ঢাকা, আজ বুধবার, ৫ই আশ্বিন, ১৪২৪ বঙ্গাব্দ, এখন রাত ১২:৪৬

আরও ১১ পোশাক কারখানাকে বাদ দিল-অ্যাকর্ড অ্যালায়েন্স

নিজস্ব প্রতিবেদক : সংস্কার কার্যক্রমে দৃশ্যমান অগ্রগতি দেখাতে ব্যর্থতার অভিযোগে আরও ১১ কারখানার সঙ্গে সব ধরনের বাণিজ্যিক সম্পর্ক ছিন্ন করেছে বাংলাদেশের পোশাক খাতের সংস্কারবিষয়ক দুই ক্রেতা জোট ইউরোপের অ্যাকর্ড অন ফায়ার অ্যান্ড বিল্ডিং সেফটি ইন বাংলাদেশ এবং উত্তর আমেরিকা অ্যালায়েন্স ফর বাংলাদেশ ওয়ার্কার সেফটি। প্রাথমিক পরিদর্শনের পর সংস্কার কাজ শুরু হওয়ার পর এ নিয়ে দুই জোটের সঙ্গে সম্পর্ক ছিন্ন কারখানার সংখ্যা দাঁড়াল ১৪৫টিতে। সবচেয়ে বেশি ১০৪টি কারখানার সঙ্গে সম্পর্ক ছিন্ন করেছে অ্যালায়েন্স। অ্যাকর্ড সম্পর্ক ছিন্ন করেছে বাকি কারখানাগুলো সঙ্গে। এসব কারখানা দুই জোটের কোনো ক্রেতার রফতানি আদেশ পাবে না। অর্থাৎ, কার্যত এসব কারখানা বন্ধ হয়ে যাবে।

accordalliance

সর্বশেষ গত ১২ অক্টোবর অ্যালায়েন্সের তালিকা থেকে বাদ পড়া কারখানাগুলো হচ্ছে- রাজধানীর গেণ্ডারিয়ার সজীব ফ্যাশন ওয়্যার, গাজীপুরের কাশিমপুরের ডানা সোয়েটার, আশুলিয়ার উসিউ ফ্যাশন, টঙ্গীর স্টোফাটেক্সট ফ্যাশনস, আশুলিয়ার উচিও ফ্যাশন। বাদ পড়া চট্টগ্রামের কারখানাগুলো হচ্ছে- কর্ণফুলী ইপিজেডের লিজেন্ড টেক্সটাইল, ট্রেনডেক্স ও এইচএসএস রোডের বনলতা গার্মেন্ট। উক্ত সাতটি কারখানার মধ্যে ৫ টি কারখানা তালাবদ্ধ বহির্গমন পথ অপসারণে ব্যর্থ হয়েছিলো ।

অন্যদিকে, অ্যাকর্ডের তালিকা থেকে বাদ পড়া চার কারখানা হলো_ আশুলিয়ার হ্যান অ্যান্ড হ্যাটস ক্যাপস, টঙ্গীর ক্যানটো এশিয়া, গাজীপুরের সুরাবাড়ির ড্যানিস নিট ওয়্যার ও আশুলিয়ার হ্যানওয়েন লিমিটেড।

বাংলাদেশে নিযুক্ত সাবেক মার্কিন রাষ্ট্রদুত ও অ্যালায়েন্সের বাংলাদেশীয় পরিচালক জিম মরিয়ার্টি এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে বলেছেন, “অ্যালায়েন্স-অধিভূক্ত কারখানারগুলোর শ্রমিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণকে আমরা সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার প্রদান করে থাকি। অ্যালায়েন্স-নিরাপত্তা মানদন্ড অর্জনের জন্য প্রয়োজনীয় সংস্কার কাজে অনিচ্ছুক অথবা সংস্কার কাজে অগ্রগতি প্রদর্শনে ব্যর্থ হওয়া কারখানাগুলোকে অ্যালায়েন্স-কমপ্লায়েন্ট তালিকা থেকে বাদ দেয়া হবে, শুধুমাত্র কিছু ব্যতিক্রম ছাড়া।

বিজ্ঞপ্তিতে অ্যালায়েন্স এর সংস্কার কাজের অগ্রগতি সম্পর্কে বলা হয়েছে, পাঁচ বছরের উদ্যোগের এই তৃতীয় বছরে, অ্যালায়েন্স তার সক্রিয় কারখানাগুলোতে সমস্ত গুরুতর নিরাপত্তা সমস্যার সংস্কার কাজ ২০১৮ সালের ভেতর সম্পন্ন করার পথে রয়েছে । আজ পর্যন্ত, অ্যালায়েন্স কারখানাগুলোতে সমস্ত নিরাপত্তা সমস্যার ৬৩% মেরামত কাজ সম্পন্ন হয়েছে এবং ৪০টি কারখানা তাদের সংশোধনী কর্মপরিকল্পনায় উল্লেখিত প্রয়োজনীয় সমস্ত মেরামত কাজ সম্পন্ন করেছে ।

এদিকে সংস্কারে ব্যর্থ কারখানার নাম, তালিকাসহ তথ্য জনসমক্ষে প্রকাশ না করতে বিজিএমইএর অনুরোধ না রাখায় অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন সংগঠনের নেতারা। বিজিএমইএর সহসভাপতি মাহমুদ হাসান খান বাবু বলেন, দুই জোটের সঙ্গে একাধিক বৈঠকে এ বিষয়ে বিজিএমইএর পক্ষ থেকে অনুরোধ জানানো হয়েছে। জোটের প্রতিনিধিরা বিষয়টি ভেবে দেখবেন বলে তাদের আশ্বাস দিলেও তারা কথা রাখছে না।

মন্তব্য লিখুন

এই বিভাগের আরও খবর

Find us on Facebook