ভিত্তিক শ্রম ক্ষেত্রে মানবাধিকার নিয়ে কাজ করে এমন একটি আন্তর্জাতিক সংস্থা সোশ্যাল একাউন্টাবিলিটি ইন্টারন্যাশনাল এর উদ্যোগে ৫ দিন ব্যাপী SA 8000 Basic Auditor Course অনুষ্ঠিত হয়েছে। ৭ ডিসেম্বর থেকে শুরু হওয়া পাঁচদিনের এ কোর্সটি ১১ ডিসেম্বর ২০১৬ শেষ হয়েছে। এই কোর্সে, তুর্কি, ভারত, শ্রীলংকা ও ইন্দোনেশিয়াসহ ৫ টি দেশ থেকে ১১ জন প্রশিক্ষণার্থী অংশগ্রহণ করেন। প্রধান প্রশিক্ষক হিসেবে প্রশিক্ষণটি পরিচালনা করেন সোশ্যাল একাউন্টাবিলিটি ইন্টারন্যাশনাল’র লিড ট্রেইনার আব্দুল আলিম।

শ্রীলঙ্কা থেকে আগত এক প্রশিক্ষণার্থী তাঁর অনুভুতি প্রকাশ করতে গিয়ে বলেন, বাংলাদেশে এসে অংশ নেয়া এই প্রশিক্ষণটি তার জীবনের সবচেয়ে সেরা প্রশিক্ষণ।

dsc_0624

প্রশিক্ষকের সঙ্গে একই ফ্রেমে প্রশিক্ষণার্থীরা। ছবি : দি আরএমজি টাইমস

এ বিষয়ে কথা বলতে চাইলে ভারত থেকে আগত এক প্রশিক্ষণার্থী বলেন, “ভারতেও এমন ট্রেনিং নিয়মিত হচ্ছে তারপরেও আমি বাংলাদেশে এসেছি এই ট্রেনিং করার জন্য তাঁর একমাত্র কারণ হল এই কোর্সের প্রশিক্ষক যার সমন্ধে আমি অনলাইনের মাধ্যমে আগে থেকেই অনেক কিছু জানতে পেরেছিলাম। মি. আব্দুল আলিম  অসাধারণ একজন প্রশিক্ষক।”

প্রশিক্ষক আব্দুল আলিম তাঁর অনুভুতিতে বলেন, “আমার কাছে প্রতিটি প্রশিক্ষণে নতুন নতুন অংশগ্রহণকারীদের অংশগ্রহণ আমাকে তথা বাংলাদেশকে সমৃদ্ধ করছে । বাংলাদেশী নাগরিক হিসেবে এ পর্যন্ত আমি ৩০ টি দেশের অডিটরদের প্রশিক্ষণ দিয়েছি যা আমার জন্য ভীষণ ভালো লাগার এক অভিজ্ঞতা”।

মি. আলিম পোশাক খাতে বাংলাদেশের অগ্রগতির সামনে নানা ধরনের দৃশ্যমান ও অদৃশ্য বাঁধা আছে বলে মন্তব্য করেন। বাংলাদেশের মানবসম্পদ উন্নয়নে  দেশের মানুষ আগে থেকে সচেতন থাকলে দেশ আরও অনেক দূর চলে যেত বলেও মন্তব্য করেন। বাংলাদেশে অনেক মেধাবী ট্রেইনার থাকলেও তাদেরকে সুযোগ না দিয়ে আশেপাশের দেশ থেকে প্রশিক্ষক নিয়ে আসা হচ্ছে, যেমন বাংলাদেশের মেধাবীদের পদোন্নতি না দিয়ে পোশাক কারখানাগুলি অধিক বেতনে বিদেশী কর্মকর্তা নিয়োগ দিচ্ছেন বলে উল্লেখ করেন।

তিনি সকলকে বাংলাদেশের মানব সম্পদ উন্নয়নে যার যার অবস্থান থেকে ভুমিকা রাখার আহবান জানান।

মন্তব্য লিখুন

এই বিভাগের আরও খবর

Find us on Facebook