ঢাকা, আজ বৃহস্পতিবার, ৬ই আশ্বিন, ১৪২৪ বঙ্গাব্দ, এখন রাত ১০:০৩

আমেরিকার প্রেসিডেন্ট নির্বাচন ও আমাদের জিএসপি ভাবনা

আব্দুল আলিম : যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট নির্বাচন আর একদিন পরেই। মঙ্গলবার ভোট গ্রহণ।  ডেমোক্রেটিক পার্টির প্রার্থী হিলারি ক্লিনটনের সঙ্গে রিপাবলিকান পার্টির প্রার্থী ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রতিদ্বন্দ্বিতা শেষ মুহূর্তে ব্যাপক জমে উঠেছে। পরপর তিনটি প্রেসিডিন্সিয়াল বিতর্কে ডোনাল্ড ট্রাম্পকে এক প্রকার উড়িয়ে দিয়ে হোয়াইট হাউজের পথ অনেকটাই সহজ করে তুলেছিলেন হিলারি ক্লিনটন। কিন্তু নির্বাচনের একেবারে আগ মুহূর্তে হিলারির ইমেইল নিয়ে এফবিআই এর তদন্তের ঘোষণার পর থেকে চিত্র পাল্টাতে থাকে। প্রতিদিনই নির্বাচনের হিসাব পাল্টাতে থাকে। এই মুহূর্তে দুনিয়ার সবচেয়ে প্রভাবশালী প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের দৌড়ে তীব্র প্রতিদ্বন্দ্বিতার আভাস পাওয়া যাচ্ছে।

file

সারা বিশ্ব যেভাবেই দেখুক এই নির্বাচনকে, আমাদের দেশের মানুষের চিন্তাধারা জুড়ে রয়েছে কে প্রেসিডেন্ট হলে বাংলাদেশের কি লাভ বা ক্ষতি হবে? ইতিমধ্যে নানা জল্পনা কল্পনা শুরু হয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের আসন্ন নির্বাচন নিয়ে। কেউ কেউ মনে করছেন ডঃ ইউনুসের ঘনিষ্ঠ হিলারি প্রেসিডেন্ট হলে চাপে পড়তে পারেন বর্তমান সরকার, বঞ্চিত হতে পারে বাংলাদেশ। তবে এমনটা মনে করেন না আন্তর্জাতিক রাজনীতির সচেতন মহল। তারা মনে করেন ব্যক্তিগত সম্পর্ক কখনই একটি দেশের সাথে আরেকটি দেশের কূটনৈতিক সম্পর্কের ভিত্তি হতে পারে না। আর যদি সেটাকে কিছুটা গুরুত্ব দেওয়াই হয় তবু কি ডঃ ইউনুস বাংলাদেশের খারাপ চাইবেন নাকি সম্পর্ককে কাজে লাগিয়ে দেশের স্বার্থ রক্ষা করবেন? অন্যদিকে মার্কিন প্রেসিডেন্টকে যতটুকু ক্ষমতাবান মনে করা হয় আসলেই কি কার্যত যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট এককভাবে দেশের যেকোন পলিসিগত সিদ্ধান্ত নেওয়ার মত ক্ষমতাবান? যারা যুক্তরাষ্ট্রের ব্যাল্যান্স অব পাওয়ার সমন্ধে আইডিয়া আছে তারা নিশ্চয়ই বলবেন যে প্রেসিডেন্ট একা এতো বেশি শক্তিধর নন কারন তিনি আইন প্রণেতা নন।

পোশাক খাতের সংশ্লিষ্ট সকলের মাথায় ঘুরে ফিরে একটিই প্রশ্ন, কে প্রেসিডেন্ট হলে বাংলাদেশের পোশাক খাতের জন্য আমেরিকার বাজারে হারানো জিএসপি ফিরে পাবে। তবে প্রেসিডেন্ট যেই হোন না কেন তাতে আমেরিকার কূটনৈতিক নীতিমালার কমই নড়চড় হবে বলে বিশেষজ্ঞরা মনে করেন। অনেকের মতে গত কয়েক বছরে আমেরিকার প্রায়োরিটি তালিকায় বাংলাদেশ ছিল না তাতে বাংলাদেশ অনেক পিছিয়ে যেমন পড়েনি আগামী দিনেও যেই প্রেসিডেন্ট হোক তাঁর সরকারের সাথে দরকষাকষি করে বাংলাদেশের স্বার্থ রক্ষার দিকেই মনযোগী হতে হবে বাংলাদেশকে। জিএসপি আদায়ে চেষ্টা চালিয়ে যেতে হবে ইতিবাচকভাবে।

লেখক : সম্পাদক ও প্রকাশক, দি আরএমজি টাইমস

মন্তব্য লিখুন

এই বিভাগের আরও খবর

Find us on Facebook